وارد شوید
وارد شوید
وارد شوید
انتخاب زبان

تفسیر: Al-Ma'idah ۴۹:۵

۴۹:۵
وان احكم بينهم بما انزل الله ولا تتبع اهواءهم واحذرهم ان يفتنوك عن بعض ما انزل الله اليك فان تولوا فاعلم انما يريد الله ان يصيبهم ببعض ذنوبهم وان كثيرا من الناس لفاسقون ٤٩
وَأَنِ ٱحْكُم بَيْنَهُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَهُمْ وَٱحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَنۢ بَعْضِ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَٱعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلنَّاسِ لَفَـٰسِقُونَ ٤٩
وَأَنِ
ٱحۡكُم
بَيۡنَهُم
بِمَآ
أَنزَلَ
ٱللَّهُ
وَلَا
تَتَّبِعۡ
أَهۡوَآءَهُمۡ
وَٱحۡذَرۡهُمۡ
أَن
يَفۡتِنُوكَ
عَنۢ
بَعۡضِ
مَآ
أَنزَلَ
ٱللَّهُ
إِلَيۡكَۖ
فَإِن
تَوَلَّوۡاْ
فَٱعۡلَمۡ
أَنَّمَا
يُرِيدُ
ٱللَّهُ
أَن
يُصِيبَهُم
بِبَعۡضِ
ذُنُوبِهِمۡۗ
وَإِنَّ
كَثِيرٗا
مِّنَ
ٱلنَّاسِ
لَفَٰسِقُونَ
٤٩
و [ای پیامبر،] میان آنان [= یهود] بر اساس آنچه الله [در قرآن] نازل کرده است حکم کن و از هوس‌هایشان پیروی مکن و بر حذر باش از اینکه تو را از برخی از آنچه الله بر تو نازل کرده است منحرف کنند؛ پس اگر [از پذیرشِ داوریِ تو] روی گردانند، بدان که الله می‌خواهد آنان را به [خاطر] برخی از گناهانشان مجازات کند؛ و به راستی که بسیاری از مردم نافرمانند.
تفاسیر
لایه‌ها
درس ها
بازتاب ها
پاسخ‌ها
قیراط
حدیث
شما در حال خواندن تفسیری برای گروه آیات 5:48 تا 5:50

৪৮-৫০ নং আয়াতের তাফসীর: তাওরাত ও ইঞ্জীলের প্রশংসা ও গুণাবলী বর্ণনা করার পর এখন কুরআন কারীমের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা হচ্ছে। আল্লাহ পাক বলছেন-আমি এ কুরআনকে হক ও সত্যতার সাথে নাযিল করেছি। নিশ্চিতরূপে এটা এক আল্লাহর পক্ষ হতে এসেছে এবং এটা তাঁরই কালাম বা কথা। এটা পূর্ববর্তী সমুদয় কিতাবের সত্যতা স্বীকার করছে এবং ঐসব কিতাবেও এর প্রশংসা ও গুণাবলী বিদ্যমান রয়েছে। আর ঐ কিতাবগুলোর মধ্যে এ বর্ণনাও রয়েছে যে, এ পবিত্র ও সর্বশেষ কিতাবটি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল (সঃ)-এর উপর অবতীর্ণ হবে। সুতরাং প্রত্যেক জ্ঞানী লোক এর প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং একে মেনে চলে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ইতিপূর্বে যাদেরকে ইলম বা জ্ঞান দান করা হয়েছিল তাদের সামনে যখন এটা পাঠ করা হয় তখন থুতনির ভরে তারা সিজদায় পড়ে যায় এবং মুখে স্বীকারোক্তি করে আমাদের প্রভু মহান ও পবিত্র, আমাদের প্রভুর ওয়াদা সত্য এবং তা সত্যরূপে সাব্যস্ত হয়েই গেছে।” (১৭:১০৭-১০৮)অর্থাৎ তিনি পূর্ববর্তী রাসূলদের মাধ্যমে যেসব সংবাদ দিয়েছিলেন, সবগুলোই সত্যে পরিণত হয়েছে এবং সমস্ত নবীর মাথার মুকুট সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এসেই গেছেন। আর এ কিতাব অর্থাৎ কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর আমানতদার। অর্থাৎ এতে যা কিছু রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে সেগুলোই ছিল। এখন যদি কেউ বিপরীত বলে যে, পূর্ববর্তী অমুক কিতাবে এটা ছিল, তবে সেটা ভুল। এ কুরআন ঐসব কিতাবের সত্যসাক্ষী এবং ঐগুলোকে আবেষ্টনকারী। যেসব মঙ্গলময় ও কল্যাণকর বিষয় ঐ সব কিতাবে মিলিতভাবে ছিল ঐ সমুদয়ই এককভাবে এ সর্বশেষ কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে। এ জন্যেই এটা সবগুলোর উপর হাকিম ও অগ্রগণ্য। