Aanmelden
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren

Tafseer: Al-Mu'minun 23:84

23:84
قل لمن الارض ومن فيها ان كنتم تعلمون ٨٤
قُل لِّمَنِ ٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهَآ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٨٤
قُل
لِّمَنِ
ٱلۡأَرۡضُ
وَمَن
فِيهَآ
إِن
كُنتُمۡ
تَعۡلَمُونَ
٨٤
Zeg: “Aan wie behoort de aarde en alles wat zich daarop bevindt? Als jullie het maar weten!”
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 23:84tot 23:90

৮৪-৯০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় একত্ব, সৃষ্টির কর্তৃত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা ও আধিপত্য সাব্যস্ত করছেন যাতে অবহিত হওয়া যায় যে, প্রকৃত মা’রূদ একমাত্র তিনিই। তার ইবাদত ছাড়া আর কারো ইবাদত করা মোটেই উচিত নয়। তিনি এক, তাঁর কোনই অংশীদার নেই। তাই তিনি স্বীয় সম্মানিত রাসূল (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ তুমি এই মুশরিকদেরকে জিজ্ঞেস কর- এই পৃথিবী এবং এতে যা কিছু আছে সে সব কার, যদি তোমরা জাননা? তারা অবশ্যই উত্তরে বলবেঃ আল্লাহর; সুতরাং তুমি তাদেরকে বলঃ তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? সৃষ্টিকর্তা এবং মালিক যখন একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কেউ নয় তখন তিনি একাই কেন মা'বুদ হবেন না? কেনই বা তার সাথে অন্যদের ইবাদত করা হবে? প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তারা তাদের মা’বৃদদেরকেও আল্লাহর সৃষ্ট ও তাঁর দাস বলেই বিশ্বাস করে। কিন্তু তাদেরকে তাঁর নৈকট্য লাভকারী মনে করে এই উদ্দেশ্যে তাদের ইবাদত করে যে, তাদের মাধমে তারাও তাঁর নৈকট্য লাভ করবে। সৰাং নবী (সঃ)-কে বলা হচ্ছে, তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কে সপ্তাকাশ ও আরশের অধিপতি? অবশ্যই তারা উত্তর দেবে যে, এগুলোর অধিপতি হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। তাহলে হে রাসূল (সঃ)! তুমি আবারও তাদেরকে বলঃ এই স্বীকারোক্তির পরেও কি তোমরা এতোটুকুও বুঝ না যে, ইবাদতের যোগ্য একমাত্র তিনিই? কেননা, সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতা তো তিনি ছাড়া আর কেউই নয়? তিনিই আকাশকে মাখলুকের জন্যে ছাদ স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। যেমন হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর শান বা মাহাত্ম্য খুবই বড়। তাঁর আরশ আকাশসমূহের উপর এই ভাবে রয়েছে। তিনি স্বীয় হস্ত মুবারক দ্বারা ইশারা করে গম্বুজের মত দেখিয়ে দেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)অন্য হাদীসে আছে যে, সপ্ত আকাশ, সপ্ত যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত সমস্ত মাখলূক কুরসীর তুলনায় এমনই যেমন কোন প্রশস্ত সমতল ভূমিতে কোন বৃত্ত। আর কুরসীও সমুদয় জিনিসসহ আরশের তুলনায় ঠিক অনুরূপ। পূর্বযুগীয় কোন কোন গুরুজন হতে বর্ণিত আছে যে, আরশের একদিক হতে অন্য দিকের দূরত্ব হলো পঞ্চাশ হাজার বছরের পথ। সপ্ত যমীন হতে ওর উচ্চতা পর্যন্ত দূরত্ব হচ্ছে পঞ্চাশ হাজার বছরের পথ। আরশের উচ্চতার কারণেই ওর এই নামকরণ করা হয়েছে।