Sign in
Sign in
Sign in
Select Language

Tafsir: Al-Hadid 57:24

57:24
الذين يبخلون ويامرون الناس بالبخل ومن يتول فان الله هو الغني الحميد ٢٤
ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبُخْلِ ۗ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ٢٤
ٱلَّذِينَ
يَبۡخَلُونَ
وَيَأۡمُرُونَ
ٱلنَّاسَ
بِٱلۡبُخۡلِۗ
وَمَن
يَتَوَلَّ
فَإِنَّ
ٱللَّهَ
هُوَ
ٱلۡغَنِيُّ
ٱلۡحَمِيدُ
٢٤
those who are stingy and promote stinginess among people. And whoever turns away ˹should know that˺ Allah ˹alone˺ is truly the Self-Sufficient, Praiseworthy.
Tafsirs
Layers
Lessons
Reflections
Answers
Qira'at
Hadith
You are reading a tafsir for the group of verses 57:22 to 57:24

২২-২৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতার খবর দিচ্ছেন যে, তিনি মাখলুকাতকে সৃষ্টি করার পূর্বেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। তিনি বলেন যে, ভূ-পৃষ্ঠের যে অংশে কোন বিপর্যয় আসে অথবা ব্যক্তিগতভাবে কারো উপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তার এই বিশ্বাস রাখা উচিত যে, ওটার হওয়া নিশ্চিতই ছিল। কেউ কেউ বলেন যে, প্রাণসমূহ সৃষ্টি করার পূর্বেই ওদের ভাগ্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সঠিকতম কথা এটাই যে, মাখলুককে সৃষ্টি করার পূর্বেই তাদের ভাগ্য নির্ধারিত ছিল।ইমাম হাসান (রাঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ “সুবহানাল্লাহ! প্রত্যেক বিপদ বিপর্যয় যা আসমান ও যমীনে আপতিত হয় তা প্রাণসমূহের সৃষ্টির পূর্বেই মহান প্রতিপালকের কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং এতে সন্দেহের কি আছে?” যমীনের মসীবত হলো অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিপদ হলো দুঃখ, কষ্ট, রোগ ইত্যাদি। যে কাউকেও কোন আঁচড় লাগে বা পা পিছলিয়ে পড়ে কোন আঘাত লাগে কিংবা কোন কঠিন পরিশ্রমের কারণে ঘর্ম নির্গত হয়, এসবই তার গুনাহর কারণেই হয়ে থাকে। আরো তো বহু গুনাহ রয়েছে যেগুলো গাফুরুর রাহীম আল্লাহ ক্ষমা করেই দেন। কাদরিয়া সম্প্রদায়ের মত খণ্ডনে এই আয়াত একটি বড় দলীল। তাদের ধারণা এই যে, পূর্ব অবগতি কোন জিনিসই নয়। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে লাঞ্ছিত করুন!সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা যমীন ও আসমান সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার পূর্বে তকদীর নির্ধারণ করেন। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, তাঁর আরশ পানির উপর ছিল। (এটা ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ কার্য অস্তিত্বে আসার পূর্বে ওটা জেনে নেয়া, ওটা হওয়ার জ্ঞান লাভ করা এবং ওটাকে লিপিবদ্ধ করা আল্লাহ তা'আলার নিকট মমাটেই কঠিন নয়। তিনিই তো ওগুলোর সৃষ্টিকর্তা। যা কিছু হয়ে গেছে এবং যা কিছু হবে, তার সীমাহীন জ্ঞান সবই অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তোমাদেরকে এ খবর এজন্যেই দিলাম যে, তোমাদের উপর যে বিপদ আপদ আপতিত হয় তা কখনো টলবার ছিল না এ বিশ্বাস যেন তোমাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে যায়। সুতরাং বিপদের সময় যেন তোমাদের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা, স্থিরতা এবং রূহানী শক্তি বিদ্যমান থাকে। তোমরা যেন হায়, হায়, হা-হুতাশ না কর এবং অধৈর্য না হয়ে পড়। তোমরা যেন নিশ্চিন্ত থাকে যে, এ বিপদ আসারই ছিল। অনুরূপভাবে যদি তোমরা ধন-সম্পদের বিজয় ইত্যাদি অযাচিতভাবে লাভ কর তবে যেন অহংকারে ফেটে না পড়। এমন যেন না হও যে, ধন-মাল পেয়ে আল্লাহকে ভুলে বস। এই সময়েও তোমাদের সামনে আমার শিক্ষা থাকবে যে, তোমাদেরকে ধন-মালের মালিক করে দেয়া আমারই হাতে, এতে তোমাদের কোনই কৃতিত্ব নেই। একটি কিরআতে (আরবী) আছে এবং আর একটি কিরআতে (আরবী) আছে। দুটোই পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। এ জন্যেই ইরশাদ হচ্ছে, যে ব্যক্তি নিজেকে বড় মনে করে এবং অন্যের উপর গর্ব প্রকাশ করে সে আল্লাহর শত্রু। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “অশান্তি ও শান্তি এবং আনন্দ ও নিরানন্দ সব মানুষের উপরই আসে। আনন্দকে কৃতজ্ঞতায় এবং দুঃখকে ধৈর্যধারণে কাটিয়ে দাও।” মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এ লোকগুলো নিজেরাও কৃপণ ও শরীয়ত বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকে এবং অন্যদেরকেও কার্পণ্য ও শরীয়ত বিরোধী কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে তার কোনই ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। কেননা তিনি সমস্ত মাখলূক হতে অভাবমুক্ত ও বেপরোয়া। তিনি তো প্রশংসাৰ্হ। যেমন হযরত মূসা (আঃ) বলেছিলেনঃ (আরবী)অর্থাৎ “যদি তোমরা কুফরী কর এবং সারা বিশ্বের মানুষও কাফির হয়ে যার (তবুও আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না), সে জেনে রাখুক যে, আল্লাহ তো অভাবমুক্ত ও প্রশংসার্হ।” (১৪:৮)