Masuk
Masuk
Masuk
Pilih Bahasa

tafsir: Al-Baqarah 2:121

2:121
الذين اتيناهم الكتاب يتلونه حق تلاوته اولايك يومنون به ومن يكفر به فاولايك هم الخاسرون ١٢١
ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَـٰهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ يَتْلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُو۟لَـٰٓئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِۦ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِۦ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ ١٢١
ٱلَّذِينَ
ءَاتَيۡنَٰهُمُ
ٱلۡكِتَٰبَ
يَتۡلُونَهُۥ
حَقَّ
تِلَاوَتِهِۦٓ
أُوْلَٰٓئِكَ
يُؤۡمِنُونَ
بِهِۦۗ
وَمَن
يَكۡفُرۡ
بِهِۦ
فَأُوْلَٰٓئِكَ
هُمُ
ٱلۡخَٰسِرُونَ
١٢١
Orang-orang yang telah Kami beri Kitab, mereka membacanya sebagaimana mestinya, mereka itulah yang beriman kepadanya. Dan siapa yang ingkar kepadanya, mereka itulah orang-orang yang rugi.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Refleksi
Jawaban
Qiraat
Hadits
Anda sedang membaca tafsir untuk kelompok ayat dari 2:120 hingga 2:121

১২০-১২১ নং আয়াতের তাফসীর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে সান্ত্বনা প্রদানউপরোক্ত আয়াতের ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলেছেনঃ “হে নবী (সঃ) এ সব ইয়াহুদী ও নাসারা কখনও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না। সুতরাং তুমিও তাদের পরিত্যাগ কর এবং তোমার প্রভুর সন্তুষ্টির পিছনে লেগে যাও। তাদের প্রতি রিসালাতের দাওয়াত পৌছিয়ে দাও সত্য ধর্ম ওটাই যা আল্লাহ তাআলা তোমাকে প্রদান করেছেন। ওটাকে আঁকড়ে ধরে থাক।' হাদীস শরীফে আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে অন্যদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে থাকবে এবং বিজয় লাভ করবে। অবশেষে কিয়ামত সংঘটিত হবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নবীকে (সঃ) ধমকের সুরে বলেনঃ “হে নবী (স)! কখনও তুমি তাদের। সন্তুষ্টির জন্যে ও তাদের সাথে সন্ধির উদ্দেশ্যে স্বীয় ধর্মকে দুর্বল করে দিও না, তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না এবং তাদেরকে মেনে নিও না।" এ আয়াত থেকে ধর্মশাস্ত্রবিদগণ এই দলীল গ্রহণ করেছেন যে, কুফরী একটিই ধর্ম। ওটা ইয়াহুদী ধর্মই হোক বা খ্রীষ্টান ধর্মই হোক অথবা অন্য কোন ধর্মই হোক না কেন। কেননা (আরবি) শব্দটিকে এখানে এক বচনেই এনেছেন। যেমন এক জায়গায় আছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমাদের জন্যে তোমাদের ধর্ম আর আমার জন্যে আমার ধর্ম।”এই দলীলের উপর এই ধর্মীয় নীতির ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে যে, মুসলমান ও কাফির পরম্পর উত্তরাধিকারী হতে পারে না এবং কাফিরেরা পরস্পর একে অপরের উত্তরাধিকারী হতে পারে। তারা দুজন একই শ্রেণীর কাফিরই হোক বা বিভিন্ন শ্রেণীর কাফিরই হোক না কেন। ইমাম শাফিঈ (রঃ) এবং ইমাম আবু হানীফার (রঃ) এটাই মাযহাব। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলেরও (রঃ) একটি বর্ণনায় এই উক্তি রয়েছে। দ্বিতীয় বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) এবং ইমাম মালিকের এ উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে, দুই বিভিন্ন মাযহাবের কাফির একে অপরের উত্তরাধিকারী হতে পারে না। একটি বিশুদ্ধ হাদীসেও এটাই রয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন-“আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা সত্যভাবে বুঝবার মত করে পাঠ করে। কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বুঝান হয়েছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সহচরবৃন্দকে (রাঃ) বুঝান হয়েছে। হযরত উমার (রাঃ) বলেন যে, সত্য ভাবে পাঠ করার অর্থ হচ্ছে জান্নাতের বর্ণনার সময় জান্নাতের প্রার্থনা এবং জাহান্নামের বর্ণনার সময় জাহান্নাম হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা। হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, স্পষ্ট আয়াতগুলোর উপর আমল করা ও অস্পষ্ট আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনা এবং কঠিন বিষয়গুলো আলেমদের কাছে পেশ করাই হচ্ছে। তিলাওয়াতের হক আদায় করা। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে এর ভাবার্থ সত্যের অনুসরণ’ও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তিলাওয়াতের অর্থ হচ্ছে আনুগত্য। যেমন (আরবি) (৯১:২) এর মধ্যে। একটি মারফু হাদীসেও এর এ অর্থই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ সঠিক হলেও এর কোন কোন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত। হযরত আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন যে, কুরআন মাজীদের অনুসরণকারী জান্নাতের উদ্যানে অবতরণকারী। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পাঠের নিয়মহযরত উমারের (রাঃ) তাফসীর অনুসারে এটাও বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন রহমতের বর্ণনাযুক্ত কোন আয়াত পাঠ করতেন তখন থেমে গিয়ে আল্লাহ তা'আলার নিকট রহমত চাইতেন আর যখন কোন শাস্তির আয়াত পড়তেন তখন থেমে গিয়ে তার নিকট তা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।তারপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “ঐ সব লোকেই বিশ্বাস স্থাপন করছে', অর্থাৎকিতাবীদের মধ্যে যারা নিজেদের কিতাব বুঝে পাঠ করে তারা কুরআন মাজীদের উপর ঈমান আনতে বাধ্য হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ যদি জরা তাওরাত ও ইঞ্জীলের উপর এবং তাদের প্রভুর পক্ষ হতে তাদের উপর অবতারিত কিতাবের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতো তবে তারা তাদের উপর হতে এবং পায়ের নীচে হতে আহার্য পেতো।'আল্লাহ রাব্বল আলামীন অন্যত্র বলেনঃ হে আহলে কিতাব! যে পর্যন্ত তোমরা তাওরাত ও ইঞ্জীলকে এবং তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে তোমাদের উপর অবতারিত কিতাবকে প্রতিষ্ঠিত না করো সে পর্যন্ত তোমরা কোন কিছুর উপরই নও।' অর্থাৎ তোমাদের অবশ্য কর্তব্য এই যে, তোমরা তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন কারীমের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, ওগুলোর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবগুলোকেই সত্য বলে বিশ্বাস করবে। যেমন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এর গুণাবলীর বর্ণনা, তার অনুসরণের নির্দেশ এবং তাকে সর্বোতভাবে সাহায্য করার বর্ণনা ইত্যাদি সব কিছুই ঐ সব কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ যারা নিরক্ষর নবীর (সঃ) আনুগত্য স্বীকার করে, যার বর্ণনা ও সত্যতা তারা তাদের কিতাব তাওরাত' ও ইঞ্জীল’-এর মধ্যেও লিখিত দেখতে পায়। আর এক স্থানে তিনি বলেনঃ “হে নবী সঃ তুমি বল অেমরা এর উপর (কুরআন কারীমের উপর) বিশ্বাস স্থাপন কর কিংবা নাই কর (কোন ক্ষতি নাই); এর পূর্বে যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, যখন এ কুরআন মজীদ তাদের সামনে পঠিত হতে থাকে, তখন তারা চিবুকের উপর সিজদায় পড়ে যায় এবং বলে-আমাদের প্রভু পবিত্র! নিঃসন্দেহে আমাদের প্রভুর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়ে থাকে। অন্যত্র ঘোষিত হয়েছেঃ “যাদেরকে আমি এর পূর্বে কিতাব দিয়েছি তারা এর উপরও ঈমান এনে থাকে। যখন তাদের উপর এ কিতাব পাঠ করা হয় তখন তারা তাদের ঈমানের স্বীকারোক্তি কবুতঃ বলে আমরা এর উপর ঈমান এনেছি, এটা আমাদের প্রভুর পক্ষ হতে সত্য, আমরা এর পূর্ব হতেই মুসলমান ছিলাম। এদেরকেই দ্বিগুণ প্রতিদান দেয়া হবে; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল, ভাল দ্বারা মন্দকে সরিয়ে দিয়েছিল এবং আমার প্রদত্ত আহার্য হতে দান করেছিল।আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ “কিতাব প্রাপ্তদেরকে বলে দাও-তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ করছো? যদি তারা মেনে নেয় তবে তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়েছে, আর ফদি না মানে তবে তোমার দায়িত্ব শুধুমাত্র পৌঁছিয়ে দেয়া এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেছেন যে, একে অমান্যকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। যেমন বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ যে কেউই এর সাথে কুফরী করবে তার প্রতিশ্রুত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। (১১:১৭) বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যার আয়ত্বাধীনে আমার প্রাণ রয়েছে, তার শপথ! এই উম্মতের মধ্যে যে কেউই ইয়াহূদীই হোক বা খ্রীষ্টানই হোক আমার কথা শুনার পরেও আমার উপর ঈমান আনে না সে দোযখে প্রবেশ করবে।'