৪১ নং আয়াতের তাফসীরঃ
এ আয়াতে গনীমতের মাল বণ্টন পদ্ধতির বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। গনীমত ও ফাঈ এর মধ্যে ফকিহগণ পার্থক্য করেছেন। এখানে গনীমতের সম্পদ বণ্টন পদ্ধতি উল্লেখ করা হল। ফাঈ এর আলোচনা সূরা হাশরে আসবে- ইনশা-আল্লাহ।
গনীমত হল যা শত্রুদের থেকে যুদ্ধ শেষে প্রাপ্ত হয়। এ সম্পদ পাঁচভাগে ভাগ করা হবে। চার ভাগ মুজাহিদদের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করে দিতে হবে। তাতে পদাতিক বাহিনীকে একভাগ আর অশ্বারোহী বাহিনীকে তিন ভাগ দিতে হবে। একভাগ তার, আর দুইভাগ ঘোড়ার।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘোড়ার দুই অংশ ও মালিকের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৬৩)
আর পাঁচভাগের একভাগ আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্য। এ এক ভাগকে আবার পাঁচভাগে ভাগ করা হবে।
প্রথমভাগ আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্য। এ সম্পদ মুসলিমদের কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা হবে।
দ্বিতীয়ভাগ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকটাত্মীয়দের জন্য। তারা হল বানী হাশেম ও বানী মুত্তালিব। যাদের জন্য যাকাতের মাল হারাম।
তৃতীয়ভাগ ইয়াতীমদের জন্য। চতুর্থভাগ মিসকিনদের জন্য যারা গরীব দুঃখী অসহায়।
পঞ্চমভাগ: পথিকদের জন্য। একথাই নাবী (সাঃ) বলেছেন: একপঞ্চমাংশ তোমাদের মধ্যে ফেরত দেয়া হবে। (সহীহ নাসাঈ হা: ৪১৪৯, সহীহ।)
(يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَي الْجَمْعَانِ)
‘মীমাংসার দিনে, যেদিন উভয় সেনা দল মুখোমুখি হয়েছিল’“ফায়সালার দিন”বলতে হক বাতিলের মাঝে চূড়ান্ত ফায়সালার দিন, আর সে দিন হল বদর যুদ্ধের দিন। কারণ মুসলিম ও কাফিরদের মাঝে এটাই প্রথম ধর্মযুদ্ধ যাতে ইসলাম বিজয়ী হয়েছিল এবং ইসলাম ও কুফরীর মাঝে প্রকাশ্যে ফায়সালা হয়ে গিয়েছিল।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. গনীমতের সম্পদ বণ্টন নীতি জানলাম।
২. বদরের দিনকে ফায়সালার দিন বলার কারণ অবগত হলাম।