Log masuk
Log masuk
Log masuk
Pilih Bahasa
4:52
اولايك الذين لعنهم الله ومن يلعن الله فلن تجد له نصيرا ٥٢
أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ ۖ وَمَن يَلْعَنِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ نَصِيرًا ٥٢
أُوْلَٰٓئِكَ
ٱلَّذِينَ
لَعَنَهُمُ
ٱللَّهُۖ
وَمَن
يَلۡعَنِ
ٱللَّهُ
فَلَن
تَجِدَ
لَهُۥ
نَصِيرًا
٥٢
(Kaum Yahudi yang demikian sikapnya) mereka itulah orang-orang yang dilaknat oleh Allah; dan sesiapa yang dilaknat oleh Allah, maka engkau tidak sekali-kali akan mendapati sesiapa pun yang boleh menolongnya.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Hadis
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 4:49 hingga 4:52

৪৯-৫২ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত হাসান বসরী (রঃ) এবং হযরত কাতাদাহ্ (রঃ) বলেন যে, (আরবী)-এ আয়াতটি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। যখন তারা বলেছিলঃ “আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয় পাত্র এবং আরও বলেছিলঃ ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে না।'মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তারা তাদের নাবালক ছেলেদেরকে দুআ ও নামাযে তাদের ইমাম করতো এবং তাদেরকে নিস্পাপ বলে ধারণা করতো। এও বর্ণিত আছে যে, তাদের ধারণায় তাদের যেসব ছেলে মারা গেছে তাদের মাধ্যমে তারা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করবে এবং তারা তাদের জন্যে আল্লাহ পাকের নিকট সুপারিশ করবে ও তাদেরকে পবিত্র করবে। তাদের এ বিশ্বাস খণ্ডনে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ইয়াহূদীদের তাদের ছেলেদেরকে ইমাম করার ঘটনা বর্ণনা করে বলেনঃ তারা মিথ্যাবাদী। আল্লাহ তাআলা কোন পাপীকে কোন নিম্পাপের কারণে পবিত্র করেন না। তারা বলতোঃ আমাদের শিশুরা যেমন নিস্পাপ, দ্রুপ আমরাও নিস্পাপ।' এও বলা হয়েছে যে, হযরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন প্রশংসাকারীর মুখ মাটির দ্বারা পূর্ণ করে দেই। সহীহ বুখারীর ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে রয়েছে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি লোককে অন্য একটি লোকের প্রশংসা করতে শুনতে পেয়ে বলেনঃ ‘অফসোস! তুমি তোমার সঙ্গীর স্কন্ধ কেটে দিলে।' অতঃপর বলেনঃ 'যদি তোমাদের কারও কোন ব্যক্তির প্রশংসা করা অপরিহার্য হয়েই পড়ে তবে যেন সে বলে-আমি অমুক ব্যক্তিকে এরূপ মনে করি। কিন্তু সে প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহ তা'আলার নিকট এরূপই পবিত্র এ কথা যেন না বলে।মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি বলে-আমি আলেম সে মূর্খ এবং যে বলে -আমি জান্নাতী সে জাহান্নামী।' তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর মধ্যে রয়েছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “তোমাদের উপর আমার সবচেয়ে ভয় এই যে, কেউ স্বীয় মতকেই পছন্দ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে যে, সে একজন মুমিন, সে কাফির। যে বলে যে, সে একজন আলেম সে মূর্খ এবং যে বলে যে, সে জান্নাতে রয়েছে। সে জাহান্নামে রয়েছে।'মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, হযরত মু'আবিয়া (রাঃ) খুব কম হাদীস বর্ণনা করতেন এবং খুব কম জম‘আই এরূপ গেছে যেখানে তিনি নিম্নের কথাগুলো বলেননিঃ ‘যার প্রতি আল্লাহ তা'আলা মঙ্গলের ইচ্ছে করেন তাকে তিনি ধর্মের বোধ শক্তি দান করেন। এ মাল হচ্ছে মিষ্ট ও সবুজ রঙ্গের। সুতরাং এটা যে তার হকের সাথে গ্রহণ করবে তার জন্যে তাতে বরকত দেয়া হবে। তোমরা একে অপরের প্রশংসা করা হতে বিরত হও। কেননা, এটা হচ্ছে যবেহু করারই তুল্য।' এ পরের বাক্যটি হযরত মুআবিয়া (রাঃ) হতে সুনান-ই-ইবনে মাজার মধ্যেও বর্ণিত রয়েছে।ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ সকালে মানুষ তার ধর্ম নিয়ে বের হয়। অতঃপর যখন সে ফিরে আসে তখন তার নিকট তার ধর্মের কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। (এভাবে যে,) সে কারও সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার প্রশংসা করতে আরম্ভ করে দেয় ও শপথ করে করে বলেঃ “নিশ্চয়ই আপনি এরূপই বটে, আপনি এরূপই বটে।' অথচ না সে তার ক্ষতির অধিকারী, না লাভের অধিকারী এবং এ কথাগুলোর পরেও হয়তো তার দ্বারা কোন কাজ হয় না। অথচ সে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে দিলো। অতঃপর তিনি (আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ। করেন। এর বিস্তারিত বর্ণনা (আরবী) (৫৩:৩২)-এ আয়াতের তাফসীরে ইনশাআল্লাহ আসবে। তাই, এখানে বলা হচ্ছেঃ বরং আল্লাহ তা'আলাই যাকে ইচ্ছে পবিত্র করেন। কেননা, সমুদয় জিনিসের মূলতত্ত্ব একমাত্র তিনিই জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘তারা সূত্র পরিমাণও অত্যাচারিত হবে না।' অর্থাৎ তিনি সূত্রের ওজন পরিমাণও কারোও পুণ্য ছেড়ে দেবেন না। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে খেজুরের আঁটির মধ্যস্থলের সূত্রটি। আবার এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, ওটা হচ্ছে ঐ সূতা যা অঙ্গুলি দ্বারা পাকানো হয়।এরপর আল্লাহ পাক বলেন- লক্ষ্য কর, কিরূপে তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে!' যেমন তারা বলছে, আমরা আল্লাহর পুত্র ও প্রিয় পাত্র, ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান ছাড়া আর কেউ জান্নাতে যাবে না, আমাদেরকে নির্দিষ্ট সামান্য কয়েক দিন জাহান্নামে থাকতে হবে। আর যেমন তারা তাদের পূর্বপুরুষের সত্ত্বার্যের উপর নির্ভর করে রয়েছে। অথচ একের কাজ অন্যকে কোন উপকার দেয় না। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-(আরবী) অর্থাৎ ‘ওটা একটা দল যা অতীত হয়েছে, তারা যা উপার্জন করেছে তা তাদের সঙ্গে এবং তোমরা যা উপার্জন করেছে তা তোমাদের সঙ্গে। (২:১৩৪)এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তাদের এসব কথা বলাই তাদের প্রকাশ্য অপরাধী হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেন যে (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে যাদু' এবং (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে শয়তান। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), আবুল আলিয়া (রঃ), মুজাহিদ (রঃ), আতা’ (রঃ), ইকরামা (রঃ), সাঈদ ইবনে যুবাইর (রঃ), শাবী (রঃ), হাসান বসরী (রঃ), যহ্হাক (রঃ) এবং সুদ্দীও (রঃ) একথাই বলেন। এও বলা হয়েছে যে, (আরবী) হচ্ছে আবিসিনীয় শব্দ। ওর অর্থ হচ্ছে শয়তান। এটা শিরক, প্রতিমা, যাদুকর ইত্যাদি অর্থেও এসেছে। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা হুয়াই ইবনে আখতাবকে বুঝান হয়েছে। আবার কারও কারও মতে এ হচ্ছে কাব ইবনে আশরাফ। হাদীসে রয়েছে যে, পাখীসমূহের নাম নিয়ে শুভাশুভ সূচিত করা এবং মাটিতে রেখা টেনে কার্যাবলীর মীমাংসা করা হচ্ছে (আরবী) হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, (আরবী) হচ্ছে শয়তানের গুন গুন শব্দ। (আরবী) শব্দের বিশ্লেষণ সূরা-ই-বাকারায় হয়ে গেছে, সুতরাং এখানে ওর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।