Registrazione
Registrazione
Registrazione
Seleziona la lingua

Tafsir: Yunus 10:93

10:93
ولقد بوانا بني اسراييل مبوا صدق ورزقناهم من الطيبات فما اختلفوا حتى جاءهم العلم ان ربك يقضي بينهم يوم القيامة فيما كانوا فيه يختلفون ٩٣
وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍۢ وَرَزَقْنَـٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ فَمَا ٱخْتَلَفُوا۟ حَتَّىٰ جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِى بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ٩٣
وَلَقَدۡ
بَوَّأۡنَا
بَنِيٓ
إِسۡرَٰٓءِيلَ
مُبَوَّأَ
صِدۡقٖ
وَرَزَقۡنَٰهُم
مِّنَ
ٱلطَّيِّبَٰتِ
فَمَا
ٱخۡتَلَفُواْ
حَتَّىٰ
جَآءَهُمُ
ٱلۡعِلۡمُۚ
إِنَّ
رَبَّكَ
يَقۡضِي
بَيۡنَهُمۡ
يَوۡمَ
ٱلۡقِيَٰمَةِ
فِيمَا
كَانُواْ
فِيهِ
يَخۡتَلِفُونَ
٩٣
Insediammo i Figli di Israele in un paese sicuro e li provvedemmo di cibo eccellente e non furono discordi se non quando venne loro la scienza 1. In verità il tuo Signore, nel Giorno della Resurrezione, deciderà a proposito delle loro divergenze.
Tafsir
Strati
Lezioni
Riflessi
Risposte
Qiraat
Hadith

