Registrazione
Registrazione
Registrazione
Seleziona la lingua
27:49
قالوا تقاسموا بالله لنبيتنه واهله ثم لنقولن لوليه ما شهدنا مهلك اهله وانا لصادقون ٤٩
قَالُوا۟ تَقَاسَمُوا۟ بِٱللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُۥ وَأَهْلَهُۥ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِۦ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِۦ وَإِنَّا لَصَـٰدِقُونَ ٤٩
قَالُواْ
تَقَاسَمُواْ
بِٱللَّهِ
لَنُبَيِّتَنَّهُۥ
وَأَهۡلَهُۥ
ثُمَّ
لَنَقُولَنَّ
لِوَلِيِّهِۦ
مَا
شَهِدۡنَا
مَهۡلِكَ
أَهۡلِهِۦ
وَإِنَّا
لَصَٰدِقُونَ
٤٩
Dissero, giurando fra loro [in nome] di Allah 1: «Attaccheremo di notte, lui e la sua famiglia. Poi diremo a chi vorrà vendicarlo: “Non siamo stati testimoni dello sterminio della sua famiglia 2. Davvero siamo sinceri”».
Tafsir
Strati
Lezioni
Riflessi
Risposte
Qiraat
Hadith
Stai leggendo un tafsir per il gruppo di versi 27:48 a 27:53

৪৮-৫৩ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, সামূদ সম্প্রদায়ের শহরে নয়জন ঝগড়াটে ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী লোক ছিল। তাদের স্বভাব বা প্রকৃতিতে সংস্কার বা শুদ্ধকরণের মূল জিনিস কিছুই ছিল না। তারাই ছিল সামূদ সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোক। তাদেরই পরামর্শক্রমে উন্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছিল। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনামতে তাদের নামগুলো হলোঃ দামী, দায়ীম, হারাম, হারীম, দা’ব, সওয়াব, রিবাব, মিসতা এবং কিদার ইবনে সালিফ (আল্লাহ তাদের অবস্থা মন্দ করুন ও তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করুন!)। এদের শেষোক্ত ব্যক্তিটিই নিজের হাতে হযরত সালেহ (আঃ)-এর উষ্ট্রীটির পা কেটে ফেলেছিল। যার বর্ণনা নিম্নের আয়াতগুলোতে রয়েছে।(আরবি) অর্থাৎ “অতঃপর তারা তাদের এক সঙ্গীকে আহ্বান করলো, সে ওকে ধরে হত্যা করলো। (৫৪: ২৯) (আরবি) অর্থাৎ “তাদের মধ্যে যে সর্বাধিক হতভাগ্য সে যখন তৎপর হয়ে উঠলো।” (৯১: ১২)এরা ছিল ঐ সব লোক যারা দিরহামের হুঁচকে কিছুটা কেটে দিতে এবং ওটাকেই চালিয়ে দিতো। ছাঁচকে কেটে দেয়াও এক প্রকারের বিপর্যয় সৃষ্টি। যেমন সুনানে আবি দাউদ প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে রয়েছে যে, যে মুদ্রা মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে ওকে বিনা প্রয়োজনে কাটতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিষেধ করেছেন। মোটকথা, তারা এ ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টিও করতো এবং আরো নানা প্রকারের ফাসাদ সৃষ্টি করতো। ঐ অপবিত্র দল একত্রিত হয়ে পরামর্শ গ্রহণ করলোঃ “আজ রাত্রে সালেহ (আঃ)-কে এবং তার পরিবারবর্গকে হত্যা করে ফেলো। এতে তারা সবাই একমত হয়ে দৃঢ়ভাবে শপথ ও প্রতিজ্ঞা করলো। কিন্তু তারা হযরত সালেহ (আঃ)-এর নিকট পৌছার পূর্বেই আল্লাহ তাআলার শাস্তি তাদের উপর আপতিত হলো এবং তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেল। উপর থেকে একটি পাথর গড়িয়ে গড়িয়ে আসলো। ঐসব নেতার মাথা ফুটে গেল। একই সাথে সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হলো। তাদের সাহস খুবই বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে যখন তারা হযরত সালেহ (আঃ)-এর উস্ত্রীকে হত্যা করলো এবং দেখলো যে, কোন শাস্তি এলো না তখন তারা আল্লাহর নবী হযরত সালেহ (আঃ)-কে হত্যা করতে উদ্যত হলো। তারা পরস্পর পরামর্শ করলোঃ “তোমরা গোপনে তাকে ও তার ছেলেমেয়েদেরকে হঠাৎ হত্যা করে ফেলে এবং তার আত্মীয়-স্বজন ও কওমের লোকদেরকে বলো-তাদের খবর আমরা কি জানি? আমরা তাদের কোন খবরই রাখি না।”