Masuk
Masuk
Masuk
Pilih Bahasa

tafsir: Al-Anfal 8:25

8:25
واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة واعلموا ان الله شديد العقاب ٢٥
وَٱتَّقُوا۟ فِتْنَةًۭ لَّا تُصِيبَنَّ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنكُمْ خَآصَّةًۭ ۖ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ٢٥
وَٱتَّقُواْ
فِتۡنَةٗ
لَّا
تُصِيبَنَّ
ٱلَّذِينَ
ظَلَمُواْ
مِنكُمۡ
خَآصَّةٗۖ
وَٱعۡلَمُوٓاْ
أَنَّ
ٱللَّهَ
شَدِيدُ
ٱلۡعِقَابِ
٢٥
Dan peliharalah dirimu dari siksaan yang tidak hanya menimpa orang-orang yang zalim saja di antara kamu. Dan ketahuilah bahwa Allah sangat keras siksaan-Nya.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Refleksi
Jawaban
Qiraat
Hadits

এখানে মুমিনদেরকে পরীক্ষা থেকে ভয় প্রদর্শন করা হচ্ছে যে, আল্লাহর পরীক্ষা পাপী ও নেককার সবারই উপর পতিত হবে। এই পরীক্ষা শুধু পাপীদের উপর নির্দিষ্ট নয়। হযরত যুবাইর (রাঃ)-কে বলা হয়েছিল- “হে আবু আব্দিল্লাহ (রাঃ)! আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমান (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে আপনারা তাঁকে হারিয়ে ফেলেছেন। অতঃপর এখন তার খুনের দাবীদার হচ্ছেন! খুনের যদি দাবীদারই হবেন তবে তাঁকে নিহত হতে দিলেন কেন?” হযরত যুবাইর (রাঃ) উত্তরে বলেছিলেনঃ “এটা ছিল আল্লাহর পরীক্ষা যার মধ্যে আমরা জড়িয়ে পড়েছি। আমরা নবী (সঃ), আবু বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) এবং উসমান (রাঃ)-এর যমানায় কুরআন কারীমের (আরবী) -এ আয়াতটি পাঠ করতাম। কিন্তু তখন আমাদের ধারণাও ছিল না যে, আমরাও এর মধ্যে পতিত হবো। শেষ পর্যন্ত ঐ পরীক্ষা আমাদের উপর এসে পড়েছে এবং মুসলমানদের দু’টি দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। হযরত উসমান (রাঃ)-এর হত্যাকে কেন্দ্র করেই এই পরীক্ষার সূচনা হয়েছে।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) ও বাযযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত হাসান বসরী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এই আয়াতটি হযরত আলী (রাঃ), হযরত আম্মার (রাঃ), হযরত তালহা (রাঃ) এবং যুবাইর (রাঃ)-এর। ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। হযরত যুবাইর (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ “আমরা সদা সর্বদা এ আয়াতটি পাঠ করতাম। কিন্তু এটা যে আমাদের উপরই সত্যরূপে প্রমাণিত হবে তা আমরা জানতাম না।” সুদ্দী (রঃ)-এর ধারণা এই যে, এ আয়াতটি বিশেষভাবে আহলে বদরের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। উষ্ট্রের যুদ্ধে তাদের উপরই এটা সত্যরূপে প্রমাণিত হয় এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর ধারণা মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য শুধু নবী (সঃ)-এর সাহাবীবর্গ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ “মুমিনদের উপর নির্দেশ রয়েছে- পাপর্কে তোমরা নিজেদের মধ্যে আসতে দিয়ো না। যেখানেই কাউকেও কোন অসৎ কার্যে লিপ্ত দেখতে পাও, সত্বরই তাকে তা থেকে বিরত রাখো। নতুবা শাস্তি সবার উপরই আসবে।” এটাই উত্তম তাফসীর। মুজাহিদ (রঃ) বলেনঃ “এ হুকুম তোমাদের জন্যেও বটে।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই এই পরীক্ষায় পতিত হবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই তোমাদের মালধন ও সন্তান সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষা।” (৬৪:১৫) সুতরাং তোমাদের সকলেরই ফির বিভ্রান্তি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। কেননা, এই ভয় প্রদর্শন সাহাবা ও গায়ের সাহাবা সবার উপরই রয়েছে। তবে এটা সঠিক কথা যে, এর দ্বারা সাহাবীদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে। এই হাদীসটি ফিত্না ও পরীক্ষাকে ভয় করার কথাই প্রমাণ করছে। এগুলো ইনশাআল্লাহ পৃথক পুস্তকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, যেমন ইমামগণও পৃথক পুস্তকের আকারে এই কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। এখানে বিশেষভাবে যেটা আলোচনা করা হয়েছে তা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেনঃ “মহামহিমান্বিত আল্লাহ বিশেষ বিশেষ লোকের আমলের কারণে সর্বসাধারণের উপর শাস্তি নাযিল করেন না। কিন্তু যখন বিশিষ্ট লোকগুলো কওমের মধ্যে গর্হিত কাজকর্ম ছড়ানো অবস্থায় দেখতে পায় এবং ওগুলো বন্ধ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে না এবং লোকদেরকে ঐসব কাজ করতে বাধা দেয় না তখন শাস্তি সাধারণভাবে এসে পড়ে এবং বিশিষ্ট ও সাধারণ সবাই ঐ শাস্তির শিকারে পরিণত হয়।