আল্লাহ তাআলা বানী ইসরাঈলের উপর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক নিয়ামতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ আমি তাদেরকে বসবাসের জন্যে উত্তম জায়গা দান করেছি। অর্থাৎ মিসর ও সিরিয়া, যা বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটেই অবস্থিত । আল্লাহ তা'আলা যখন ফিরআউন ও তার দলবলকে ধ্বংস করে দেন। তখন তিনি মিসরের উপর মূসা (আঃ)-এর শাসন পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “আর আমি সেই লোকদেরকে, যারা অতিশয় দুর্বল বিবেচিত হতো, সেই ভূখণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী করে দিলাম যাতে আমি (যাহেরী ও বাতেনী) বরকত রেখেছি; আর তোমার প্রতিপালকের মঙ্গলকর অঙ্গীকার বানী ইসরাঈলের প্রতি পূর্ণ হলো তাদের ধৈর্যধারণের কারণে, আর আমি ধ্বংস করে দিলাম ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের তৈরী কারখানাসমূহ এবং যেসব সুউচ্চ প্রাসাদ তারা নির্মাণ করতে।” অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশেষে আমি তাদেরকে (ফিরআউন ও তার কওমকে) বাগানসমূহ ও ঝর্ণাসমূহ হতে বের করে দিলাম। আর ধন-ভাণ্ডারসমূহ এবং উত্তম প্রাসাদ হতেও। (আমি) এইরূপ করলাম; আর তাদের পরে বানী ইসরাঈলকে তৎসমুদয়ের মালিক করে দিলাম।” মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ “তারা ছেড়ে গিয়েছিল কতই না উদ্যান ও ঝর্ণাসমূহ!”বানী ইসরাঈল কিন্তু মূসা (আঃ)-এর কাছে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের জন্যে আবেদন জানায়, যা ইবরাহীম খলীল (আঃ)-এর বাসভূমি ছিল। ঐ সময় বায়তুল মুকাদ্দাস ‘আমালেকা সম্প্রদায়ের অধিকারভুক্ত ছিল। বানী ইসরাঈলকে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে বলা হলে তারা অস্বীকার করে বসে। আল্লাহ পাক তখন তাদেরকে তীহ ময়দানে হারিয়ে দেন। চল্লিশ বছর ধরে তারা সেখানে উড্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এর মধ্যে হারূন (আঃ) ইন্তেকাল করেন এবং পরে মূসাও (আঃ) মৃত্যুমুখে পতিত হন। অতঃপর বানী ইসরাঈল ইউশা ইবেন নূন (আঃ)-এর সাথে তীহের ময়দান হতে বেরিয়ে পড়েন এবং তাঁর হাতে আল্লাহ তা'আলা বায়তুল মুকাদ্দাস বিজিত করেন। কিছুকাল এটা তার অধিকারে থাকে। তারপর ‘বাখতে নাসার’ তা দখল করে নেয়। এরপর ইউনানী রাজাদের ওর উপর আধিপত্য লাভ হয়। বহুদিন পর্যন্ত ওর উপর এদের শাসন চলতে থাকে । এই সময়ের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)-কে সেখানে পাঠিয়ে দেন। ইয়াহূদীরা ঈসা (আঃ)-এর সাথে খুবই দুর্ব্যবহার করে এবং রটনা করে যে, তিনি জনগণের মধ্যে ফিৎনা ফাসাদ সৃষ্টি করছেন। ইউনানী বাদশাহ তাকে ধরে শূলে দেয়ার ইচ্ছা করে। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় একজন হাওয়ারীকে ঈসা (আঃ) মনে করে তারা তাকে ধরে শূলে চড়িয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “প্রকৃতপক্ষে তারা তাকে হত্যা করেনি বরং আল্লাহ তাকে তার কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়।” অতঃপর ঈসা (আঃ)-এর প্রায় তিনশ’ বছর পর কুসতুনতীন’ নামক একজন ইউনানী বাদশাহ খ্রীষ্টান ধর্ম ককূল করে। কিন্তু সে ছিল একজন দার্শনিক। কেউ বলে যে, ভয়ে সে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল, আবার একথাও বলা হয়েছে যে, ঈসা (আঃ)-এর ধর্মে ফিৎনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বাহানা করে সে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল। খ্রীষ্টান পাদ্রীরা তার নির্দেশক্রমে শরীয়তের নতুন নতুন আইন তৈরী করে নেয়, বিদআত ছড়িয়ে দেয়, ছোট বড় গীজা ও ইবাদতখানা নির্মাণ করে এবং প্রতিমা ও মূর্তি বানিয়ে নেয়। ঐ সময় খ্রীষ্টান ধর্ম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতে বহু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হতে থাকে। সন্যাসীত্ব ও বৈরাগ্য সৃষ্টি হয়ে গেল এবং ঈসা (আঃ)-এর সত্য ধর্মের বিরোধিতা শুরু হয়ে গেল। প্রকৃত ধর্ম শুধুমাত্র কয়েকজন ধার্মিক লোকের মধ্যেই অবশিষ্ট থাকলো। এখন এরাও বৈরাগীদের আকারে জঙ্গলে ও প্রান্তরে গীর্জা তৈরী করে থাকতে লাগলো। সিরিয়া, জাযীরা এবং রোম দেশের উপর খ্রীষ্টানদের প্রতিপ্রত্তি জমে গেল। ঐ সম্রাটই (কুতুনতীন) কুসতুনতুনিয়া (কনৃস্টান্টিনোপল) ও কামামা শহর স্থাপন করলো। বায়তুল মুকাদ্দাসের মধ্যে বায়তুল লাহাম’ ও গীজা নির্মাণ করলো এবং হাওরানের শহর স্থাপন করলো, যেমন বুসরা ইত্যাদি। সে বড় বড় ও মজবুত অট্টালিকাসমূহ নির্মাণ করলো । এখান থেকেই ক্রুশ-পূজার সূচনা হয়, যা সুদূর প্রাচ্য পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ওখানেও গীর্জা নির্মাণ করা হয়। তারা শূকরের মাংস হালাল করে নেয়। দ্বীনের মূল ও শাখার মধ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত বিদআত সৃষ্টি হয়। বাদশাহর নির্দেশক্রমে শরীয়তের নতুন নতুন বিধান বানিয়ে নেয়া হয়। এর ব্যাখ্যা খুবই দীর্ঘ। মোটকথা, ঐ শহরগুলোর উপর তাদের কর্তৃত্ব সাহাবীদের যুগ পর্যন্ত চলতে থাকে। অবশেষে বায়তুল মুকাদ্দাস উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর হাতে বিজিত হয়। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য। আল্লাহ পাক বলেন, আমি তাদেরকে আহার করবার জন্যে উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহ দান করেছি। কিন্তু মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তারা ঐ ব্যাপারে মতভেদ করতে থাকে। অথচ মাযহাব সম্পর্কে মতভেদ সৃষ্টি করার কোনই কারণ ছিল না। আল্লাহ তাআলা তো সমস্ত কথাই অতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছিলেন।হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ইয়াহুদীরা একাত্তরটি দল বানিয়ে নিয়েছিল, আর খ্রীষ্টানরা বানিয়ে নিয়েছিল বাহাত্তরটি দল । আমার উম্মত তেহাত্তরটি দল বানিয়ে নেবে। ওগুলোর মধ্যে শুধু একটি দল মুক্তিপ্রাপ্ত হবে এবং বাকী সবগুলোই হবে জাহান্নামী। জিজ্ঞেস করা হলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ঐ একটি দল কোনটি? তিনি উত্তরে বললেনঃ “যার উপর আমি ও আমার সাহাবীবর্গ রয়েছি।” (এ হাদীসটি ইমাম হাকিম (রঃ) তাঁর ‘মুসতাদরিক’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)আল্লাহ তা'আলা বলেন, নিশ্চয়ই আমি কিয়ামতের দিন ঐ সব বিষয়ের উপর মীমাংসা করবো, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছিল।