Se connecter
Se connecter
Se connecter
Sélectionner la langue

Tafsir: Al-'Ankabut 29:58

29:58
والذين امنوا وعملوا الصالحات لنبوينهم من الجنة غرفا تجري من تحتها الانهار خالدين فيها نعم اجر العاملين ٥٨
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَنُبَوِّئَنَّهُم مِّنَ ٱلْجَنَّةِ غُرَفًۭا تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۚ نِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَـٰمِلِينَ ٥٨
وَٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ
وَعَمِلُواْ
ٱلصَّٰلِحَٰتِ
لَنُبَوِّئَنَّهُم
مِّنَ
ٱلۡجَنَّةِ
غُرَفٗا
تَجۡرِي
مِن
تَحۡتِهَا
ٱلۡأَنۡهَٰرُ
خَٰلِدِينَ
فِيهَاۚ
نِعۡمَ
أَجۡرُ
ٱلۡعَٰمِلِينَ
٥٨
Et quant à ceux qui croient et accomplissent de bonnes œuvres, Nous les installerons certes à l’étage dans le Paradis sous lequel coulent les ruisseaux, pour y demeurer éternellement. Quelle belle récompense que celle de ceux qui font le bien,
Tafsirs
Niveaux
Leçons
Réflexions
Réponses
Qiraat
Hadith
Vous lisez un tafsir pour le groupe d'Ayahs 29:56 à 29:60

