Se connecter
Se connecter
Se connecter
Sélectionner la langue

Tafsir: Al-Mu'minune 23:100

23:100
لعلي اعمل صالحا فيما تركت كلا انها كلمة هو قايلها ومن ورايهم برزخ الى يوم يبعثون ١٠٠
لَعَلِّىٓ أَعْمَلُ صَـٰلِحًۭا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّآ ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَا ۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ١٠٠
لَعَلِّيٓ
أَعۡمَلُ
صَٰلِحٗا
فِيمَا
تَرَكۡتُۚ
كـَلَّآۚ
إِنَّهَا
كَلِمَةٌ
هُوَ
قَآئِلُهَاۖ
وَمِن
وَرَآئِهِم
بَرۡزَخٌ
إِلَىٰ
يَوۡمِ
يُبۡعَثُونَ
١٠٠
afin que je fasse du bien dans ce que je délaissais." Non, c’est simplement une parole qu’il dit. Derrière eux, cependant, il y a une barrière, jusqu’au jour où ils seront ressuscités." 1
Tafsirs
Niveaux
Leçons
Réflexions
Réponses
Qiraat
Hadith
Vous lisez un tafsir pour le groupe d'Ayahs 23:99 à 23:100

৯৯-১০০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, মৃত্যুর সময় কাফির ও পাপীরা ভীষণ লজ্জিত হয় এবং দুঃখ ও আফসোসের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে যে, হায়! যদি তাদেরকে পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দেয়া হতো তবে তারা সৎ কাজ করতো! কিন্তু ঐ সময় তাদের এই আশা ও আকাঙ্ক্ষা বৃথা। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত। অর্থাৎ “আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে; অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবেঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছুকালের জন্যে অবকাশ দিলে আমি সাদকা দিতাম এবং সকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম! কিন্তু নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ কখনো কাউকেও অবকাশ দিবেন না; তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” (৬৩:১০-১১) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত। অর্থাৎ “যেদিন তাদের শান্তি আসবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন যালিমরা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছুকালের জন্যে অবকাশ দিন! আমরা আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো এবং রাসূলদের অনুসরণ করাবো! (উত্তরে বলা হবে) তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?” (১৪:৪৪) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং হায়! তুমি যদি দেখতে! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে অধোবদন হয়ে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম; এখন আপনি আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ করুন, আমরা সকর্ম করাবো, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী!” (৩২:১২) অন্য এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হায়! তুমি যদি দেখতে! যখন তাদেরকে জাহান্নামের উপর দাঁড় করানো হবে তখন তারা বলবেঃ হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হতো তবে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না। হতে- নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।” (৬: ২৭-২৮) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি যালিমদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি অবলোকন করবে তখন বলবেঃ আমাদের ফিরবার কোন পথ আছে কি?” (৪২:৪৪) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি দু’বার আমাদেরকে মৃত্যু দান করেছেন এবং দু’বার জীবিত করেছেন, এখন আমরা আমাদের পাপসমূহ স্বীকার করে নিয়েছি, সুতরাং (জাহান্নাম হতে) বের হওয়ার কোন পথ আছে কি?” (৪০:১১) অন্যত্র মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা ওর মধ্যে চীৎকার করে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে (জাহান্নাম হতে) বের করে নিন এবং পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন), তাহলে আমরা (পূর্বের) কৃত (মন্দ) আমল বাদ দিয়ে ভাল আমল করাবো। (উত্তরে বলা হবেঃ) তোমাদেরকে কি আমি এমন বয়স দান করিনি যে, যে উপদেশ গ্রহণ করার (ইচ্ছা করতো) সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারতো? আর তোমাদের কাছে তো ভয় প্রদর্শকের আগমন ঘটেছিল, সুতরাং (আজ ওসব কথা বলে কোন লাভ নেই, বরং) তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর, অত্যাচারীদের জন্যে কোনই সাহায্যকারী নেই।” (৩৫:৩৭) এ সব আয়াতে এই বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, এইরূপ পাপী লোকেরা মৃত্যুর সময় এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জাহান্নামের পাশে দণ্ডায়মান অবস্থায় দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাক্ষা করবে এবং সৎ আমল করার অঙ্গীকার করবে। কিন্তু ঐ সময় তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না। এটা ঐ কথা যা ঐ ভয়াবহ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা বলে ফেলবে। আর প্রকৃতপক্ষে ওটা শুধু তাদের মুখের কথা। যদি তাদেরকে দুনিয়ায় ফিরিয়েও দেয়া হয় তবুও তারা ভাল কাজ করবে না। বরং পূর্বে যেমন ছিল তেমনই থাকবে। তারা তো মিথ্যাবাদী। কতই না ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যে এই পার্থিব জীবনে ভাল কাজ করে থাকে। আর ঐ লোকগুলো কতই না হতভাগ্য যারা ঐ বিচার দিবসে ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততির আকাক্ষা করবে না এবং দুনিয়ার সৌন্দর্য ও জাঁকজমক তারা কামনা করবে না, বরং দুনিয়ায় মাত্র কয়েক দিন বাস করে সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করার আকাঙ্ক্ষা করবে। কিন্তু সেই দিনের আকাঙ্ক্ষা, কামনা ও বাসনা সবই বৃথা হবে। এটাও বর্ণিত আছে যে, যখন তারা এরূপ আকাঙ্ক্ষা করবে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধমক দিয়ে বলবেনঃ “এটা শুধু তোমাদের মুখের কথা। এর পরেও তোমরা ভাল কাজ করবে না।” হযরত আ’লা ইবনে যিয়াদ (রঃ) কতই না সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা এটা মনে করে নাও যে, আমার মৃত্যু এসে গিয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার নিকট কয়েক দিনের অবকাশ চেয়েছিলাম যাতে আমি পুণ্য অর্জন করতে পারি। তিনি আমাকে অবকাশ দিয়েছেন। সুতরাং এখন অন্তর খুলে পুণ্য কামানো আমার উচিত।”হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ “তোমরা কাফিরদের এই আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করে নিজেদের জীবনের মুহূর্তগুলো আল্লাহর আনুগত্যের কাজে লাগিয়ে দাও।” হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, যখন কাফিরকে কবরে রাখা হয় এবং সে তার জাহান্নামের বাসস্থান দেখে নেয় তখন বলেঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ফিরিয়ে দিন, আমি তাওবা করাবো ও সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করাবো।” উত্তরে বলা হবেঃ “তোমাকে যে বয়স দেয়া হয়েছিল তা তুমি শেষ করে ফেলেছো।” (এটা মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছে) অতঃপর তার কবরকে সংকুচিত করে দেয়া হবে এবং সর্প ও বিচ্ছু তাকে দংশন করতে থাকবে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, পাপীদের কবর অত্যন্ত বিপদপূর্ণ ও ভয়াবহ জায়গা। তাদের কবরের মধ্যে কালো সর্প তাদেরকে দংশন করতে থাকে। এই সর্পগুলোর মধ্যে একটি বিরাটাকার সাপ প্রত্যেকের শিয়রে থাকে এবং অনুরূপ আর একটি সাপ থাকে তার পায়ের কাছে। সাপ দু’টি তাকে দংশন করতে করতে এগুতে থাকে এবং দেহের মধ্যভাগে এসে উভয়ে মিলিত হয়। এটাই হলো বারযাখের শাস্তি যার কথা আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে বলেছেন।(আরবী) এর অর্থ করা হয়েছেঃ তাদের সম্মুখে বারযাখ থাকবে। বারযাখ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝে পর্দা বা আড়। সে না সরাসরি দুনিয়ায় আছে যে, পানাহার করবে এবং না সরাসরি আখিরাতে আছে যে, আমলের পূর্ণ প্রতিদান প্রাপ্ত হবে। বরং রয়েছে এ দু’য়ের মাঝামাঝি জায়গায়। সুতরাং এই আয়াতে অত্যাচারী ও সীমালংঘন কারীদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হচ্ছে যে, আলমে বারযাখেও তাদেরকে কঠিন শাস্তির মধ্যে রাখা হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ “তাদের সামনে জাহান্নাম রয়েছে।” (৪৫:১০) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তার সামনে রয়েছে খুবই কঠিন শাস্তি।” (১৪:১৭) কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর বারযাখের এই শাস্তি চালু থাকবে। যেমন হাদীসে এসেছেঃ “ওর মধ্যে সদা সর্বদা সে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।” অর্থাৎ যমীনের মধ্যে (তাকে সব সময় শাস্তি দেয়া হবে)।