Log masuk
Log masuk
Log masuk
Pilih Bahasa

Tafsir: Al-Baqarah 2:45

2:45
واستعينوا بالصبر والصلاة وانها لكبيرة الا على الخاشعين ٤٥
وَٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى ٱلْخَـٰشِعِينَ ٤٥
وَٱسۡتَعِينُواْ
بِٱلصَّبۡرِ
وَٱلصَّلَوٰةِۚ
وَإِنَّهَا
لَكَبِيرَةٌ
إِلَّا
عَلَى
ٱلۡخَٰشِعِينَ
٤٥
Dan mintalah pertolongan (kepada Allah) dengan jalan sabar dan mengerjakan sembahyang; dan sesungguhnya sembahyang itu amatlah berat kecuali kepada orang-orang yang khusyuk;
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Hadis
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 2:45 hingga 2:46

৪৫-৪৬ নং আয়াতের তাফসীরএ আয়াতে মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের কাজে ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে।কর্তব্য পালন করতে এবং নামায পড়তে বলা হয়েছে। রোযা রাখাও হচ্ছে ধৈর্য ধারণ করা। এ জন্যেই রমযান মাসকে ধৈর্যের মাস বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “রোযা অর্ধেক ধৈর্য। ধৈর্যের ভাবার্থ পাপের কাজ হতে বিরত থাকাও বটে। এ আয়াতে যদি ধৈর্যের ভাবার্থ এটাই হয়ে থাকে তবে মন্দ কাজ হতে বিরত থাকাও পুণ্যের কাজ করা এ দুটোরই বর্ণনা হয়ে গেছে। পুণ্যের কার্যসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে নামায। হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ ধৈর্য দু'প্রকার। (১) বিপদের সময় ধৈর্য, (২) পাপের কাজ হতে বিরত থাকার ব্যাপারে ধৈর্য। দ্বিতীয় ধৈর্য প্রথম ধৈর্য হতে উত্তম।' হযরত সাঈদ বিন যুবাইর (রঃ) বলেনঃ প্রত্যেক জিনিস আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে মানুষের এটা স্বীকার করা, পুণ্য প্রার্থনা করা এবং বিপদের প্রতিদানের ভাণ্ডার আল্লাহর নিকটে আছে এ মনে করার নাম ধৈর্য।' আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ধৈর্যধারণ করলেও আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করা হয়। পুণ্যের কাজে নামায দ্বারা বিশেষ সাহায্য পাওয়া যায়। স্বয়ং কুরআন মাজীদে ঘোষিত হয়েছেঃ “তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, নিশ্চয় এ নামায সমুদয় নির্লজ্জ ও অশোভনীয় কাজ হতে বিরত রাখে, আর আল্লাহর স্মরণই হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম বস্তু।' হযরত হুযাইফা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখনই কোন কঠিন ও চিন্তাযুক্ত কাজের সম্মুখীন হতেন তখনই তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।খন্দকের যুদ্ধে রাতের বেলায় হযরত হুযাইফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খেদমতে হাজির হলে তাকে নামাযে দেখতে পান। হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ বদর যুদ্ধের রাত্রে আমরা সবাই শুয়ে গেছি, আর দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সারা রাত নামাযে রয়েছেন। সকাল পর্যন্ত তিনি নামায ও প্রার্থনায় লেগে রয়েছেন। তাফসীর-ই-ইবনে জারীরে আছে যে, নবী করীম (সঃ) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে দেখতে পান যে, তিনি ক্ষুধার জ্বালায় পেটের ব্যাথায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন। তিনি ফারসী ভাষায় তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ (আরবি) অর্থাৎ ‘তোমার পেটে কি ব্যথা আছে?' তিনি বলেনঃ হাঁ।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘উঠো, নামায আরম্ভ কর, এতে রোগমুক্তি রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) সফরে তার ভাই কাসামের (রাঃ) মৃত্যু সংবাদ পেয়ে (আরবি) (২:১৫৬) পাঠ করতঃ পথের এক ধারে সরে গিয়ে উটকে বসিয়ে দেন এবং নামায শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ নামায পড়ার পর সাওয়ারীর নিকট আসেন এবং এই আয়াত দু’টি পড়তে থাকেন। মোটকথা ধৈর্য ও নামায এ দু'টো দ্বারা আল্লাহর করুণা লাভ করা যায়।