তখন আল্লাহ তাদের সকলকেই ধ্বংস করে দেন। তারা আরো বলেছিলঃ “যদি সালেহ (আঃ) সত্যই নবী হয় তবে তাকে আমরা হাতে পাবো না। আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উস্ত্রীর সাথে তাকেও আমরা সেলাই করে দেবো।” এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তারা বের হয়ে পড়লো। তারা পথেই ছিল এমতাবস্থায় ফেরেশতা তাদের সবারই মস্তিষ্ক টুকরো টুকরো করে ফেলেন। তাদের পরামর্শে অন্য যেসব দল শরীক ছিল তারা যখন দেখলো যে, অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে অথচ তারা ফিরে আসছে না তখন তারা তাদের খবর নিতে এসে দেখে যে, তাদের সবারই মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে গেছে এবং সবাই মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তখন তারা হযরত সালেহ (আঃ)-কে তাদের হত্যাকারী বলে অপবাদ দেয় এবং তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। কিন্তু তাঁর কওমের লোকেরা ইতিমধ্যে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসে পড়ে এবং তাদেরকে বলে- “দেখো, সালেহ (আঃ) তো তোমাদেরকে বলেছেন যে, তিন দিনের মধ্যে তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে পড়বে। তাহলে যদি তিনি তার কথায় সত্যবাদী হন তবে তাঁকে হত্যা করলে আল্লাহ তোমাদের প্রতি আরো অসন্তুষ্ট ও রাগান্বিত হবেন এবং তোমাদের উপর আরো কঠিন শাস্তি আপতিত হবে। আর যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন তবে তিনি তোমাদের হাত হতে যাবেন কোথায়?” তাঁর কওমের এ কথা শুনে ঐ দুষ্ট লোকেরা ফিরে যায়। সত্যিই হযরত সালেহ (আঃ) ঐ লোকদের পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছিলেনঃ “যদি তোমরা আল্লাহর উন্ত্রীকে হত্যা করে ফেলো তবে তিন দিন পর্যন্ত তোমরা মজা উড়িয়ে নাও। অতঃপর আল্লাহর সত্য ওয়াদা প্রকাশিত হবেই।”হযরত সালেহ (আঃ)-এর মুখে এ কথা শুনে ঐ উদ্ধত লোকগুলো পরস্পরের মধ্যে বলাবলি করলোঃ “এ লোকটি তো বহুদিন হতেই এ কথা বলে আসছে। এসো, আজই এর ফায়সালা হয়ে যাক।” যে পাহাড়ের মধ্য হতে উষ্ট্ৰীটি বের হয়েছিল ঐ পাহাড়েই হযরত সালেহ (আঃ)-এর একটি মসজিদ ছিল, যেখানে তিনি নামায পড়তেন। তারা পরামর্শ করলো যে, যখন তিনি নামাযের উদ্দেশ্যে বের হবেন তখন পথেই তাকে হত্যা করে ফেলতে হবে। এই উদ্দেশ্যে যখন তারা পাহাড়ের উপর উঠতে শুরু করলো তখন তারা লক্ষ্য করলো যে, উপর হতে একটি বিরাট পাথর গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে। ওটা থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা একটি গুহার মধ্যে প্রবেশ করলো। পাথরটি এসে গুহাটির মুখে এমনভাবে থেমে গেল যে, ওর মুখ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেল। ফলে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। কারো কোন খবর রইলো না যে, এ লোকগুলো কোথায় গেল। এখানে তো এরা এভাবে ধ্বংস হলো আর ওদিকে বাকী লোকেরা তাদের জায়গাতেই ধ্বংস হয়ে গেল। না এদের খবর ওরা পেলো এবং না ওদের খবর এরা পেলো। হযরত সালেহ (আঃ) এবং তাঁর অনুসারী মুমিনদের তারা কোনই ক্ষতি করতে পারলো না। বরং তারা নিজেদেরই জীবন আল্লাহর শাস্তিতে নষ্ট করে ফেললো।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও তাদেরকে তাদের চক্রান্তের মজা চাখিয়ে দিলাম। তারা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে গেল যে, ক্ষণেক পূর্বেও তারা এটা বুঝতে পারেনি। ঐ চক্রান্তকারীদের পরিণাম এই হলো যে, তারা সবাই ধ্বংস হয়ে গেল।মহান আল্লাহ বলেনঃ এই তো তাদের ঘরবাড়ী, তাদের সীমালংঘন হেতু জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাদের যুলুম ও বাড়াবাড়ির কারণে তাদের জাঁকজমকপূর্ণ শহর ধূলিসাৎ করে দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা জ্ঞানী লোকেরা অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। যারা মুমিন ও মুত্তাকী ছিল তাদেরকে আমি উদ্ধার করেছি।