হযরত জাবির (রাঃ) (আরবী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেনঃ তারা ছিল যাদুকর এবং তাদের নিকট শয়তান আসতো।' মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তারা হচ্ছে মানুষ রূপী শয়তান। তাদের নিকট মানুষ তাদের বিবাদ নিয়ে উপস্থিত হয় এবং তাদেরকে বিচারক মেনে থাকে। হযরত ইমাম মালিক (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে প্রত্যেক ঐ জিনিস, আল্লাহ তাআলা ছাড়া যার ইবাদত করা হয়।এরপর আল্লাহ পাক বলেন- তাদের মূর্খতা, ধর্মহীনতা এবং স্বীয় গ্রন্থের সাথে কুফরী এত চরমে পৌছে গেছে যে, তারা কাফিরদেরকে মুসলমানদের উপর প্রাধান্য ও মর্যাদা দিয়ে থাকে। মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত ইকরামা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হুয়াই ইবনে আখতাব এবং কা'ব ইবনে আশরাফ মক্কাবাসীদের নিকট আগমন করে। মক্কাবাসীরা তাদেরকে বলেঃ তোমরা আহলে কিতাব ও পণ্ডিত লোক। আচ্ছা বলতে আমরা ভাল, না মুহাম্মাদ (সঃ) ভাল? তখন তারা বলেঃ “তোমরা কি এবং মুহাম্মাদ (সঃ) কি? মক্কাবাসীরা বলেঃ আমরা আত্মীয়তার বন্ধন যুক্ত রাখি, উট যবেহ্ করে আহার করিয়ে থাকি, দুগ্ধ মিশ্রিত পানি পান করিয়ে থাকি, ক্রীতদাসদেরকে মুক্ত করিয়ে থাকি। হাজীদেরকে পানি পান করিয়ে থাকি। পক্ষান্তরে মুহাম্মাদ (সঃ) তো আমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছে এবং গেফার গোত্রের চোর হাজীরা তাঁর সঙ্গলাভ করেছে। এখন বলতো, আমরা ভাল, না সে ভাল? তখন ঐ দু’জন বলেঃ “তোমরাই ভাল। তোমরাই সোজা ও সঠিক পথে রয়েছ।সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তাদের ব্যাপারেই (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। বানূ অয়েল ও বা নাযীর গোত্রের কয়েকজন নেতৃস্থানীয় লোক যখন আরবে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করছিল এবং ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল, সে সময় যখন তারা কুরাইশদের নিকট আগমন করে তখন কুরাইশরা তাদেরকে আলেম ও দরবেশ মনে করে জিজ্ঞেস করেঃ বলুন তো আমাদের ধর্ম উত্তম, না মুহাম্মাদ (সঃ)-এর ধর্ম উত্তম? ঐলোকগুলো বলেঃ “তোমাদের ধর্মই উত্তম এবং তোমরাই অধিকতর সঠিক পথে রয়েছে। সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে অভিশপ্ত দল বলে ঘোষণা করা হয়। আরও বলা হয় যে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। তারা শুধু কাফিরদেরকে নিজেদের দলভুক্ত করার জন্যই তাদের জ্ঞানের বিপরীত এ তোষামোদমূলক কথাগুলো উচ্চারণ করছে। কিন্তু তাদের জেনে রাখা উচিত যে, তারা কৃতকার্য হতে পারে না। বাস্তবে হয়েছিলও তাই। তারা সমস্ত আরবকে দলভুক্ত করতঃ এ সম্মিলিত বিরাট সৈন্য বাহিনী নিয়ে মদীনার উপর আক্রমণ চালায়। ফলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) মদীনার চতুর্দিকে পরিখা খনন করতে বাধ্য হন। অবশেষে সারা জগত দেখে নেয় যে, তাদের ষড়যন্ত্র তাদের উপরই প্রত্যাবর্তিত হয়। তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে আসতে হয়। আল্লাহ তা'আলাই মুসলমানদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে যান এবং স্বীয় প্রতাপ ও ক্ষমতার বলে কাফিরদেরকে উল্টো মুখে নিক্ষেপ করেন।