৫ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::
শানে নুযূল:
উক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে অনেক মতামত পাওয়া যায়। তবে সহীহ বুখারীর বর্ণনানুপাতে সেই সকল মুসলিমদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যারা লজ্জার খাতিরে পেশাব-পায়খানার সময় এবং স্ত্রী-সহবাসের সময় উলঙ্গ হওয়াকে অপছন্দ করত; এই ভেবে যে, আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দেখছেন। ফলে তারা এই সময় লজ্জাস্থান আবৃত করার নিমিত্তে নিজেদের বক্ষদেশকে ঘুরিয়ে দিত। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৮১)
আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াতে বর্ণনা করছেন যে, রাতের অন্ধকারে যখন তারা বিছানাতে নিজেদেরকে কাপড় দ্বারা আচ্ছাদিত করে, তখনও তিনি তাদেরকে দেখেন ও তাদের চুপে চুপে ও প্রকাশ্যে আলাপনকেও তিনি জানেন। অর্থাৎ তাঁর নিকট কোন কিছু গোপন থাকে না। তোমাদের প্রকাশ্য বিষয়টা যেমন গোপনটাও ঠিক তেমনি। অর্থাৎ তিনি প্রকাশ্য বিষয় যেমন জানেন, গোপন বিষয়ও তেমন জানেন। উদ্দেশ্য হল লজ্জা-শরম আপন জায়গায় ঠিক আছে, কিন্ত তাতে এত বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। কারণ যে সত্তার কারণে তারা এরূপ করে, তাঁর নিকট তা গুপ্ত নয়। যেমন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِھ۪ نَفْسُھ۫ﺊ وَنَحْنُ اَقْرَبُ اِلَیْھِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِیْدِﭟ)
“আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার অন্তর তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তা আমি জানি। আমি তার ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষাও নিকটতর।” (সূরা ক্বফ ৫০:১৬)
শুধু তাই নয় আল্লাহ তা‘আলা মানুষের গোপন বিষয় তো জানেনই এমনকি মানুষ অন্তরে কী চিন্তা-ভাবনা করে তাও তিনি জানেন। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা থেকে আমাদের কোন কিছু গোপন করার সুযোগ নেই।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল বিষয় সম্পর্কে জানেন।
২. আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে মুশরিকদের সঠিক জ্ঞান নেই।
৩. লজ্জা-শরম একটি ভূষণ, তাই তা সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা উচিত।