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন যে, সুনানের কিতাবগুলোতে কেউই এটাকে তাখরীজ করেননি)রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর শপথ! যে পর্যন্ত তোমরা ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে থাকবে সেই পর্যন্ত তোমাদের উপর শাস্তি আসবে না। আর যখন তোমরা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ছেড়ে দেবে এবং ভাল কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান থেকে বিরত থাকবে তখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর কঠিনতম শাস্তি অবতীর্ণ করতে পারেন। অতঃপর তোমরা লক্ষবার দুআ করলেও সেই দুআ কবুল হবে না। অথবা আল্লাহ তোমাদের উপর অন্য কওমকে বিজয়ী করবেন। এরপর তোমাদের সমস্ত দুআ বিফল হয়ে যাবে।” (এ হাদীস দুটি হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) এবং হযরত ইসমাঈল ইবনে জাফর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন)আবু রাকাদ (রঃ) বলেন, আমি আমার এক গোলামকে হযরত হুযাইফা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালাম। সেই সময় তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যুগে কেউ এ ধরনের একটি মাত্র কথা বললেও তাকে মুনাফিক মনে করা হতো। কিন্তু আজ এক মজলিসে তোমাদের কোন একজনের মুখ থেকে আমি এরূপ চারটি কপটতাপূর্ণ কথা শুনতে পাচ্ছি! তোমাদের পক্ষে উচিত এই যে, তোমরা ভাল কাজের আদেশ করবে, মন্দ কাজ থেকে সত্বর বাধা দিবে এবং মানুষকে ভাল কাজে উৎসাহিত করবে। নতুবা তোমরা সবাই শাস্তিতে গ্রেফতার হয়ে যাবে অথবা এই ধরনের শাস্তি হবে যে, দুষ্ট লোককে তোমাদের উপর শাসনকর্তা বানিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর ভাল লোকেরা লাখবার দুআ করলেও তা বিফলে যাবে।হযরত আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ)-কে ভাষণ দিতে শুনেছি, তিনি নিজের দু’টি অঙ্গলি দ্বারা নিজের কানের দিকে ইশারা করছিলেন এবং বলছিলেন- আল্লাহর হুদূদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং আল্লাহর হুদূদকে লংঘনকারী অথবা তাতে অবহেলা প্রদর্শনকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এইরূপ যে, কতকগুলো তাক নৌকায় চড়ে আছে। উপরের লোকেরা নীচের লোকদের কষ্টের কারণ হয়ে গেছে এবং নীচের লোকেরা উপরের লোকদেরকে কষ্ট দিচ্ছে। অর্থাৎ নীচের লোকদের পানির প্রয়োজন হওয়ায় তারা পানি আনার জন্যে উপরে গেল। কিন্তু এর ফলে উপরের লোকদের কষ্ট হতে লাগলো। তাই ঐ নীচের লোকেরা বলাবলি করলো- যদি আমরা নৌকার নীচের দিক থেকেই কোন তক্তা সরিয়ে দিয়ে পানির পথ করে দেই তবে উপরের লোকদের কোন কষ্ট হবে না। এর ফল তো জানা কথা যে, নৌকায় পানি উঠার কারণে নৌকার আরোহীরা সবাই ডুবে মরবে। সুতরাং নৌকায় ছিদ্র করা থেকে তাদেরকে বাধা দেয়া উচিত। অনুরূপভাবে এই পাপীদেরকে যদি তোমরা পাপকাজে বাধা না দিয়ে ঐ অবস্থাতেই ছেড়ে দাও তবে নৌকায় আরোহীদের মত তোমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে, যদিও নৌকার উপরের আরোহীদের মত তোমাদের কোন দোষ নেই। কিন্তু এটা এরই শাস্তি যে, তোমরা পাপ কাজ থেকে বাধা প্রদান করনি। (এটা ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছি- “আমার উম্মতের মধ্যে পাপ যখন সাধারণভাবে প্রকাশ পাবে তখন আল্লাহ সাধারণভাবে শাস্তি পাঠাবেন।” তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! তাদের মধ্যে সৎ লোক থাকলেও কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, তারাও শাস্তিতে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু (মৃত্যুর পর) তারা আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভ করবে।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) অন্য একটি বর্ণনায় আছে- “কোন কওম পাপ কাজ করতে রয়েছে, আর তাদের মধ্যে কতকগুলো এমন লোকও রয়েছে যারা সম্ভ্রান্ত, তারা নিজেরা সেই পাপকার্যে লিপ্ত নয় বটে, কিন্তু তারা সেই কাজে বাধা প্রদান করে না, তখন আল্লাহ তাদের উপর সাধারণভাবে শাস্তি দিয়ে থাকেন।”হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন“যখন ভূ-পৃষ্ঠে পাপকার্য প্রকাশ পাবে তখন আল্লাহ দুনিয়াবাসীর উপর তার শাস্তি নাযিল করবেন।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাদের মধ্যে আল্লাহর অনুগত বান্দারাও থাকবে কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, তবে (মৃত্যুর পর) তারা আল্লাহর করুণা লাভ করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) তাখরীজ করেছেন)