(আরবি)-এর (আরবি) সর্বনামটি কেউ কেউ (আরবি)-এর দিকে ফিরিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এর (আরবি) হচ্ছে (আরবি) অর্থাৎ (আরবি) শব্দটি। যেমন কারূণের ঘটনায় (আরবি)-এর (আরবি) সর্বনামটি এবং মন্দের বিনিময়ে ভাল করার হুকুমে (আরবি) এর (আরবি) সর্বনামটি। ভাবার্থ এই যে, ধৈর্য ও নামায এ দু'টি প্রত্যেকের সাধ্যের মধ্যে নয়। এ অংশ হচ্ছে ঐ দলের জন্যে যারা আল্লাহকে ভয় করে থাকে। অর্থাৎ কুরআনকে মান্যকারী সত্য মুমিন, বিনয়ী, আনুগত্য স্বীকারকারী এবং জান্নাতের অঙ্গীকার ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরগণই এ বিশেষণে বিশেষিত হবে। যেমন হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেনঃ ‘এটা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু যার উপরে আল্লাহর অনুগ্রহ হয় তার জন্যে সহজ। ইবনে জারীর (রঃ) আয়াতটির অর্থ করতে গিয়ে বলেন যে, এটাও ইয়াহুদীদেরকে লক্ষ্য করেই বলা হয়েছে। কিন্তু স্পষ্ট কথা এই যে, বর্ণনাটি তাদের জন্যে হলেও। আদেশ হিসেবে সাধারণ। আল্লাহই সবচেয়ে বেশী জানেন। বিনয়ীগণসামনে এগিয়ে (আরবি)-এর বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে, এখানে ধারণা অর্থ বিশ্বাস, যদিও এটা সন্দেহের অর্থেও এসে থাকে। যেমন (আরবি) শব্দটি অন্ধকারের অর্থেও আসে এবং আলোর অর্থেও আসে। অনুরূপভাবে (আরবি) শব্দটি অভিযোগকারী ও অভিযোগের প্রতিকারকারী উভয়ের জন্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এরকম আরও বহু শব্দ আছে যেগুলো দু'টি বিভিন্ন জিনিসের উপর ব্যবহৃত হয়ে থাকে (আরবি) শব্দটি (আরবি) এ অর্থে ব্যবহার আরব কবিদের কবিতায়ও দেখা যায়। স্বয়ং কুরআন মাজীদেরই অন্য স্থানে আছেঃ (আরবি)অর্থাৎ ‘পাপীরা জাহান্নাম দেখে বিশ্বাস করে নেবে যে, নিশ্চয় তারা তার মধ্যে পতিত হয়ে যাবে।' (১৮:৫৩) এখানেও (আরবি) শব্দটি (আরবি) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন কি হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, কুরআন মাজীদের মধ্যে এরকম প্রত্যেক জায়গাতে শব্দটি (আরবি)-এর (আরবি) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।আবুল আলিয়াও (রঃ) এখানে (আরবি)-এর অর্থ (আরবি) করে থাকেন। হযরত মুজাহিদ (রঃ), সুদ্দী (রঃ), রাবী' বিন আনাস (রঃ) এবং কাতাদারও (রঃ) মত এটাই। ইবনে জুরাইযও (রঃ) এ কথাই বলেন। কুরআন মাজীদের অন্য জায়গায় আছেঃ (আরবি) অর্থাৎ আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে (৬৯:২০)।একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, কিয়ামতের দিন এক পাপীকে আল্লাহ তা'আলা বলবেন-“আমি কি তোমাকে স্ত্রী ও সন্তানাদি দেইনি? তোমার প্রতি কি নানা প্রকারের অনুগ্রহ করিনি, ঘোড়া ও উটকে কি তোমার অধীনস্থ করিনি? তোমাকে কি শান্তি, আরাম, আহার্য ও পানীয় দেইনি? সে বলবে-হা', হে প্রভু! এ সব কিছুই ছিল, তখন আল্লাহ বলবেন-“তবে তোমার কি এই জ্ঞান ও বিশ্বাস ছিল না যে, তোমাকে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে? সে বলবে-হাঁ, হে প্রভু! এর প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আল্লাহ বলবেন-“তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে তেমনই আমিও তোমাকে ভুলে গেলাম। এ হাদীসেও (আরবি) এ শব্দটি এসেছে এবং (আরবি)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর আরও বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ (আরবি) (৫৯:১৯)-এর তাফসীরে আসবে।