Log masuk
Log masuk
Log masuk
Pilih Bahasa
54:35
نعمة من عندنا كذالك نجزي من شكر ٣٥
نِّعْمَةًۭ مِّنْ عِندِنَا ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى مَن شَكَرَ ٣٥
نِّعۡمَةٗ
مِّنۡ
عِندِنَاۚ
كَذَٰلِكَ
نَجۡزِي
مَن
شَكَرَ
٣٥
Sebagai limpah kurnia dari Kami. Demikianlah kami membalas orang-orang yang bersyukur.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Hadis
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 54:33 hingga 54:40

৩৩-৪০ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত লূত (আঃ)-এর কওমের খবর দেয়া হচ্ছে যে, কিভাবে তারা তাদের রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল এবং কিভাবে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করে এমন জঘন্য কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। যে কাজ তাদের পূর্বে কেউ কখনো করেনি, অর্থাৎ মেয়েদেরকে ছেড়ে ছেলেদের সাথে কুকার্যে লিপ্ত হওয়ায় তাদের ধ্বংসের অবস্থাটাও ছিল তাদের কাজের মতই অসাধারণ ও অদ্ভুত। আল্লাহ তা'আলার নির্দেশক্রমে হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাদের বস্তীটিকে আকাশের কাছে উঠিয়ে নেন এবং সেখান হতে উল্টোভাবে নীচে নিক্ষেপ করেন। আর আকাশ হতে তাদের নামে নামে পাথর বর্ষাতে থাকেন। কিন্তু হযরত লুত (আঃ)-এর অনুসারীদেরকে প্রত্যুষে অর্থাৎ রাত্রির শেষ ভাগে বাচিয়ে নেন। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন ঐ বস্তী ছেড়ে চলে যান। হযরত লূত (আঃ)-এর কওমের কেউই ঈমান আনেনি। এমন কি স্বয়ং হযরত লুত (আঃ)-এর স্ত্রীও বে-ঈমান ছিল। তাঁর কওমের একটি লোকও ঈমান আনয়নের সৌভাগ্য লাভ করেনি। সুতরাং আল্লাহর আযাব হতেও কেউই রক্ষা পায়নি। তাঁর কওমের সাথে সাথে তাঁর স্ত্রীও ধ্বংস হয়ে যায়। শুধুমাত্র তিনি ও তাঁর কন্যাগণ এই ভয়াবহ শাস্তি হতে রক্ষা পান। মহান আল্লাহ এভাবেই তার কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে বিপদের সময় রক্ষা করে থাকেন এবং তাদেরকে তাদের কৃতজ্ঞতার সুফল প্রদান করেন।শাস্তি আসার পূর্বেই হযরত লূত (আঃ) স্বীয় কওমকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তারা তাঁর কথায় মোটেই কর্ণপাত করেনি। বরং তারা সন্দেহ পোষণ করে তাঁর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছিল। আর তার মেহমানদেরকে তাঁর নিকট হতে ছিনতাই করতে চেয়েছিল। হযরত জিবরাঈল (আঃ), হযরত মীকাঈল (আঃ), হযরত ইসরাফীল (আঃ) প্রমুখ মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতাগণ মানুষের রূপ ধরে হযরত লূত (আঃ)-এর বাড়ীতে মেহমান হয়ে এসেছিলেন। তারা অত্যন্ত সুন্দর চেহারা ও সুঠাম দেহ বিশিষ্ট তরুণ যুবকদের রূপ ধারণ করেছিলেন। এদিকে রাত্রিকালে তারা হযরত লুত (আঃ)-এর বাড়ীতে অবতরণ করেছেন, আর ওদিকে তার বে-ঈমান স্ত্রী কওমকে খবর দিয়ে দেয় যে, হযরত লূত (আঃ)-এর বাড়ীতে সুদৃশ্য যুবকদের দল মেহমান রূপে আগমন করেছেন। এ খবর পেয়েই ঐ দুশ্চরিত্র লোকগুলো দৌড়িয়ে আসে এবং হযরত লূত (আঃ)-এর বাড়ী ঘিরে ফেলে। হযরত লূত (আঃ) তখন দরযা বন্ধ করে দেন। কিভাবে এই মেহমানদেরকে হাতে পাওয়া যায় এই সুযোগের অপেক্ষায় ঐ লোকগুলো ওঁৎ পেতে থাকে। যখন এসব কাণ্ড চলছিল তখন ছিল সন্ধ্যাকাল। হযরত লূত (আঃ) তাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করছিলেন। তিনি তাদেরকে বলছিলেনঃ “আমার এই কন্যাগুলো অর্থাৎ তোমাদের স্ত্রীগুলো বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা এই দুষ্কার্য পরিত্যাগ করে তোমাদের হালাল স্ত্রীদের দ্বারা তোমাদের কাম বাসনা চরিতার্থ কর।” কিন্তু ঐ দুবৃত্তের দল জবাবে বলেছিলঃ “আপনি তো জানেন যে, স্ত্রীদের প্রতি আমাদের কোন আকর্ষণ নেই। আমরা যে কি চাই তা তো আপনার অজানা নয়। আপনি আপনার মেহমানদেরকে আমাদের হাতে সমর্পণ করে দিন!” যখন এই তর্ক-বিতর্কে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় এবং ঐ লোকগুলো আক্রমণোদ্যত হয় এবং হযরত লুত (আঃ) তাদের এই দুর্ব্যবহারে অত্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন তখন হযরত জিবরাঈল (আঃ) বেরিয়ে আসেন এবং তাঁর পাখা তাদের চোখের উপর দিয়ে ফিরিয়ে দেন। ফলে তারা সবাই অন্ধ হয়ে যায়। তাদের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পায়। তারা তখন দেয়াল হাতড়াতে হাতড়াতে এবং হযরত লূত (আঃ)-কে গালমন্দ দিতে দিতে সকালের ওয়াদা দিয়ে পশ্চাদপদে ফিরে যায়। কিন্তু সকালেই তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে, যা হতে না তারা পালাতে পারলো, না শাস্তি দূর করতে সক্ষম হলো। তাই তো মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ ‘আস্বাদন কর আমার শাস্তি এবং সতর্কবাণীর পরিণাম। হযরত লুত (আঃ)-এর উপদেশবাণীর প্রতি কর্ণপাত না করার শাস্তি তারা আস্বাদন করলো ।এই কুরআন কারীম খুবই সহজ, যে কেউই ইচ্ছা করলে এটা হতে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?