Masuk
Masuk
Masuk
Pilih Bahasa

tafsir: As-Saffat 37:157

37:157
فاتوا بكتابكم ان كنتم صادقين ١٥٧
فَأْتُوا۟ بِكِتَـٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ١٥٧
فَأۡتُواْ
بِكِتَٰبِكُمۡ
إِن
كُنتُمۡ
صَٰدِقِينَ
١٥٧
(Kalau begitu) maka bawalah kitabmu jika kamu orang yang benar.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Refleksi
Jawaban
Qiraat
Hadits
Anda sedang membaca tafsir untuk kelompok ayat dari 37:149 hingga 37:160

১৪৯-১৬০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অহমিকার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা নিজেদের জন্যে তো পুত্র সন্তান পছন্দ করছে, আর আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করছে কন্যা সন্তান। তাদের কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে শুনলে তাদের মুখ কালো হয়ে যায়, অথচ তারা আল্লাহর জন্যে ওটাই সাব্যস্ত করে। তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদেরকে জিজ্ঞেস কর তো যে, এটা কি ধরনের বন্টন যে, তোমাদের জন্যে তো পুত্র সন্তান, আর আল্লাহর জন্যেই রয়েছে কন্যা সন্তান?এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে? যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা ঐ ফেরেশতাদেরকে নারী রূপে সাব্যস্ত করেছে যারা রহমানের (আল্লাহর) বান্দা, তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? সত্বরই তাদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তারা জিজ্ঞাসিত হবে।”(৪৩:১৯) প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের মিথ্যা উক্তি মাত্র যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে, অথচ তিনি সন্তান থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। এর ফলে তাদের তিনটি মিথ্যা ও তিনটি কুফরী পরিলক্ষিত হয়। (এক) ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান। (দুই) তারা আবার কন্যা। (তিন) তারা নিজেরাই ফেরেশতাদের পূজা করে। পরিশেষে এমন কোন জিনিস আল্লাহকে বাধ্য করেছে যে, তিনি নিজের জন্যে পুত্র গ্রহণ করেননি, বরং গ্রহণ করেছেন কন্যা? অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমাদেরকে তিনি দান করেছেন পুত্র আর নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে গ্রহণ করেছেন কন্যারূপে? এটা তো তোমাদের অতি নিম্ন পর্যায়ের বাজে ও ভিত্তিহীন কথা!” আরো বলা হয়েছেঃ “তোমাদের কি বিবেক বুদ্ধি নেই যে, তোমরা যুক্তিহীন কথা বলছো? তোমরা কি বুঝ না যে, আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা খুবই বড় অপরাধ? তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তোমাদের কি সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ আছে? যদি থেকে থাকে তবে তা পেশ কর? অথবা তোমাদের কাছে যদি কোন ঐশী বাণী থাকে তবে তাই আনয়ন কর? এটা এমনই এক বাজে কথা যে, এর স্বপক্ষে কোন জ্ঞানসম্মত ও শরীয়ত সম্মত দলীল প্রমাণ নেই। থাকতেই পারে না। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা আল্লাহ ও জ্বিন জাতির মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে। অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তাদেরকেও শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে।‘ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা' মুশরিকদের এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আবু বকর (রাঃ) প্রশ্ন করেনঃ “তাহলে তাদের মাতা কারা?” উত্তরে তারা বলেঃ “জ্বিন প্রধানদের কন্যারা।” অথচ অবস্থা এই যে, স্বয়ং জ্বিনেরা জানে এবং বিশ্বাস করে যে, যারা এই রূপ বলে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে আল্লাহর কতক শত্রু এমনই চরম পরিচয় দেয় যে, শয়তানকে তারা আল্লাহর ভাই বলে থাকে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিকা) আল্লাহ তাআলা এ থেকে আমাদেরকে নিরাপদে রাখুন! তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধে রয়েছেন। পরে যে ইসতিসনা বা স্বতন্ত্র করা। হয়েছে তা হলো ইসতিসনা মুনকাতি এবং তা (আরবী)-এর সাথে করা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় (আরবী) ক্রিয়া পদটির সর্বনামে সমগ্র মানব জাতিকে বুঝাবে। এতে ঐ সব লোককে পৃথক করা হবে, যারা সত্যের অনুগত এবং সমস্ত নবী রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এই ইসতিসনা হচ্ছে (আরবী)-এর জন্যে অর্থাৎ তাদের সকলকেই আযাবে পতিত হতে হবে, কিন্তু তারা নয় যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা। এ উক্তিটির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।