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার উপর রয়েছে। যেমন তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এ উপদেশপূর্ণ কিতাব আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই ওর হিফাযতকারী।” (১৫৪৯) কেউ কেউ বলেছেন যে, এর ভাবার্থ এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হচ্ছেন এ কিতাবের উপর আমানতদার। বাস্তবিকপক্ষেতো এ উক্তিটি সঠিক, কিন্তু এ তাফসীর করা ঠিক হয়নি। বরং আরবী ভাষার দিক দিয়ে এটা চিন্তা ও গবেষণার বিষয়। সঠিক তাফসীর প্রথমটিই বটে। ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে এ উক্তিটি নকল করে বলেছেন যে, এটা বহু দূরের কথা, বরং এটা মোটেই ঠিক নয়। কেননা (আরবী) শব্দের (আরবী) বা সংযোগ (আরবী) শব্দের উপর রয়েছে। সুতরাং (আরবী) শব্দটি যার (আরবী) ছিল এটাও ঐ জিনিসেরই (আরবী) বা বিশেষণ হবে। যদি হযরত মুজাহিদ (রঃ)-এর অর্থ সঠিক বলে মেনে নেয়া হয় তবে (আরবী) সংযোগ ছাড়াই হওয়া উচিত ছিল।(আরবী) অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! সুতরাং তুমি এ সবের মধ্যে আল্লাহর নির্দেশাবলী ছড়িয়ে দাও, আরব হোক বা আযম হোক, শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত হোক। আল্লাহর নাযিলকৃত’-এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর অহী। হয় সেটা এ কিতাবের আকারেই হোক, না হয় আল্লাহ তা'আলা যে পূর্ববর্তীআহকাম তার জন্যে নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন সেটাই হোক। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াতের পূর্বে তো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে আল্লাহ তা'আলা তাদের মধ্যে ফায়সালা করা ও না করার অধিকার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এ আয়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহর অহী মোতাবেক ফায়সালা করা জরুরী। তাঁকে বলা হচ্ছে-হে নবী (সঃ)! এ দুর্ভাগা অজ্ঞরা নিজেদের পক্ষ থেকে যে আহকাম তৈরী করে নিয়েছে এবং এর কারণে আল্লাহর কিতাবকে যে পরিবর্তন করে ফেলেছে, কোনক্রমেই তুমি তাদের প্রবৃত্তির পেছনে পড়ে সত্যকে ছেড়ে বসোনা। তাদের প্রত্যেকের জন্যে আমি রাস্তা এবং পন্থা তৈরী করে দিয়েছি। কোন কিছুর সূচনা করাকে (আরবী) বলা হয়। আভিধানিক অর্থে প্রকাশ্য ও সহজ পথকে (আরবী) বলে। সুতরাং এ দু'টি শব্দের এ তাফসীরই বেশী যুক্তিসঙ্গত হবে যে, পূর্ববর্তী সমস্ত শরীয়ত যা আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল তার সবগুলোই তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অবশ্য ছোট খাটো হুকুমের ব্যাপারে কিছুটা পার্থক্য ছিল। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা সব নবীর দল পরস্পরের বৈমাত্রেয় ভাই। আমাদের সবারই দ্বীন এক।” প্রত্যেক নবীকে তাওহীদসহ পাঠানো হতো এবং প্রত্যেক আসমানী কিতাবে তাওহীদের বর্ণনা, ওটাকেই সাব্যস্ত করণ এবং ওরই দিকে আহ্বান থাকতো। যেমন কুরআন কারীমে ঘোষিত হয়েছে- “তোমার পূর্বে আমি যত রাসূলই পাঠিয়েছিলাম তাদের এ অহী করেছিলাম-আমি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর।”অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল পাঠিয়ে এ নির্দেশই দিয়েছিলাম-তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাগুত বা শয়তানের ইবাদত থেকে বিরত থাকবে।” হ্যা, তবে আহকামের বিভিন্নতা অবশ্যই ছিল। কোন একটি জিনিস কোন এক যুগে হারাম ছিল, পরে তা হালাল হয়ে যায়। কিংবা এর বিপরীত, অর্থাৎ কোন যুগে হালাল ছিল, পরে তা হারাম হয়ে যায়। অথবা, কোন এক হুকুম কোন সময় হালাকা ছিল, পরে তা ভারী হয়ে যায়। কিংবা এর বিপরীত। আর এটাও আবার ছিল হিকমত, মুসলিহাত এবং আল্লাহর দলীল প্রমাণের সাথে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যেতে পারে, যেমন তাওরাত একটি শরীয়ত, ইঞ্জীল একটি শরীয়ত এবং কুরআন একটি পৃথক শরীয়ত। এটার কারণ হচ্ছে এই যে, যেন প্রত্যেক যুগের বাধ্য ও অবাধ্য বান্দাদের মধ্যে পরীক্ষা হয়ে যায়। অবশ্য সর্বযুগে তাওহীদ একই রূপ ছিল। আর এই বাক্যের অর্থ হচ্ছে-হে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উম্মত। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে আমার এ কিতাবকে (কুরআনকে) শরীয়ত ও তরীকা বানিয়েছি। তোমাদের সবারই এর অনুকরণ করা উচিত। এ অবস্থায় (আরবী) -এর পরে সর্বনাম উহ্য মেনে নিতে হবে। সুতরাং উত্তম উদ্দেশ্য লাভের মাধ্যম ও পন্থা একমাত্র কুরআন, আর কিছুই নয়। কিন্তু সঠিক উক্তি প্রথমটিই বটে। এর এটাও একটা দলীল যে, এর পরে রয়েছে- “যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তোমাদের সকলকে একই উম্মত করে দিতেন।” অতএব জানা গেল যে, পূর্ব সম্বোধন শুধু এ উম্মতকেই নয়, বরং এর সম্বোধন হচ্ছে সকল উম্মতের প্রতিই। আর এতে আল্লাহ তা'আলার খুব বড় ও পূর্ণ ক্ষমতার বর্ণনা রয়েছে যে, যদি তিনি চাইতেন তবে সমস্ত লোককে একই শরীয়ত ও একই দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত করতেন, কোন সময়ও কোন প্রকার পরিবর্তন আসতো না। কিন্তু মহান প্রভুর পরিপূর্ণ হিকমত ও কলাকৌশলের চাহিদা এই যে, তিনি পৃথক শরীয়ত নির্ধারণ করবেন, একের পর অন্য নবী প্রেরণ করবেন, কোন নবীর হুকুমকে পরবর্তী নবীর মাধ্যমে বদলিয়ে দেবেন। শেষ পর্যন্ত হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ)-এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সমস্ত দ্বীন মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। তাকে সারা বিশ্বের জন্যে সর্বশেষ নবী করে পাঠানো হয়। ঘোষিত হচ্ছে-এ বিভিন্ন শরীয়ত দেয়া হয়েছে শুধু তোমাদের পরীক্ষার জন্যে, যেন তিনি তোমাদের বাধ্য ও অনুগত লোকদেরকে পুরস্কার এবং অবাধ্য লোকদেরকে শাস্তি দেন। এটাও বলা হয়েছে যে, তিনি যেন ঐ জিনিস দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন যা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ কিতাব। অতএব, তোমাদের উচিত মঙ্গল ও পুণ্যের দিকে দৌড়িয়ে যাওয়া, আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করা, তাঁর শরীয়ত মেনে চলতে আগ্রহী হওয়া এবং সর্বশেষ কিতাব এবং সর্বশেষ নবী (সঃ)-এর মনে প্রাণে আনুগত্য করা। হে লোক সকল! তোমাদের সকলেরই প্রত্যাবর্তন ও আশ্রয়স্থল আল্লাহরই কাছে। সেখানে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মতভেদের মধ্যে প্রকৃত মত সম্পর্কে অবহিত করবেন। সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিতদের তিনি পুরস্কৃত করবেন এবং মিথ্যা ও বাতিলের উপর প্রতিষ্ঠিত, বিরুদ্ধবাদী ও প্রবৃত্তিপূজারীদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। যারা হককে মানা তো দূরের কথা, বরং হকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যহহাক (রঃ) বলেন। যে, এর দ্বারা উম্মতে মুহাম্মাদিয়াকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু প্রথমটিই উত্তম। অতঃপর প্রথম কথার প্রতি আরও গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে এবং ওর বিপরীত থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে-হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি যেন এ বিশ্বাসঘাতক, চক্রান্তকারী, মিথ্যাবাদী, কাফির ইয়াহূদীর কথার ফাঁদে পড়ে আল্লাহর কোন হুকুম থেকে এদিক ওদিক চলে না যাও। যদি তারা তোমার হুকুম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং শরীয়ত বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে তবে জেনে রেখো যে, তাদের কলংকময় কার্যাবলীর কারণে তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি অবশ্যই নেমে আসবে। এজন্যই ভাল কাজের তাওফীক তাদের থেকে , ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। অধিকাংশ লোকই হচ্ছে ফাসেক অর্থাৎ হকের আনুগত্য হতে বাইরে, আল্লাহর দ্বীনের বিরোধী এবং হিদায়াত হতে দূরে। যেমন এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেছেন- (আরবী) অর্থাৎ “তুমি লোভ করে চাইলেও অধিকাংশ লোক মুমিন নয়।”(১২:১০৩) অন্য এক জায়গায় তিনি বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ “তুমি যদি পৃথিবীবাসীর অধিকাংশের কথা মেনে চল তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করবে।” (৬:১১৭)ইয়াহূদীদের কয়েকজন বড় বড় নেতা এবং আলেম আপোষে এক মিটিং করে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট হাযির হয় এবং বলেঃ “আপনি জানেন যে, আমরা যদি আপনাকে মেনে নেই তবে সমস্ত ইয়াহূদী আপনার নবুওয়াতকে স্বীকার করে নেবে। আর আমরা আপনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। আপনি শুধু এটুকু করেন যে, আমাদের মধ্যে এবং আমাদের কওমের মধ্যে একটা বিবাদ আছে, আপনি আমাদের মতানুযায়ী এর মীমাংসা করে দিন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) ওটা অস্বীকার করলেন। ঐ সম্পর্কেই এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। এরপর মহান আল্লাহ ঐ লোকগুলো কথার