Se connecter
Se connecter
Se connecter
Sélectionner la langue

Tafsir: Al-Jinn 72:11

72:11
وانا منا الصالحون ومنا دون ذالك كنا طرايق قددا ١١
وَأَنَّا مِنَّا ٱلصَّـٰلِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ كُنَّا طَرَآئِقَ قِدَدًۭا ١١
وَأَنَّا
مِنَّا
ٱلصَّٰلِحُونَ
وَمِنَّا
دُونَ
ذَٰلِكَۖ
كُنَّا
طَرَآئِقَ
قِدَدٗا
١١
Il y a parmi nous des vertueux et [d’autre] qui le sont moins: nous étions divisés en différentes sectes.
Tafsirs
Niveaux
Leçons
Réflexions
Réponses
Qiraat
Hadith
Vous lisez un tafsir pour le groupe d'Ayahs 72:11 à 72:17

১১-১৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, জ্বিনেরা নিজেদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেঃ আমাদের মধ্যে কতক রয়েছে সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক রয়েছে দুষ্কৃতিকারী। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী। হযরত আ’মাশ (রঃ) বলেনঃ “একটি জ্বিন আমাদের কাছে আসতো। আমি একদা তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ তোমাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য কি? সে উত্তরে বললোঃ “চাউল।” আমি তাকে চাউল এনে দিলাম। তখন দেখলাম যে, খাদ্যগ্ৰাস ক্রমাগত উঠতে রয়েছে বটে, কিন্তু খাদ্য ভক্ষণকারী কাউকেও দেখা যাচ্ছে না। আমি তাকে প্রশ্ন করলামঃ আমাদের মত তোমাদেরও কি কামনা বাসনা রয়েছে? সে জবাব দিলোঃ “হ্যাঁ, রয়েছে। আমি তাকে আবার প্রশ্ন করলামঃ রাফেযী সম্প্রদায়কে তোমাদের মধ্যে কিরূপ গণ্য করা হয়? উত্তরে সে বললোঃ “তাদেরকে অতি নিকৃষ্ট সম্প্রদায় রূপে গণ্য করা হয়।” (হাফিজ আবুল মুযানী (রঃ) বলেন যে, এর সনদ বিশুদ্ধ)হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আব্বাস ইবনে আহমাদ দামেশকী (রঃ) বলেনঃ আমি রাত্রিকালে একটি জ্বিনকে নিম্নলিখত শ্লোকগুলো পড়তে শুনেছিঃ (আরবি)অর্থাৎ “অন্তর আল্লাহর মহব্বতে পূর্ণ হয়ে গেছে, এমনকি পূর্বে ও পশ্চিমে ওর মূল বা ঝড় গেড়ে বসেছে। সে উদ্বিগ্ন ও হতবুদ্ধি হয়ে আল্লাহর প্রেমে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে, যে আল্লাহ তার প্রতিপালক। সে সৃষ্টজীব হতে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের সম্পর্ক আল্লাহর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে।"এরপর জ্বিনদের আরো উক্তি উদ্ধৃত করা হচ্ছেঃ এখন আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবো না এবং পলায়ন করেও তাকে ব্যর্থ করতে পারবো না। কোনক্রমেই তাঁকে অপারগ করা সম্ভব নয়। অতঃপর গৌরব প্রকাশ করে জ্বিনগুলো বলেঃ আমরা যখন পথ-নির্দেশক বাণী শুনলাম তখন তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর এটা গৌরব প্রকাশেরই স্থান বটে। এর চেয়ে বড় ফযীলত ও মর্যাদা আর কি হতে পারে যে, আল্লাহর কালাম শোনা মাত্রই তা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করলো এবং সাথে সাথেই তারা ঈমান আনলো?এরপর তারা বলেঃ যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার কোন ক্ষতি ও কোন অন্যায়ের আশংকা থাকবে না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “সৎকর্মপরায়ণ ও মুমিন ব্যক্তির কোন যুলুম ও ক্ষতির আশংকা থাকবে না।"(২০:১১২) তারপর ঐ জ্বিনেরা আরো বলেঃ আমাদের কতক আত্মসমর্পণকারী এবং কতক সীমালংঘনকারী, যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্যপথ বেছে নেয়। পক্ষান্তরে যারা সীমালংঘনকারী তারা তো হবে জাহান্নামেরই ইন্ধন।(আরবি) এর দু’টি ভাবার্থ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি হলোঃ যদি সমস্ত মানুষ ইসলামের উপর, সোজা-সঠিক পথের উপর এবং আল্লাহর আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতো তবে আমি তাদের উপর প্রচুর বারি বর্ষণ করতাম এবং তাদের জীবিকায় প্রশস্ততা ও স্বচ্ছলতা দান করতাম। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জীল ও তাদের উপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, সঠিকভাবে কায়েম করতো এবং ভালভাবে মেনে চলতো তবে তারা তাদের উপর হতে ও নীচ হতে অর্থাৎ আসমান হতে ও যমীন হতে জীবিকা লাভ করতো।”(৫:৬৬) আর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “যদি গ্রামবাসী ঈমান আনতো ও ভয় করতো তবে আমি তাদের উপর আসমান ও যমীনের বরকত খুলে দিতাম।”(৭:৯৬)মহান আল্লাহর উক্তিঃ যদদ্বারা আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম যে, কে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং কে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।হযরত মুকাতিল (রঃ) বলেন যে, এই আয়াত মক্কার কুরায়েশ কাফিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, তখন তারা দীর্ঘ সাত বছরের দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়।দ্বিতীয় ভাবার্থ হলোঃ যদি তারা সবাই পথভ্রষ্ট হয়ে যেতো তবে আমি তাদের উপর জীবিকার দরজা খুলে দিতাম, যাতে তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নিকৃষ্টতম শাস্তির যোগ্য হয়ে পড়ে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “যখন তারা ভুলে বসলো, যে নসীহত তাদেরকে করা হয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর সবকিছুরই দরজা খুলে দিলাত, শেষ পর্যন্ত যখন তারা আনন্দে বিভোর হয়ে পড়লো তাদেরকে দেয়া সুখ সামগ্রীর কারণে তখন আকস্মিকভাবে আমি তাদের পাকড়াও করলাম, ফলে তারা সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে পড়লো।”(৬:৪৪) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ তারা কি ধারণা করে যে, আমি যে তাদের মাল ও সন্তান সন্ততি বৃদ্ধি করছি, এটা তাদের কল্যাণ সাধন করছি? (না, তা কখনো নয়) বরং তারা বুঝে না।” (২৩:৫৫-৫৬)এরপর বলা হচ্ছেঃ যে কেউ তার প্রতিপালকের যিকির হতে বিমুখ হয়, তার প্রতিপালক তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবি) হলো জাহান্নামের একটি পাহাড়ের নাম। আর হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাঃ) বলেন যে, ওটা জাহান্নামের একটি কূপের নাম।