وارد شوید
وارد شوید
وارد شوید
انتخاب زبان

تفسیر: An-Nisa ۱۷:۴

۱۷:۴
انما التوبة على الله للذين يعملون السوء بجهالة ثم يتوبون من قريب فاولايك يتوب الله عليهم وكان الله عليما حكيما ١٧
إِنَّمَا ٱلتَّوْبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَـٰلَةٍۢ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍۢ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ١٧
إِنَّمَا
ٱلتَّوۡبَةُ
عَلَى
ٱللَّهِ
لِلَّذِينَ
يَعۡمَلُونَ
ٱلسُّوٓءَ
بِجَهَٰلَةٖ
ثُمَّ
يَتُوبُونَ
مِن
قَرِيبٖ
فَأُوْلَٰٓئِكَ
يَتُوبُ
ٱللَّهُ
عَلَيۡهِمۡۗ
وَكَانَ
ٱللَّهُ
عَلِيمًا
حَكِيمٗا
١٧
[پذیرش] توبه از سوی الله، تنها برای کسانی است که از روی نادانی [و سفاهت] کار ناشایستی انجام می‌دهند، آنگاه به زودی [و پیش از فرارسیدنِ مرگ] توبه می‌کنند. اینانند که الله توبه‌شان را می‌پذیرد و الله دانای حکیم است.
تفاسیر
لایه‌ها
درس ها
بازتاب ها
پاسخ‌ها
قیراط
حدیث
شما در حال خواندن تفسیری برای گروه آیات 4:17 تا 4:18

১৭-১৮ নং আয়াতের তাফসীর: ভাবার্থ এই যে, মহান আল্লাহ তাঁর ঐ বান্দাদের তাওবা কবূল করে থাকেন যারা অজ্ঞানতা বশতঃ কোন খারাপ কাজ করে বসে, অতঃপর তাওবা করে, যদিও এ তাওবা মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখার পরেও গড়গড়ার পূর্বে হয়। হযরত মুজাহিদ (রঃ) প্রভৃতি মনীষী বলেন, ইচ্ছেপূর্বকই হোক আর ভুল বশতঃই হোক যে কেউই আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয় সেই অজ্ঞ, যে পর্যন্ত না সে তা হতে বিরত হয়। হযরত আবুল আলিয়া (রঃ) বলেনঃ সাহাবা-ই-কিরাম বলতেন, বান্দা যে পাপ করে তা অজ্ঞতা বশতঃই করে। হযরত কাতাদাও (রঃ) সাহাবীদের একটি দল হতে অনুরূপ বর্ণনা দিয়েছেন। হযরত আতা (রঃ) এবং হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত আছে। অবিলম্বে তাওবা করে নেয়ার তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে যে, মরণের ফেরেশতাকে দেখে নেয়ার পূর্বে মৃত্যু যন্ত্রণার সময়কে অবিলম্বে বলা হয়েছে। সুস্থ থাকার সময় তাওবা করা উচিত। গড়গড়ার সময়ের পূর্বে তাওবা করলে সেই তাওবা গৃহীত হয়ে থাকে। হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, দুনিয়ার সমস্তই নিকটেই বটে। এ সম্পর্কে বহু হাদীস রয়েছে।(১) রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের তাওবা ককূল করে থাকেন যে পর্যন্ত না গড়গড়া উপস্থিত হয়।' (জামেউত্ তিরমিযী) ইমাম তিরমিযী (রঃ) বলেন যে, এ হাদীসটি হাসান গারীব।(২) হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি ও যে কোন বান্দা তার মৃত্যুর এক মাস পূর্বেও তাওবা করে, তার তাওবা আল্লাহ তা'আলা গ্রহণ করে থাকেন, এমনকি তার পরেও বরং মৃত্যুর এক দিন পূর্বে হলেও, এমনকি এক ঘন্টা পূর্বে হলেও। যে ব্যক্তি খাটি অন্তরে ও সত্যতার (সততার) সাথে আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে, তিনি তার তাওবা কবূল করে থাকেন।(৩) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা গ্রহণ করে থাকেন। আর যে এক মাস পূর্বে তাওবা করে তার তাওবাও আল্লাহ পাক কবূল করে থাকেন এবং যে এক সপ্তাহ পূর্বে তাওবা করে তার তাওবাও তিনি গ্রহণ করেন। আর যে একদিন পূর্বে তাওবা করে তার তাওবাও গৃহীত হয়ে থাকে। এটা শুনে হযরত আইয়ূব (রঃ) এ আয়াতটি পাঠ করেন। তখন হযরত ইবনে উমার (রাঃ) বলেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট যা শুনেছি তাই বলছি। (৪) মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, চারজন সাহাবী একত্রিত হন। তাঁদের মধ্যে একজন বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর একদিন পূর্বেও তাওবা করে নেয়, আল্লাহ তা'আলা তার তাওবাও ককূল করে থকেন।' অন্য একজন জিজ্ঞেস করেনঃ ‘সত্যই কি আপনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট হতে শুনেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন ঐ দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট হতে শুনেছিঃ 'যদি অর্ধদিন পূর্বেও তাওবা করে তবে সেই তাওবাও আল্লাহ তা'আলা কবূল করে থাকেন।'তৃতীয়জন বলেনঃ “তুমি কি এটা শুনেছ?' তিনি বলেনঃ “হ্যাঁ, আমি স্বয়ং শুনেছি।' তিনি বলেনঃ “আমি তো শুনেছিঃ যদি এক প্রহর পূর্বেও তাওবা করার সৌভাগ্য হয় তবে সেই তাওবাও গৃহীত হয়ে থাকে। চতুর্থ ব্যক্তি বলেনঃ ‘আপনি এটা শুনেছেন?' তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।' তিনি বলেনঃ আমি তো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এমন পর্যন্ত শুনেছিঃ যে পর্যন্ত তার গড়গড়া উপস্থিত না হয় সে পর্যন্ত তার জন্যে তাওবার দরজা খোলা থাকে।(৫) তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর মধ্যে রয়েছে, হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে পর্যন্ত গড়গড়া আরম্ভ না হয় সে পর্যন্ত তাওবা কবুল হয়ে থাকে। কয়েকটি মুরসাল হাদীসেও এ বিষয়টি রয়েছে। হযরত আবু কালাবা (রঃ) বলেন যে, যখন আল্লাহ তা'আলা। ইবলিসের উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করেন তখন সে অবকাশ চেয়ে বলেঃ আপনার সম্মান ও মর্যাদার শপথ! আদম সন্তানের অন্তরে যে পর্যন্ত আত্মা থাকবে সে পর্যন্ত আমি তার অন্তর হতে বের হবে না। আল্লাহ তাআলা তখন উত্তরে বলেনঃ “আমিও আমার সম্মান ও মর্যাদার শপথ করে বলছি যে, যে পর্যন্ত তার দেহে আত্মা থাকবে সে পর্যন্ত আমি তার তাওবা কবূল করবো। একটি মারফু হাদীসেও এর কাছাকাছি বর্ণিত আছে। সুতরাং এ সমুদয় হাদীস দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, বান্দা যে পর্যন্ত জীবিত রয়েছে এবং তার জীবনের আশা আছে সে পর্যন্ত যদি সে আল্লাহ তা'আলার দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তাওবা করে তবে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কবূল করে থাকেন ও তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হন। আল্লাহ তা'আলা মহাজ্ঞানী বিজ্ঞানময়।তবে হ্যাঁ, যখন সে জীবন হতে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে যাবে, মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে দেখতে পাবে এবং আত্মা দেহ হতে বেরিয়ে কণ্ঠনালীতে পৌছে যাবে এবং গড়গড়া শুরু হয়ে যাবে তখন তার তাওবা গৃহীত হয় না। এ জন্যেও আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “জীবন ভর যে পাপ কার্যে লিপ্ত থাকে এবং মৃত্যু অবলোকন করে বলে, এখন আমি তাওবা করছি।' এরূপ লোকের তাওবা গৃহীত হয় না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে- (আরবী) (দুই আয়াত পর্যন্ত) ভাবার্থ এই যে, আমার শাস্তি দেখে নেয়ার পর ঈমানের স্বীকারোক্তি কোন উপকারে আসবে না। (৪০:৮৪)অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) ভাবার্থ এই যে, যখন মানুষ সূর্যকে পশ্চিম দিকে উদিত হতে দেখবে তখন যে কেউ ঈমান আনয়ন করবে বা সকার্য সম্পাদন করবে তার সে সকাজ বা ঈমান কোন উপকারে আসবে না। (৬:১৫৮) অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “যারা কুফর ও শিরকের উপর মৃত্যু বরণ করে তাদেরও তাওবায় কোন উপকার হবে না, তাদের নিকট হতে কোন ক্ষতিপূরণ বা বিনিময়ও নেয়া হবে না। যদিও তারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণ দেবারও ইচ্ছে প্রকাশ করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ মহাপুরুষ বলেন যে, এ আয়াতটি মুশরিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়।মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের তাওবা কবুল করে থাকেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করে থাকেন যে পর্যন্ত পর্দা পড়ে না যায়। তাঁকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, পর্দা পড়ে যাওয়ার অর্থ কি?' তিনি বলেনঃ ‘শিরকের অবস্থায় প্রাণ বহির্গত হওয়া। এরূপ লোকদের জন্যেই আল্লাহ তা'আলা চিরস্থায়ী বেদনাদায়ক শাস্তি তৈরী করে রেখেছেন।