৬৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
কাফির-মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখে না তাই তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শরীক করে থাকে। মূলত আল্লাহ তা‘আলার চেয়ে বড় মর্যাদাবান, রাজত্বের অধিকারী এবং ক্ষমতাবান আর কেউ নেই। তাঁর ক্ষমতা এমন যে, কিয়ামতের মাঠে তিনি সমস্ত পৃথিবীকে তাঁর হাতের মুষ্টিতে নিয়ে নেবেন এবং আকাশসমূহকে ভাঁজ করে ডান হাতে নিয়ে নেবেন।
যেমন হাদীসে বলা হয়েছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী পণ্ডিত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল : হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরা (কিতাবে) পাই যে, আল্লাহ তা‘আলা আকাশসমূহকে এক আঙ্গুলে, জমিনসমূহকে এক আঙ্গুলে, গাছ-পালাকে এক আঙ্গুলে, পানি ও স্থলকে এক আঙ্গুলে এবং অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টিজীবকে এক আঙ্গুলে রাখবেন এবং বলবেন : আমিই বাদশা। তখন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথার সত্যতা প্রমাণে মুচকি হাসলেন এবং এ আয়াতটি পাঠ করলেন। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮১১, সহীহ মুসলিম হা. ২৭৮৬)
অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন : আল্লাহ তা‘আলা জমিনকে কবজ করে নেবেন এবং আকাশসমূহকে ডান হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে বলবেন : আমিই বাদশা। জমিনের বাদশারা কোথায়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮১২, সহীহ মুসলিম হা. ২৭৮৭) সুতরাং আল্লাহ তা‘আলাই সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাবান। কাফির-মুশরিকরা তাঁর মর্যাদার ব্যাপারে কোনই জ্ঞান রাখে না, তাই তারা তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। যদি তারা আল্লাহ তা‘আলার যথাযথ মর্যাদার কথা বুঝত তাহলে তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করত না। বরং তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন করত।
مَطْوِيّٰتٌ শব্দের অর্থ হলো পেঁচিয়ে, গুটিয়ে কোন জিনিসকে ভাঁজ করে নেয়া।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলাকে যথার্থ মর্যাদা দেয়া আবশ্যক ।
২. আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন আকাশ জমিনকে ভাঁজ করে হাতে নেবেন।
৩. আল্লাহ তা‘আলার হাত আছে এটা জানা গেল, কিন্তু কেমন তা জানা যায়না তবে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তাঁর জন্য মানানসই হাত রয়েছে।