৫৬-৬০ নং আয়াতের তাফসীরএখানে আল্লাহ্ তা'আলা মুমিনদেরকে হিজরত করার নির্দেশ দিচ্ছেন যে, যেখানে তারা দ্বীনকে কায়েম রাখতে পারবে না সেখান থেকে তাদেরকে এমন জায়গায় চলে যেতে হবে যেখানে তারা দ্বীনের কাজ স্বাধীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে। আল্লাহর যমীন খুব প্রশস্ত। সুতরাং যেখানে তারা আল্লাহর নির্দেশ মুতাবেক তাঁর ইবাদতে লেগে থেকে তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করতে পারবে সেখানেই তাকে হিজরত করতে হবে।হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “সমস্ত শহর আল্লাহর শহর এবং সমস্ত বান্দা আল্লাহর দাস। যেখানে তুমি কল্যাণ লাভ করবে সেখানেই অবস্থান করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)সাহাবায়ে কিরামের জন্যে মক্কায় অবস্থান যখন কষ্টকর হয়ে গেল তখন তাঁরা। হিজরত করে হাবশায় চলে গেলেন, যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আল্লাহর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারেন। তথাকার বুদ্ধিমান ও দ্বীনদার বাদশাহ্ সাহমাহ্ নাজ্জাশী (রঃ) পূর্ণভাবে তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করেন। সেখানে তাঁরা মর্যাদা ও পরম আনন্দের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এরপর আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমে অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) ও স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) মদীনায় হিজরত করেন।অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী, অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের সবকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং আমার সামনে তোমাদেরকে হাযির হতে হবে। কাজেই তোমাদের জীবন আল্লাহর আনুগত্যের কাজে ও তাকে সন্তুষ্ট করার কাজে কাটিয়ে দেয়া উচিত যাতে মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে গিয়ে বিপদে পড়তে না হয়। মুমিন ও সৎ লোকদেরকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে আদনের সুউচ্চ প্রসাদে পৌঁছিয়ে দিবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। সকর্মশীলদের প্রতিদান কতই না উত্তম! সেখান হতে তাদেরকে কখনো বের করা হবে না। না থাকার নিয়ামতরাজি কখনো শেষ হবে, না কিছু হ্রাস পাবে। মুমিনদের সত্ত্বার্যের বিনিময়ে তাদেরকে যে জান্নাতী প্রাসাদ দেয়া হবে তা সত্যিই পরম আরামদায়ক। যারা ধৈর্য অবলম্বন করে ও তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে এবং আল্লাহর পথে হিজরত করে। যারা আল্লাহর শত্রুদেরকে পরিত্যাগ করে এবং তাঁর পথে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারবর্গকে বিসর্জন দেয় এবং তাঁর নিয়ামত ও পুরস্কারের আশায় পার্থিব সুখ-শান্তির উপর লাথি মারে।আবু মালিক আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতে এমন অট্টালিকা রয়েছে যার বাইরের দিক ভিতরের দিক হতে এবং ভিতরের দিক বাইরের দিক হতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আল্লাহ তা'আলা তা এমন লোকদের জন্যে বানিয়েছেন যারা (মানুষকে) খাদ্য খেতে দেয়, ভাল কথা বলে, নিয়মিতভাবে নামায পড়ে ও রোযা রাখে এবং রাত্রে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে। আর তারা পার্থিব ও পারলৌকিক সর্বক্ষেত্রে তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে থাকে। (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ খবর দিচ্ছেন যে, রিযিক কোন জায়গার সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং আল্লাহর বন্টনকৃত রিযিক সাধারণভাবে সর্বজায়গায় বিদ্যমান রয়েছে। যে যেখানে থাকে সেখানেই তার রিযিক পৌঁছে যায়। মুহাজিরদের (রাঃ) হিজরতের পর তাঁদের রিযিকের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা এত বরকত দেন যে, তারা দুনিয়ার দূর দূর প্রান্তের মালিক হয়ে যান। তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ এমন কত জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য জমা রাখার ক্ষমতা রাখে না। আল্লাহ তাআলাই ওগুলোকে খাদ্য দান করে থাকেন এবং মানুষেরও খাদ্যের ব্যবস্থা তিনিই করে থাকেন। তিনি কোন সৃষ্টজীবকে কখনো ভুলে যান না। পিঁপড়াকে ওর গর্তে, পাখীকে আসমান ও যমীনের ফাঁকা জায়গায় এবং মাছকে পানির মধ্যেই তিনি খাদ্য পৌছিয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সবারই জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই; তিনি ওদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে সবকিছুই আছে।" (১১:৬)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) বলেনঃ “একদা আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে চলছিলাম। মদীনার বাগানসমূহের একটি বাগানে তিনি গেলেন এবং মাটিতে পড়ে থাকা খারাপ খেজুরগুলো পরিষ্কার করে করে তিনি খেতে লাগলেন এবং আমাকেও খেতে বললেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এই (খারাপ) খেজুরগুলো খেতে আমার মন চায় না। তিনি বললেনঃ আমার তো এগুলো খেতে খুব ভাল লাগছে। কেননা, আজ চতুর্থ দিনের সকাল, এ পর্যন্ত আমি কিছুই খাইনি এবং না খাওয়ার কারণ এই যে, আমার খাবার জুটেনি। আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা জানাতাম তবে তিনি আমাকে কিসরা (পারস্য সম্রাট) এবং কায়সারের (রোমক সম্রাট) মালিক করে দিতেন। হে ইবনে উমার (রাঃ)! তোমার কি অবস্থা হবে যখন তুমি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করবে যারা কয়েক বছরের খাদ্য জমা করে রাখবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করবে। আমি তো ঐ অবস্থাতেই রয়েছি এমন সময় (আারবি) এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ মহিমান্বিত আল্লাহ আমাকে দুনিয়ার ধন-ভাণ্ডার জমা করার এবং কু-প্রবৃত্তির পিছনে লেগে পড়ার নির্দেশ দেননি। যে ব্যক্তি দুনিয়ার ধন-ভাণ্ডার জমা করে এবং এর দ্বারা চিরস্থায়ী জীবন কামনা করে, তার বুকে নেয়া উচিত যে, চিরস্থায়ী জীবন তো আল্লাহর হাতে। জেনে রেখো যে, না আমি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) বা দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) জমা করবো, না কালকের জন্যে আজ খাদ্যপ জমা রাখবো।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এটা গারীব হাদীস। এর বর্ণনাকারী আবুল আতৃক জারী দুর্বল)বর্ণনা করা হয় যে, কাকের ডিম হতে যখন বাচ্চা বের হয়, তখন বাচ্চাগুলোর পালক ও ললাম সাদা হয়। এই দেখে কাক ওগুলোকে ঘৃণা করে পালিয়ে যায়। কিছুদিন পর ঐ শাবকগুলোর পালক কালো বর্ণ ধারণ করে। তখন ওদের মা-বাপ ওদের কাছে ফিরে আসে এবং আহার দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় যখন ওদের বাপমা ওদেরকে ঘৃণা করে ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং কাছেও আসে না তখন আল্লাহ তাআলা ঐ ছোট ছোট মশাগুলো ঐ বাচ্চাগুলোর নিকট পাঠিয়ে দেন এবং ঐ মশাগুলোই ওদের খাদ্য হয়ে যায় ।নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা সফর কর, তোমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং রিযিক প্রাপ্ত হবে।”হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা সফর কর, তাহলে তোমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং তোমরা গনীমত (যুদ্ধলব্ধ মাল) লাভ করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম বায়হাকী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা সফর কর, তাহলে তোমরা লাভবান হবে, রোযা রাখা, তোমরা সুস্থ থাকবে এবং যুদ্ধ কর, গনীমত লাভ করবে। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছেঃ “তোমরা ভাগ্যবান ও স্বচ্ছলদের সাথে সফর কর।”মহান আল্লাহর উক্তিঃ তিনি সর্বশ্রোতা অর্থাৎ তিনি স্বীয় বান্দাদের কথাগুলো শ্রবণকারী এবং তিনি সর্বজ্ঞ, অর্থাৎ বান্দাদের অঙ্গভঙ্গী সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল।