Se connecter
Se connecter
Se connecter
Sélectionner la langue

Tafsir: Al-Ma'idah 5:36

5:36
ان الذين كفروا لو ان لهم ما في الارض جميعا ومثله معه ليفتدوا به من عذاب يوم القيامة ما تقبل منهم ولهم عذاب اليم ٣٦
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا وَمِثْلَهُۥ مَعَهُۥ لِيَفْتَدُوا۟ بِهِۦ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُمْ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ٣٦
إِنَّ
ٱلَّذِينَ
كَفَرُواْ
لَوۡ
أَنَّ
لَهُم
مَّا
فِي
ٱلۡأَرۡضِ
جَمِيعٗا
وَمِثۡلَهُۥ
مَعَهُۥ
لِيَفۡتَدُواْ
بِهِۦ
مِنۡ
عَذَابِ
يَوۡمِ
ٱلۡقِيَٰمَةِ
مَا
تُقُبِّلَ
مِنۡهُمۡۖ
وَلَهُمۡ
عَذَابٌ
أَلِيمٞ
٣٦
Si les mécréants possédaient tout ce qui est sur la Terre et autant encore, pour se racheter du châtiment du Jour de la Résurrection, on ne l’accepterait pas d’eux. Et pour eux il y aura un châtiment douloureux.
Tafsirs
Niveaux
Leçons
Réflexions
Réponses
Qiraat
Hadith
Vous lisez un tafsir pour le groupe d'Ayahs 5:35 à 5:37

৩৫-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে তাকওয়া ও সংযমশীলতার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে এবং সেটাও আবার আনুগত্যের সাথে মিশ্রিতভাবে। ভাবার্থ এই যে, মানুষ যেন আল্লাহ পাকের নিষেধকৃত কাজ থেকে বিরত থাকে এবং তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। ‘ওয়াসীলা'র অর্থ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে এটাই বর্ণিত আছে। হযরত মুজাহিদ, হযরত আবু ওয়ায়েল, হযরত হাসান, হযরত যায়েদ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সদয় হোন) প্রমুখ মুফাসৃসিরগণ হতেও এটাই বর্ণিত আছে।কাতাদাহ (রাঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- আল্লাহ পাকের আনুগত্য স্বীকার করে এবং তার মর্জি মুতাবিক আমল করে তাঁর নৈকট্য লাভ করা। ইবনে যায়েদ (রঃ) নিম্নের আয়াতটিও পাঠ করেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা তো ওরাই যারা তাদের প্রভুর নৈকট্য অনুসন্ধান করে থাকে। (১৭:৫৭) এ ইমামগণ শব্দটির যে অর্থ করেছেন তার উপর সমস্ত মুফাসসিরেরই ইজমা রয়েছে। তাঁদের কেউ এর বিপরীত অর্থ করেননি। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এর উপর একটি আরবী কবিতাও পেশ করেছেন, যাতে ওয়াসীলাহ্ শব্দটি নৈকট্যের অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। ওয়াসীলাহ-এর অর্থ ঐ জিনিস যার দ্বারা আকাংখিত বস্তু লাভ করা যায়। ওয়াসীলাহ্ জান্নাতের ঐ উচ্চ ও মনোরম জায়গার নাম যা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জায়গা এবং সেটা আরশের অতি নিকটে। সহীহ বুখারীতে হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আযান শুনে (আরবী)-এ দু'আটি পাঠ করে তার জন্যে কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত হালাল হয়ে যাবে।” সহীহ মুসলিমে একটি হাদীস বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আযান শুনবে তখন মুআযযিন যা বলে তোমরাও তা-ই বল, তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ কর, এক দরূদের বিনিময়ে তোমাদের উপর আল্লাহ দশটি রহমত নাযিল করবেন। এরপর আমার জন্যে তোমরা আল্লাহর নিকট ওয়াসীলা যাজ্ঞা কর। ওটা হচ্ছে জান্নাতের একটি মনযিল যা শুধু একটি বান্দা লাভ করবে। আশা করি যে, ঐ বান্দা আমিই। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্যে ওয়াসীলা প্রার্থনা করলো তার জন্যে আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে গেল।” হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করবে তখন আমার জন্যে ওয়াসীলাও প্রার্থনা করবে।” তখন জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ওয়াসীলা কি? উত্তরে তিনি বললেনঃ “ওটা হচ্ছে জান্নাতের একটি উঁচু স্থান যা একটিমাত্র লোক লাভ করবে। আমি আশা করি যে, সেই লোকটি আমিই।" (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা আমার জন্যে আল্লাহর নিকট ওয়াসীলা যা কর। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আমার জন্যে এ প্রার্থনা করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্যে সাক্ষী ও সুপারিশকারী হয়ে যাব।” অন্য একটি হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতে ওয়াসীলা অপেক্ষা বড় জায়গা আর নেই। অতএব, তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্যে ওয়াসীলা প্রাপ্তির প্রার্থনা কর।" একটি গারীব ও মুনকার হাদীসে এতটুকু বেশীও রয়েছে যে, জনগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করলোঃ এই ওয়াসীলায় আপনার সাথে আর কে থাকবেন? উত্তরে তিনি হযরত ফাতিমা (রাঃ) এবং হযরত হাসান (রাঃ) ও হযরত হুসাইন (রাঃ)-এর নাম উচ্চারণ করেন। আর একটি অত্যন্ত গারীব হাদীসে আছে যে, একদা হযরত আলী (রাঃ) কুফার মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেনঃ জান্নাতে দু’টি মুক্তা রয়েছে, একটি সাদা ও অপরটি হলদে। হলদেটি তো আরশের নীচে রয়েছে। আর মাকামে মাহমুদ হচ্ছে সাদা মুক্তার তৈরী, যাতে সত্তর হাজার প্রাসাদ রয়েছে, যেগুলোর প্রত্যেকটি তিন মাইলের সমান। ওর দরজা, জানালা, আসন ইত্যাদি যেন একই মূলের তৈরী। ওরই নাম হচ্ছে ওয়াসীলা। ওটাই হচ্ছে মুহাম্মাদ (সঃ) এবং তার আহূলে বায়তের জন্যে। (আরবী) তাকওয়া অর্থাৎ নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হতে বিরত থাকা এবং আদিষ্ট বিষয়গুলো মেনে চলার নির্দেশ দেয়ার পর আল্লাহ পাক বলেনঃ তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর। মুশরিক, কাফির অর্থাৎ যারা তার শত্রু, যারা তার দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর সরল সঠিক পথ থেকে সরে পড়েছে, তোমরা তাদেরকে হত্যা কর। আর এসব মুজাহিদ হচ্ছে সফলকাম। কৃতকার্যতা, সৌভাগ্য এবং মর্যাদা তাদেরই। জান্নাতের উচ্চ উচ্চ অট্টালিকা এবং আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত তাদেরই জন্যে। তাদেরকে এ জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, যেখানে মৃত্যু ও ধ্বংস নেই, যেখানে ঘাটতি ও লোকসান নেই, যেখানে রয়েছে চির যৌবন, অটুট স্বাস্থ্য এবং চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তি। স্বীয় প্রিয়পাত্রদের উত্তম পরিণাম বর্ণনা করার পর এখন আল্লাহ পাক তার শক্রদের মন্দ পরিণামের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন- তাদেরকে এমন কঠিন ও জঘন্য শাস্তি দেয়া হবে যে, সেই সময় যদি তারা সারা বিশ্বের অধিপতি হয়ে যায় এমনকি আরও এরই সমান হয় এবং এমতাবস্থায় সেই কঠিনতম শাস্তি থেকে বাচার জন্যে বিনিময় হিসেবে এ সবগুলো দিতেও চায় তবুও তাদের থেকে সেগুলো গ্রহণ করা হবে না। বরং যে শাস্তি তাদের উপর হবে তা হবে চিরস্থায়ী শাস্তি। তা হতে কোনক্রমেই রক্ষা পাওয়া যাবে না। অন্য জায়গায় রয়েছেজাহান্নামীরা যখন জাহান্নাম হতে বের হতে চাইবে তখন পুনরায় তাদেরকে ওরই মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে। জ্বলন্ত অগ্নিশিখার সাথে যখন তারা উপরে উঠে আসবে তখন তাদেরকে লোহার হাতুড় মেরে মেরে পুনরায় জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করা হবে। মোটকথা তাদের সেই চিরস্থায়ী শাস্তি থেকে বের হওয়া অসম্ভব। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জাহান্নামের একটি লোককে আনয়ন করা হবে। তারপরে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে-হে আদম সন্তান! তোমার জায়গা কেমন পেয়েছো?" সে উত্তরে বলবেঃ ‘আমার জায়গা অত্যন্ত খারাপ পেয়েছি।" আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ “তুমি কি এর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণ প্রদানে সম্মত আছ?” সে উত্তর দেবেঃ “হে আমার প্রভু! হ্যা (আমি সম্মত আছি।)” তখন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “তুমি মিথ্যা বলছে। আমি তো তোমার কাছে এর চেয়েও বহু কম চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি সেটাও দাওনি।” অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম ও ইমাম নাসাঈ হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতেমাররূপে বর্ণনা করেছেন) হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “এক দল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।” বর্ণনাকারী হযরত ইয়াযীদ ফকীর (রঃ) বলেনঃ আমি যখন হযরত জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে (আরবী) অর্থাৎ তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে কিন্তু তা থেকে তারা বের হতে পারবে না-এ আয়াতের অর্থ কি হবে? তখন তিনি বললেনঃ এর পূর্বের আয়াতটি (আরবী) পাঠ কর। এর দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এরা কাফির। সুতরাং কখনও জাহান্নাম হতে বের হতে পারবে না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে-হযরত ইয়াযীদেরও এ বিশ্বাস ছিল যে, জাহান্নাম থেকে কেউই বের হতে পারবে না, কাজেই উপরোক্ত হাদীসটি শুনে তিনি হযরত জাবির (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললেন, আমার অন্য লোকের উপর তো কোন দুঃখ নেই। আমার দুঃখ শুধু আপনাদের ন্যায় সাহাবীদের উপর যে, আপনারাও কুরআন কারীমের বিপরীত কথা বলে থাকেন? ঐ সময় আমার খুব রাগও হয়েছিল। আমার এ কথা শুনে হযরত জাবির (রাঃ)-এর সঙ্গীগণ আমাকে খুব ধমক দেন। কিন্তু হযরত জাবির (রাঃ) অত্যন্ত সহিষ্ণু ছিলেন বলে আমাকে বুঝিয়ে বললেনঃ “কুরআন কারীমে যাদের জাহান্নাম থেকে বের না হওয়ার বর্ণনা রয়েছে তারা হচ্ছে কাফির। তুমি কি কুরআন পড়নি?” আমি উত্তরে বললামঃ হ্যা, পড়েছি। আমার সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ আছে। তখন তিনি বলেনঃ তাহলে তোমার কি কুরআনের (আরবী) (১৭:৭৯)-এ আয়াতটি স্মরণ নেই? এ আয়াতে মাকামে মাহমুদের উল্লেখ রয়েছে। আর এটা হচ্ছে শাফাআতের জায়গা। আল্লাহ তাআলা কতক লোককে তাদের পাপের কারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন এবং যতদিন ইচ্ছা জাহান্নামে রাখবেন। তারপর যখন ইচ্ছা তাদেরকে তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। হযরত ইয়াযীদ (রঃ) বলেন-এরপর থেকে আমার ধারণা শুধরে যায়। (এটা হাফিয ইবনে মিরদুওয়াই (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত তলাক ইবনে হাবীব (রঃ) বলেনঃ “আমিও জাহান্নামীদের জন্যে শাফাআতের অস্বীকারকারী ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। অতঃপর আমার দাবী সাব্যস্তকরণে যেসব আয়াতে জাহান্নামে চির অবস্থানের বর্ণনা রয়েছে সেগুলো পাঠ করে শুনাই। তিনি শুনে বলেনঃ “হে তলাক! তুমি কি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সুন্নাতের ইলমের বিষয়ে নিজেকে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে কর? জেনে রেখো যে, যেসব আয়াত তুমি পাঠ করে শুনালে সেগুলো হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী অর্থাৎ মুশরিকদের ব্যাপারে প্রযোজ্য। কিন্তু যারা জাহান্নাম থেকে বের হবে তারা ঐসব লোক যারা মুশরিক নয়, তবে পাপী। পাপ অনুযায়ী শাস্তি ভোগের পর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।” হযরত জাবির (রাঃ) এসব বলার পর স্বীয় হাত দুটি দ্বারা স্বীয় কান দু'টির দিকে ইশারা করে বলেনঃ আমি যদি আল্লাহর রাসূল (সঃ) থেকে শুনে না থাকি যে, জাহান্নামে প্রবেশের পরও মানুষকে তা থেকে বের করা হবে তবে আমার এ দু'টি (কান) বধির হয়ে যাক। আল-কুরআনের আয়াতগুলো যেমন তোমরা পড় তেমন আমিও পড়ি। (এ হাদীসটি ইবনে মিরদুওয়াই বর্ণনা করেছেন)