হ্যরত কাব আহবার (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আরশের তুলনায় আকাশ এমনই যেমন আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে কোন লণ্ঠন থাকে। হযরত মুজাহিদ (রঃ)-এরও উক্তি এটাই যে, আল্লাহ তা'আলার আরশের তুলনায় আসমান ও যমীন এমনই যেমন কোন প্রশস্ত সমতল ভূমিতে কোন আংটি পড়ে থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আরশের বড়ত্ব ও বিরাটত্বের সঠিক পরিমাপ আল্লাহ ছাড়া আর কেউই করতে পারে না।পূর্বযুগীয় কোন কোন মনীষীর উক্তি এই যে, আরশ লাল রঙ-এর ইয়াকৃত বা মণি-মানিক্য দ্বারা নির্মিত। এই আয়াতে (আরবী) এবং (আরবী) এই সূরার শেষে (আরবী) বলা হয়েছে। অর্থাৎ অত্যন্ত বড় ও খুবই সুন্দর। সুতরাং দৈর্ঘে, প্রস্থে, বিরাটত্বে ও সৌন্দর্যে ওটা অতুলনীয়। এ কারণেই কেউ কেউ এটাকে রক্তিম বর্ণের ইয়াকূত বলেছেন। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “তোমাদের প্রতিপালকের নিকট রাত দিন কিছুই নেই। তাঁর চেহারার জ্যোতিতেই তাঁর আরশ জোতির্ময় হয়েছে। মোটকথা, এই প্রশ্নের জবাবে মুশরিক ও কাফিররা এ কথাই বলবে যে, আসমান, যমীন এবং আরশের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ। তাই মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেন, হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলঃ তবুও আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করছে না কেন? কেন তোমরা তাঁর সাথে অন্যদের উপাসনা করছো? হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিম্নের হাদীসটি প্রায়ই বর্ণনা করতেনঃ “অজ্ঞতার যুগে একটি স্ত্রী লোক পাহাড়ের চূড়ায় ছাগল চরাতো। তার সাথে তার পুত্রও থাকতো। একদা তার পুত্র তাকে জিজ্ঞেস করে, “আম্মা! বলুন তো, আপনাকে কে সৃষ্টি করেছেন? উত্তরে সে বলে, ‘আল্লাহ।' পুত্র প্রশ্ন করে- ‘আমার আব্বাকে কে সৃষ্টি করেছেন? সে জবাব দেয়, ‘আল্লাহ।' ছেলে আবার জিজ্ঞেস করে, “আমাকে সৃষ্টি করেছেন কে? সে উত্তর দেয়, আল্লাহ। পুত্র পুনরায় প্রশ্ন করে, এই আকাশের সৃষ্টিকর্তা কে? সে জবাবে বলে, ‘আল্লাহ। ছেলে প্রশ্ন করে, যমীন সৃষ্টি করেছেন কে? সে উত্তর দেয়, ‘আল্লাহ। পুত্র জিজ্ঞেস করে, এই পাহাড়গুলো কে সৃষ্টি করেছেন?' জবাবে সে বলে, এইগুলোর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। ছেলে প্রশ্ন করে, এই ছাগলগুলোর সৃষ্টিকর্তা কে?' মা উত্তর দেয়, এই ছাগলগুলোর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই বটে। ছেলেটি এসব উত্তর শুনে বলে, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার এত বড় মাহাত্ম! অতঃপর তার অন্তরে আল্লাহর বিরাটত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব এমনভাবে স্থান পেলো যে, সে কাঁপতে শুরু করলো এবং কম্পনের ফলে পাহাড়ের চূড়া থেকে নীচে পড়ে গিয়ে প্রাণ ত্যাগ করলো।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিদ দুনিয়া (রঃ) তাঁর কিতাবুত তাফাককুর ওয়াল ইতেবার' নামক গ্রন্থে আনয়ন করেছেন। এর একজন বর্ণনাকারী য়েছেন ইমাম আলী ইবনুল মাদীনীর পিতা উবাইদুল্লাহ ইবনে জাফর আল মাদীনী। তাঁর র্কে সমালোচনা করা হয়েছে। এসব ব্যাপার আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ জিজ্ঞেস কর সবকিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে? রাসূলুল্লাহ (সঃ) প্রায়ই নিম্নলিখিত শব্দগুলোর মাধ্যমে শপথ করতেন, “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ!” কোন গুরুত্বপূর্ণ শপথের সময় বলতেনঃ “যিনি অন্তরসমূহের মালিক এবং যিনি অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী তার শপথ!” ঘোষিত হচ্ছে জিজ্ঞেস কর, কে তিনি যিনি সকলকে আশ্রয় দান করে থাকেন এবং যার উপর আশ্রয়দাতা নেই? অর্থাৎ তিনি এতো বড় নেতা ও অধিপতি যে, সমস্ত সৃষ্টি, আধিপত্য ও হুকুমত তাঁরই হাতে রয়েছে। আরবে এই প্রথা ছিল যে, গোত্রপতি কাউকে আশ্রয় দান করলে সবাই তার অনুগত হয়ে যেতো কিন্তু গোত্রের কেউ কাউকে আশ্রয় দিলে গোত্রপতিকে তার অনুগত মনে করা হতো না। সুতরাং এখানে আল্লাহ তা'আলার শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্যের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি ব্যাপক ক্ষমতাবান এবং সবারই শাসনকর্তা। তার ইচ্ছা কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। তিনি যা চান তা হয় এবং যা চান না তা হয় না। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি যা করেন তাতে তিনি জিজ্ঞাসিত হন না এবং তারা জিজ্ঞাসিত হবে।” (২১: ২৩) অর্থাৎ কারো ক্ষমতা নাই যে, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে তার কোন কাজের কৈফিয়ত তলব করে। তার শ্রেষ্ঠত্ব, বিরাটত্ত্ব, প্রভাব, মর্যাদা, ক্ষমতা, কৌশল এবং ন্যায়পরায়ণতা অতুলনীয়। মমস্ত মাখলুক তার সামনে অপারগ, অক্ষম ও নিরুপায়। তিনি সমস্ত সৃষ্টজীবের কাছে তাদের কাজের কৈফিয়ত তলবকারী। এইরূপ গুণে গুণান্বিত কে? এই প্রশ্নের জবাবেও এই মশরিকরা বলতে বাধ্য হবে যে, আল্লাহ তাআলাই এতো বড় ক্ষমতার অধিকারী। এই রূপ প্রবল পরাক্রান্ত সম্রাট একমাত্র আল্লাহ। তাই মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ তুমি তাদেরকে বল, এর পরেও কি করে তোমরা বিভ্রান্ত হচ্ছ? এই স্বীকারোক্তির পরেও কেমন করে তোমরা অন্যদের উপাসনা করছো? এটা তোমাদের জন্যে মোটেই শোভনীয় নয়।আল্লাহ পাক বলেনঃ বরং আমি তো তাদের কাছে সত্য পৌছিয়েছি, কিন্তু তারা তো মিথ্যাবাদী। তাদের কাছে আমি তাওহীদে রুবুবিয়্যাতের সাথে সাথে তাওহীদে উলুহিয়্যাত বর্ণনা করেছি, সঠিক প্রমাণাদি ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী পৌছিয়ে দিয়েছি এবং তারা যে ভুল পথে রয়েছে তা আমি প্রকাশ করে দিয়েছি যে, আমার সাথে অন্যদেরকে শরীক করার ব্যাপারে তারা মিথ্যাবাদী। তাদের মিথ্যাবাদী হওয়া স্বয়ং তাদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে। যেমন তিনি এই সূরারই শেষাংশে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে ডাকে অন্য ইলাহকে, ঐ বিষয়ে তার কোন সনদ নেই; তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে, নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না।” (২৩: ১৭) সুতরাং মুশরিকরা কোন দলীলের মাধ্যমে এটা করছে না, বরং তারা তাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করছে মাত্র। যেমন আল্লাহ তা'আলা তাদের উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এর উপরই পেয়েছি এবং আমরা তাদের পিছনে তাদেরই অনুকরণকারী। (৪৩: ২৩)