প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়ে বলছেনঃ যারা আল্লাহর এমন হুকুম থেকে দূরে সরে থাকে যার মধ্যে সমস্ত মঙ্গল বিদ্যমান রয়েছে এবং সমস্ত অমঙ্গল দূরে আছে, এরূপ পবিত্র হুকুম থেকে সরে গিয়ে কিয়াসের দিকে, কু-প্রবৃত্তির দিকে এবং ঐসব হুকুমের দিকে ঝুঁকে পড়ে যা লোকেরা কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের পক্ষ থেকে বানিয়ে নিয়েছে। যেমন আহলে জাহেলিয়াত ও আহলে দলালাত (গুমরাহ সম্প্রদায়) নিজেদের মত ও মর্জি মোতাবেক হুকুম আহকাম জারী করতে এবং যেমন তাতারীগণ রাষ্ট্রীয়। কাজ কারবারে চেঙ্গিজ খানি হুকুমের অনুসরণ করতো, যা আল-ইয়াসিক তৈরী করে দিয়েছিল। ওটা ছিল বহু সম্মিলিত আহকামের দফতর, যা বিভিন্ন শ্রীয়ত ও মাযহাব হতে হেঁটে নেয়া হয়েছিল। ওটা ছিল ইয়াহূদিয়াত, নাসরানিয়াত, ইসলামিয়াত ইত্যাদি সমস্ত আহকামের সমষ্টি, আবার তাতে এমনও কতক আহকাম ছিল যা শুধুমাত্র জ্ঞান, মত ও সূক্ষ্ম চিন্তা দ্বারা আবিষ্কার করা হয়েছিল এবং যার মধ্যে প্রবৃত্তিরও সংযোগ ছিল। সুতরাং ঐ সমষ্টিই তাদের সন্তানদের নিকট আমলের যোগ্য বিবেচিত হতো এবং ওকেই তারা কিতাব ও সুন্নাতের উপর প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার দিয়ে দিলো। প্রকৃতপক্ষে এরূপ কার্য সম্পাদনকারীরা কাফির এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ওয়াজিব। যে পর্যন্ত তারা ঐসব ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন না করে এবং যে কোন ছোট, বড়, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ ব্যাপারে কিতাব ও সুন্নাত ছাড়া অন্য কোন হুকুম গ্রহণ না করে। তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ তবে কি তারা অজ্ঞানতার যুগের মীমাংসা কামনা করে? দৃঢ় বিশ্বাসীদের কাছে মীমাংসা কার্যে আল্লাহর চেয়ে উত্তম কে হবে? আল্লাহ তা'আলা ছাড়া আর কারও হুকুম বেশী ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক হতে পারে না। ঈমানদার ও পূর্ণ বিশ্বাসীগণ খুব ভাল করেই জানে যে, এ আহকামুল হাকিমীন, আরহামুর রাহিমীনের চেয়ে বেশী উত্তম, স্বচ্ছ, সহজ ও পবিত্র আহকাম, মাসায়েল এবং কাওয়ায়েদ আর কারও হতে পারে না। মা তার ছেলের প্রতি যতটা পরবশ হতে পারে তার চেয়েও বেশী তিনি তাঁর সৃষ্টজীবের উপর মেহেরবান ও দয়ালু। তিনি পরিপূর্ণ জ্ঞান, বিরাট শক্তি এবং ন্যায় ও ইনসাফের অধিকারী। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালা ছাড়া কোন ফতওয়া দেয় ওটাকে জাহেলিয়াতের হুকুম বলা হবে। হযরত তাউস (রঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ “আমি কি আমার সন্তানদের কাউকে বেশী এবং কাউকে কম দিতে পারি?” তখন তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন। তিবরানী (রঃ)-এর হাদীস গ্রন্থে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ঐ ব্যক্তি আল্লাহর সবেচেয়ে বড় শত্রু যে ইসলামে অজ্ঞতা যুগের নিয়ম-কানুন ও চাল-চলন অনুসন্ধান করে এবং বিনা কারণে কাউকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এ হাদীসটি সহীহ বুখারীতেও রয়েছে এবং তাতে কিছুটা বেশী আছে।