Log masuk
Log masuk
Log masuk
Pilih Bahasa

Tafsir: Al-Mumtahanah 60:9

60:9
انما ينهاكم الله عن الذين قاتلوكم في الدين واخرجوكم من دياركم وظاهروا على اخراجكم ان تولوهم ومن يتولهم فاولايك هم الظالمون ٩
إِنَّمَا يَنْهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ قَـٰتَلُوكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَـٰرِكُمْ وَظَـٰهَرُوا۟ عَلَىٰٓ إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ ٩
إِنَّمَا
يَنۡهَىٰكُمُ
ٱللَّهُ
عَنِ
ٱلَّذِينَ
قَٰتَلُوكُمۡ
فِي
ٱلدِّينِ
وَأَخۡرَجُوكُم
مِّن
دِيَٰرِكُمۡ
وَظَٰهَرُواْ
عَلَىٰٓ
إِخۡرَاجِكُمۡ
أَن
تَوَلَّوۡهُمۡۚ
وَمَن
يَتَوَلَّهُمۡ
فَأُوْلَٰٓئِكَ
هُمُ
ٱلظَّٰلِمُونَ
٩
Sesungguhnya Allah hanyalah melarang kamu daripada menjadikan teman rapat orang-orang yang memerangi kamu kerana ugama (kamu), dan mengeluarkan kamu dari kampung halaman kamu, serta membantu (orang lain) untuk mengusir kamu. Dan (ingatlah), sesiapa yang menjadikan mereka teman rapat, maka mereka itulah orang-orang yang zalim.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Hadis
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 60:7 hingga 60:9

৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর: কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনের নিষেধাজ্ঞার পর এবং তাদের হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ্ তা'আলা এখন বলেনঃ হতে পারে যে, অদূর ভবিষ্যতে আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে দিবেন। শক্রতা, ঘৃণা ও বিচ্ছেদের পর হয়তো তিনি তোমাদের ও তাদের মধ্যে প্রেম-প্রীতি ও মহব্বত সৃষ্টি করে দিবেন। কোন্ জিনিস এমন আছে যে, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা ওর উপর ক্ষমতা রাখেন না? তিনি পৃথক পৃথক ও পরস্পর বিরোধী জিনিসকে একত্রিত করার ক্ষমতা রাখেন। শত্রুতার পর বন্ধুত্ব সৃষ্টি করার হাত তার রয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী)অর্থাৎ “তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন। ফলে তার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ্ ওটা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন।” (৩:১০৩)রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) আনসারদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট পাইনি? অতঃপর আল্লাহ আমারই কারণে তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন। তোমরা পৃথক পৃথক ছিলে, তারপর আমারই কারণে আল্লাহ্ তোমাদেরকে একত্রিত করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ (আরবী)অর্থাৎ “আল্লাহ্ তিনিই যিনি তোমাকে (নবী সঃ -কে) তাঁর সাহায্যের দ্বারা এবং মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তাদের হৃদয়ে তিনি প্রেম-প্রীতি ও মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ভূ-পৃষ্ঠে যত কিছু আছে সবই যদি তুমি খরচ করতে তবুও তাদের হৃদয়ে প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসা সৃষ্টি করতে পারতে না। বরং আল্লাহই তাদের হৃদয়ে ভালবাসার সঞ্চার করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়।” (৮:৬২-৬৩) একটি হাদীসে এসেছেঃ “বন্ধুত্বের সময়ও একথা স্মরণ রেখো যে, কোন সময় শত্রুতা হয়ে যেতে পারে এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই। আর শত্রুতায়ও সীমালংঘন করে যেয়ো না। কেননা, এই শত্রুতার পরে বন্ধুত্ব হয়ে যেতে পারে এতেও বিস্ময়ের কিছুই নেই।” কোন কবি বলেছেনঃ (আরবী)অর্থাৎ “এমন দুই জন শত্রু যারা একে অপর হতে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে রয়েছে এবং তারা পূর্ণরূপে ধারণা করেছে যে, তারা পরস্পরে কখনো মিলিত হবে না, এদেরকেও আল্লাহ্ একত্রিত করে থাকেন এবং এমনভাবে তাদেরকে মিলিত করেন যে, তারা যেন কখনো দুই জন ছিলই না।” আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। কাফির তাওবা করলে তিনি তার তাওবা কবুল করে থাকেন। সে যখন তাঁর প্রতি ঝুঁকে পড়ে তখন তিনি তাকে নিজের করুণার ছায়ায় স্থান দেন, গুনাহ্ যত বড়ই হোক না কেন এবং গুনাহগার যেই হোক না কেন। সে যখনই মালিকের দিকে ঝুঁকে পড়ে তখনই তাঁর রহমতের তরঙ্গ উথলিয়ে ওঠে। হযরত মুকাতিল ইবনে হাইয়ান (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি হযরত আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারূবের (রাঃ) ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। তাঁর কন্যা উম্মে হাবিবাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বিয়ে করে নেন। আর এই বিবাহই মহব্বতের কারণ হয়ে যায়। কিন্তু এ উক্তিটি মনে ধরে না। কেননা, এই বিবাহ মক্কা বিজয়ের বহু পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। আর সর্বসম্মত মত এই যে, হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) মক্কা বিজয়ের রাত্রে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বরং এর চেয়ে উত্তম ব্যাখ্যা ওটাই যা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। তা এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) হযরত আবু সুফিয়ান সার ইবনে হারূবকে (রাঃ) ইয়ামনের কতক অংশের উপর আমিল নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) ইন্তেকাল করেন তখন হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) মদীনায় আগমন করছিলেন। পথে যুল-খিমারের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ। সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে গিয়েছিল। তখন হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) তার সাথে যুদ্ধ করেন। সুতরাং ধর্মত্যাগীর বিরুদ্ধে প্রথম জিহাদকারী তিনিই ছিলেন। হযরত ইবনে শিহাব (রঃ) বলেন যে, হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ)-এর ব্যাপারেই (আরবী)- এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার তিনটি আবেদন রয়েছে। যদি অনুমতি দেন তবে তা আরয করি।” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “ঠিক আছে, বল।” তখন তিনি বললেনঃ “আমাকে আপনি অনুমতি দিন যে, আমি কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবো যেমন (পূর্বে) মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করতাম।” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “হা (ঠিক আছে)।” তিনি বললেনঃ “আমার পুত্র মুআবিয়া (রাঃ)-কে আপনার অহী লেখক নিযুক্ত করুন!” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “হ্যাঁ (তাই হবে)।” অতঃপর তিনি বললেনঃ “আমার উত্তম আরবী কন্যা উম্মে হাবীবাহ্ (রাঃ)-কে আপনি বিয়ে করে নিন!” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এটাও মেনে নিলেন। এ ব্যাপারে সমালোচনা আছে যা পূর্বে গত হয়েছে। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ “যেসব কাফির তোমাদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়নি এবং তোমাদেরকে বহিষ্কারও করেনি, যেমন স্ত্রীলোকে এবং দুর্বল লোকেরা, তাদের সাথে তোমরা সদ্ব্যবহার, ইহসান এবং আদল ও ইনসাফ করতে থাকো। এরূপ করতে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। বরং তিনি তো এরূপ ন্যায়পরায়ণ লোকদেরকে ভালবাসেন। হযরত আসমা বিনতে আবি বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমার মাতা মুশরিকা থাকা অবস্থায় আমার নিকট আগমন করে, এটা ঐ যুগের ঘটনা যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও মক্কার কুরায়েশদের মধ্যে সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত ছিল। আমি তখন নবী (সঃ)-এর নিকট এসে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার মা আমার নিকট আগমন করেছে এবং সে ইসলাম হতে বিমুখ। সুতরাং আমি তার সাথে (আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে) মিলিত হবো?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যাঁ, তুমি তোমার মাতার সাথে মিলিত হও (ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখো)।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন)মুসনাদে আহমাদের এক রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, তার নাম ছিল কাতীলাহ্। সে পনীর, ঘি ইত্যাদি উপঢৌকন হিসেবে আনয়ন করেছিল। কিন্তু হযরত আসমা (রাঃ) প্রথমে না তাঁর মাতাকে তার বাড়ীতে স্থান দিয়েছিলেন, না তার উপঢৌকন গ্রহণ করেছিলেন। বরং তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তাকে তার বাড়ীতে স্থানও দেন। হযরত বাযযার (রঃ)-এর বর্ণনায় হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)-এর নামও রয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। কেননা হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর মাতার নাম ছিল উম্মে রূমান এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তারপর তিনি মদীনায় হিজরত করেছিলেন। হ্যাঁ, তবে হযরত আসমা (রাঃ)-এর মাতা উম্মে রূমান ছিল না, বরং তাঁর মাতার নাম ছিল কাতলা, যেমন উপরের হাদীসে বর্ণিত হলো। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সব চেয়ে ভাল জানেন। -এর তাফসীর সূরায়ে হুজুরাতে গত হয়েছে যে, হলো ঐ লোকেরা যারা তাদের পরিবারবর্গের ব্যাপারে হলেও ন্যায় বিচার করে থাকে (এবং যদিও ঐ বিচার তাদের পরিবারবর্গের বিপক্ষে হয়)। আল্লাহ্ তা'আলার আরশের ডান দিকে নূরের মিম্বরের উপর তারা সমাসীন থাকবে।মহান আল্লাহ্ বলেনঃ আল্লাহ্ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদের বহিষ্করণে সাহায্য করেছে। অতঃপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মুশরিকদের সাথে মেলামেশাকারী ও বন্ধুত্বকারীদেরকে ধমকের সুরে বলছেনঃ যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারা তো যালিম। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী)অর্থাৎ “হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও নাসারাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন।” (৫:৫১)