Se connecter
Se connecter
Se connecter
Sélectionner la langue

Tafsir: Ali-'Imran 3:44

3:44
ذالك من انباء الغيب نوحيه اليك وما كنت لديهم اذ يلقون اقلامهم ايهم يكفل مريم وما كنت لديهم اذ يختصمون ٤٤
ذَٰلِكَ مِنْ أَنۢبَآءِ ٱلْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ ۚ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَـٰمَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ ٤٤
ذَٰلِكَ
مِنۡ
أَنۢبَآءِ
ٱلۡغَيۡبِ
نُوحِيهِ
إِلَيۡكَۚ
وَمَا
كُنتَ
لَدَيۡهِمۡ
إِذۡ
يُلۡقُونَ
أَقۡلَٰمَهُمۡ
أَيُّهُمۡ
يَكۡفُلُ
مَرۡيَمَ
وَمَا
كُنتَ
لَدَيۡهِمۡ
إِذۡ
يَخۡتَصِمُونَ
٤٤
Ce sont là des nouvelles de l’Inconnaissable que Nous te révélons. Car tu n’étais pas là lorsqu’ils jetaient leurs calames [et tiraient au sort] pour décider qui se chargerait de Marie ! Tu n’étais pas là non plus lorsqu’ils se disputaient .1
Tafsirs
Niveaux
Leçons
Réflexions
Réponses
Qiraat
Hadith
Vous lisez un tafsir pour le groupe d'Ayahs 3:42 à 3:44

৪২-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলার নির্দেশক্রমে ফেরেশতাগণ হযরত মারইয়াম (আঃ)-কে তার অত্যাধিক ইবাদত, দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য ভাব, ভদ্রতা এবং শয়তানী কুধারণা হতে দূরে থাকার কারণে স্বীয় নৈকট্য লাভের যে মর্যদা দান করেছেন এবং সারা জগতের নারীদের উপর যে মনোনীত করেছেন তারই সুসংবাদ দিচ্ছেন। সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যতগুলো নারী উষ্ট্রে আরোহণ করেছে তাদের মধ্যে উত্তম হচ্ছে কুরাইশদের ঐ স্ত্রীলোকগুলো যারা নিজেদের শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহ প্রদর্শন করে এবং স্বামীদের দ্রব্যাদির পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। হযরত মারইয়াম বিনতে ইমরান (আঃ) কখনও উষ্ট্রে আরোহণ করেননি। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের একটি হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘স্ত্রীলোকদের মধ্যে উত্তম হচ্ছে হযরত মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং স্ত্রীলোকদের মধ্যে উত্তম হচ্ছে হযরত খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাঃ)। জামেউত তিরমিযীর বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘সারা জগতের নারীদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান (আঃ), খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাঃ), ফাতিমা (রাঃ) বিনতে মুহাম্মাদ (সঃ) এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া (রাঃ) তোমার জন্য যথেষ্ট। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, এ চারজন নারী সারা বিশ্বের নারীদের মধ্যে উত্তম। আর একটি হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘পুরুষদের মধ্যে বহু পূর্ণাঙ্গ পুরুষ রয়েছে, কিন্তু নারীদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তা নারী মাত্র তিনজন। তারা হচ্ছেন- হযরত ইমরানের কন্যা হযরত মারইয়াম (আঃ), ফিরাউনের স্ত্রী হযরত আসিয়া (আঃ) এবং খুয়াইলিদের কন্যা হযরত খাদীজা (রাঃ)। আর হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ফযীলত নারীদের উপর এরূপ যেরূপ সারীদের (গোশতের ঝোলে ভিজান রুটির) ফযীলত সমস্ত আহার্যের উপর।' এ হাদীসটি সুনান-ই-আবু দাউদ ছাড়া অন্যান্য সব হাদীসেই রয়েছে। সহীহ বুখারী শরীফের এ হাদীসে হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। আমি এ হাদীসের সমস্ত সনদ এবং প্রত্যেক সনদের শব্দগুলো স্বীয় কিতাবুল বিদায়া ওয়ান্নিহায়াহ’-এর মধ্যে হযরত ঈসা (আঃ)-এর বর্ণনায় জমা করেছি।ফেরেশতাগণ বলেন, “হে মারইয়াম! আপনি আপনার সময় বিনয় প্রকাশ এবং রুকু ও সিজদায় কাটিয়ে দিন। আল্লাহ তা'আলা আপনাকে স্বীয় ক্ষমতার এক বিরাট নিদর্শন বানাতে চান। সুতরাং মহান আল্লাহর দিকে আপনার পূর্ণ মনঃসংযোগ করা উচিত। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে আন্তরিকতা ও বিনয়ের সাথে আনুগত্য প্রকাশ করা। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ ‘আকাশ ও পৃথিবীর সমুদয় বস্তু তাঁরই অধিকারে রয়েছে এবং প্রত্যেকেই তাঁর অনুগত।' (৩০:২৬) মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমের একটি মারফু হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই (আরবী) শব্দটি রয়েছে তারই ভাবার্থ হচ্ছে আনুগত্য স্বীকার।' ইবনে জারীরও (রঃ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু ওর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন, হযরত মারইয়াম (আঃ) নামাযে এত অধিকক্ষণ দাড়িয়ে থাকতেন যে, তাঁর জানুদ্বয় ফোলে যেতো। (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে নামাযে এভাবেই লম্বা লম্বা রুকূ' করা।' হযরত হাসান বসরী (রঃ)-এর মতে এর ভাবার্থ হচ্ছে- “তোমার প্রভুর ইবাদতে লিপ্ত থাক এবং যারা রুকু ও সিজদা করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।' হযরত আওযায়ী (রঃ) বলেন, হযরত মারইয়াম (আঃ) স্বীয় ইবাদত কক্ষে এত বেশী পরিমাণে ও এত বিনয়ের সাথে সুদীর্ঘ সময় ধরে নামায পড়তেন যে, তাঁর পদদ্বয়ে হলদে পানি নেতে আসতো।এ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী বর্ণনা করতঃ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! এসব ঘটনা তুমি জানতে না। আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলাম। আমি তোমাকে না জানালে তুমি জনগণের নিকট এসব ঘটনা কি করে পৌছাতে? কারণ, যখন এসব ঘটনা সংঘটিত হয় তখন তুমি তো তথায় উপস্থিত ছিলে না। কিন্তু আমি ঐগুলো তোমাকে এমনভাবে জানিয়ে দিলাম যে, যেন তুমি স্বয়ং তথায় ছিলে’। যখন হযরত মারইয়ামের লালন-পালনের ব্যাপার নিয়ে একে অপরের উপর অগ্রাধিকার লাভের চেষ্টা করছিল, সবাই ঐ পুণ্য লাভের আকাংখী ছিল, সে সময় তার মা তাঁকে নিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর মসজিদে উপস্থিত হন। সে সময় তথাকার সেবক ছিলেন হযরত মূসা (আঃ)-এর ভাই হযরত হারূনের (আঃ) বংশের লোকগণ। হ্যরত মারইয়াম (আঃ)-এর মা তাদেরকে বলেনঃ “আমি আমার প্রতিজ্ঞানুসারে আমার এ কন্যাকে আল্লাহ তা'আলার নামে আযাদ করে দিয়েছি। সুতরাং আপনারা তার রক্ষণাবেক্ষণের ভার গ্রহণ করুন। এটা তো স্পষ্ট যে, সে একটি মেয়ে এবং ঋতুবর্তী মেয়েদের মসজিদে প্রবেশ যে নিষিদ্ধ এটাও কারও অজানা নেই। সুতরাং এর যা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় তা আপনারাই করুন। আমি কিন্তু একে বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারি না।' হযরত ইমরান (আঃ) তথাকার নামাযের ইমাম ও কুরবানীর পরিচালক ছিলেন। আর হযরত মারইয়াম (আঃ) ছিলেন তারই কন্যা। কাজেই সবাই তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণের জন্যে আগ্রহী ছিলেন। এ দিকে হযরত যাকারিয়া (আঃ) তাঁর অগ্রাধিকার প্রমাণ করতে গিয়ে বলেন‘এর সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, আমি তার খালু। সুতরাং মেয়েটিকে আমারই পাওয়া উচিত। কিন্তু অন্যেরা তাতে সম্মত না হওয়ায় অবশেষে নির্বাচনের গুটিকা নিক্ষেপ করা হয় এবং তাতে তাঁরা ঐসব লেখনী নিক্ষেপ করেন যেগুলো দিয়ে তাওরাত লিখতেন। এতে হযরত যাকারিয়ারই (আঃ) নাম উঠে। কাজেই তিনি ঐ সৌভাগ্যের অধিকারী হন। অন্য বিস্তারিত বর্ণনায় এও রয়েছে যে, তারা জর্দান নদীতে গিয়ে তাদের কলমগুলো পানিতে নিক্ষেপ করেন। কথা হয় যে, স্রোতের মুখে যাদের কলম চলতে থাকবে তারা নয় বরং যার কলম স্থির থাকবে সেই তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। অতঃপর তারা কলমগুলো পানিতে নিক্ষেপ করলে সবারই কলম চলতে থাকে, শুধুমাত্র হযরত যাকারিয়া (আঃ)-এর কলম স্থির থাকে। বরং ওটা স্রোতের বিপরীত দিকে চলতে থাকে। কাজেই একে তো গুটিকায় তার নাম উঠেছিল, দ্বিতীয়তঃ তিনি তাঁর আত্মীয় ছিলেন। তাছাড়া তিনি সবারই নেতা, ইমাম, আলেম এবং সর্বোপরি নবী ছিলেন। অতএব তাঁরই উপরে হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়।