Registrazione
Registrazione
Registrazione
Seleziona la lingua

Tafsir: Al-A'raf 7:56

7:56
ولا تفسدوا في الارض بعد اصلاحها وادعوه خوفا وطمعا ان رحمت الله قريب من المحسنين ٥٦
وَلَا تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَـٰحِهَا وَٱدْعُوهُ خَوْفًۭا وَطَمَعًا ۚ إِنَّ رَحْمَتَ ٱللَّهِ قَرِيبٌۭ مِّنَ ٱلْمُحْسِنِينَ ٥٦
وَلَا
تُفۡسِدُواْ
فِي
ٱلۡأَرۡضِ
بَعۡدَ
إِصۡلَٰحِهَا
وَٱدۡعُوهُ
خَوۡفٗا
وَطَمَعًاۚ
إِنَّ
رَحۡمَتَ
ٱللَّهِ
قَرِيبٞ
مِّنَ
ٱلۡمُحۡسِنِينَ
٥٦
Non spargete la corruzione sulla terra, dopo che è stata resa prospera. InvocateLo con timore e desiderio. La misericordia di Allah è vicina a quelli che fanno il bene.
Tafsir
Strati
Lezioni
Riflessi
Risposte
Qiraat
Hadith
Stai leggendo un tafsir per il gruppo di versi 7:55 a 7:56

৫৫-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাদেরকে প্রার্থনা করার নিয়ম-নীতি শিক্ষা দিচ্ছেন যা তাদের জন্যে দ্বীন ও দুনিয়ায় মুক্তি লাভের কারণ। তিনি বলেনঃ তোমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর। যেমন তিনি বলেনঃ ‘প্রভুকে স্বীয় অন্তরে স্মরণ কর।' জনগণ উচ্চ স্বরে প্রার্থনা করতে শুরু করে দিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের নফসের উপর দয়া কর । তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। তোমরা যার নিকট প্রার্থনা করছো তিনি নিকটেই রয়েছেন এবং সবকিছু শুনছেন।” অত্যন্ত কাকুতি মিনতি এবং অনুনয় বিনয়ের সাথে দুআ করবে। খুবই নত হয়ে সংগোপনে প্রার্থনা জানাবে এবং আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখবে। বাগাড়ম্বর করে উচ্চ স্বরে দুআ করা উচিত নয়। বিয়াকারী থেকে বাঁচবার জন্যে পূর্বকালের লোকেরা কুরআনের হাফিয হওয়া সত্ত্বেও জনগণ ঘুণাক্ষরেও তাঁদের হাফিয হওয়ার কথা জানতে পারতো না। তারা রাত্রে নিজ নিজ ঘরে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামায পড়তেন এবং তাঁদের ঘরে মেহমান থাকতো, অথচ তারা তাঁদের নামাযের টেরই পেতো না। কিন্তু আজকাল আমরা এ ধরনের লোক দেখতে পাই যে, সংগোপনে ইবাদত করার যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা সদা-সর্বদা প্রকাশ্যভাবে ইবাদত করে থাকে। পূর্ব যুগের মুসলমানরা যখন দুআ করতেন তখন শুধু ফিফিস শব্দ ছাড়া তাদের মুখ থেকে কোন শব্দ শোনা যেতো না। কেননা আল্লাহ পাক বলেনঃ “তোমরা বিনীতভাবে ও সংগোপনে তোমাদের প্রভুকে ডাকো।" আল্লাহ পাক তাঁর এক মনোনীত বান্দার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যখন সে স্বীয় প্রভুকে ডাকতো তখন খুবই উচ্চ স্বরে ডাকতো। শব্দকে উচ্চ করা অত্যন্ত অপছন্দনীয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) (আরবী) -এর তাফসীরে বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- প্রার্থনায় সীমালংঘনকে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন না। আবু মুজলি (রঃ) বলেনঃ “তোমরা নবীদের পদ মর্যাদা লাভ করার জন্যে দুআ করো না।সা'দ (রঃ) স্বীয় পুত্রকে দেখেন যে, সে প্রার্থনা করছেঃ “হে আল্লাহ! আমি জান্নাত, জান্নাতের নিয়ামতরাজি এবং তথাকার রেশমী বস্ত্রের জন্যে প্রার্থনা করছি, আর জাহান্নাম হতে, জাহান্নামের শৃংখল ও বেড়ি হতে আশ্রয় চাচ্ছি।” তখন তিনি পুত্রকে বলেনঃ হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি-“নিকটবর্তী যামানায় এমন লোক সৃষ্ট হবে যারা প্রার্থনা করতে গিয়ে সীমালংঘন করবে এবং অযু করার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করবে।” অতঃপর তিনি (আরবী) -এই আয়াতটি পাঠ করেন। হে আমার পুত্র! তোমার জন্যে তো শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট, “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং জান্নাতের নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজের জন্যে প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম হতে ও জাহান্নামের নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজ হতে আশ্রয় চাচ্ছি।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রঃ) স্বীয় পুত্রকে দেখেন যে, সে দুআ করছে- “হে আল্লাহ! আমি জান্নাতের ডান দিকের সাদা প্রাসাদটি যাঙ্ক্ষা করছি।” তখন তিনি পুত্রকে বলেনঃ “হে বৎস! আল্লাহর কাছে শুধু জান্নাতের জন্যে প্রার্থনা কর এবং শুধু জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাও।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ), ইবনে মাজাহ (রঃ) এবং আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন যে, এর ইসনাদ উত্তম)আল্লাহ পাকের উক্তিঃ দুনিয়ায় শান্তি শৃংখলা স্থাপনের পর ওতে বিপর্যয় ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করো না। কেননা, শান্তি ও নিরাপত্তার পরে ফাসাদ বিশৃংখলা অত্যন্ত খারাপ। কারণ, কাজ-কারবার যখন শান্ত পরিবেশে চলতে থাকে তখন যদি বিশৃংখলা সৃষ্টি করা হয় তবে বান্দা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা। (আরবী) কথাটি যোগ করেছেন। আর তিনি বিনয়ের সাথে দুআ করতে বলেছেন। তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ শাস্তির ভয় করে এবং নিয়ামত ও সাওয়াবের আশা রেখে তোমরা প্রার্থনা কর। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি সন্নিকটে। অর্থাৎ তাঁর রহমত সৎ লোকদের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা হচ্ছে ঐসব লোক যারা আল্লাহর নির্দেশাবলী মান্য করে চলে এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকে। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমার রহমত প্রত্যেক জিনিসকে ধারণ করে রয়েছে। (৭:১৫৬) মহান আল্লাহ (আরবী) বলেছেন, (আরবী) বলেননি। অথচ (আরবী) শব্দটি বা (আরবী) স্ত্রীলিঙ্গ। সুতরাং (আরবী) টিও স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া উচিত ছিল। এটাকে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করার কারণ এই যে, (আরবী) শব্দটিকে (আরবী) -এর অর্থে নিয়ে (আরবী) হিসেবে পুংলিঙ্গ ধরা হয়েছে। অথবা এও হতে পারে যে, আল্লাহ পাকের সত্তার দিকে একে (আরবী) করা হয়েছে বলে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে। আনুগত্যের কারণে সকর্মশীল লোকেরা আল্লাহ তা'আলার অঙ্গীকারের ছায়ায় আশ্রয় পেয়েছে এবং তাঁর রহমতের নিকটবর্তী হয়েছে।