Aanmelden
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren

Tafseer: Al-Jathiyah 45:35

45:35
ذالكم بانكم اتخذتم ايات الله هزوا وغرتكم الحياة الدنيا فاليوم لا يخرجون منها ولا هم يستعتبون ٣٥
ذَٰلِكُم بِأَنَّكُمُ ٱتَّخَذْتُمْ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ هُزُوًۭا وَغَرَّتْكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا ۚ فَٱلْيَوْمَ لَا يُخْرَجُونَ مِنْهَا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ٣٥
ذَٰلِكُم
بِأَنَّكُمُ
ٱتَّخَذۡتُمۡ
ءَايَٰتِ
ٱللَّهِ
هُزُوٗا
وَغَرَّتۡكُمُ
ٱلۡحَيَوٰةُ
ٱلدُّنۡيَاۚ
فَٱلۡيَوۡمَ
لَا
يُخۡرَجُونَ
مِنۡهَا
وَلَا
هُمۡ
يُسۡتَعۡتَبُونَ
٣٥
Dit is omdat jullie de Openbaringen van Allah tot onderwerp van spot maakten en het wereldse leven jullie verleid heeft.” Op die dag zullen zij niet uit de Hel gehaald worden, noch zullen zij Allah berouw kunnen tonen.
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 45:30tot 45:37

৩০-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর: এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাঁর ঐ ফায়সালার খবর দিচ্ছেন যা তিনি আখিরাতের দিন স্বীয় বান্দাদের মধ্যে করবেন। যারা অন্তরে ঈমান এনেছে এবং স্বীয় হাত-পা দ্বারা শরীয়ত অনুযায়ী সৎ নিয়তের সাথে ভাল কাজ করেছে, তাদেরকে তিনি স্বীয় করুণায় জান্নাত দান করবেন। এখানে রহমত দ্বারা জান্নাতকে বুঝানো হয়েছে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে। যে, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে বলবেনঃ “তুমি আমার রহমত। আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করবো সে তোমাকে লাভ করবে। এটাই হলো মহাসাফল্য। পক্ষান্তরে যারা কুফরী করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন শাসন-গর্জনরূপে বলা হবেঃ তোমাদের নিকট কি আল্লাহ তা'আলার আয়াত পাঠ করা হয়নি? অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়েছিল এবং তোমরা ওগুলো শুনেছিলে, কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে। তোমরা অন্তরে কুফরী রেখে বাইরেও তোমাদের কাজে কর্মে আল্লাহর নাফরমানী করেছিলে এবং বাহাদুরী দেখিয়ে গুনাহর উপর গুনাহ করতে থেকেছিলে। যখন মুমিনরা তোমাদেরকে বলতো যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি তো সত্য এবং কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই, তখন তোমরা পাল্টা জবাব দিতেঃ কিয়ামত কি তা আমরা জানি না। আমরা মনে করি এটা একটা ধারণা মাত্র, আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। এখন তাদের দুষ্কর্মের শাস্তি তাদের সামনে এসে গেছে। তারা তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল স্বচক্ষে দেখে নিয়েছে। যে শাস্তির কথা তারা উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং 'যেটাকে অসম্ভব মনে করেছিল ঐ শাস্তি আজ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে। তাদেরকে সর্বপ্রকারের কল্যাণ হতে নিরাশ করে দেয়ার জন্যে বলা হবেঃ “আজ আমি তোমাদেরকে বিস্মৃত হয়ে যাবো। যেমন তোমরা এই দিনের সাক্ষাৎকারকে বিস্মৃত হয়েছিলে। তোমাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম এবং এমন কেউ হবে না যে তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারে।সহীহ হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন স্বীয় বান্দাদেরকে বলবেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম না? তোমাদের উপর কি আমি আমার দয়া-দাক্ষিণ্য নাযিল করিনি। আমি কি তোমাদের জন্যে উট, ঘোড়া ইত্যাদিকে অনুগত করেছিলাম না? তোমাদেরকে কি আমি তোমাদের বাড়ীতে সুখে-শান্তিতে বাস করার জন্যে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছিলাম না?” তারা উত্তরে বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! এগুলো সবই সত্য। সত্যিই আপনার এই সমুদয় ইহসান আমাদের উপর ছিল। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “সুতরাং আজ আমি তোমাদেরকে বিস্মৃত হয়ে যাবো যেমন তোমরা আমাকে বিস্মৃত হয়েছিলে।”এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই শাস্তি তোমাদেরকে এ জন্যেই দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনাবলীকে বিদ্রুপ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। তোমরা এর উপরই নিশ্চিন্ত ছিলে, ফলে আজ তোমাদেরকে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো। আজ তোমাদেরকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে না এবং তোমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টার সুযোগ দেয়া হবে না। অর্থাৎ এই আযাব হতে তোমাদের বাঁচবার কোন উপায় নেই। এখন আমার সন্তুষ্টি লাভ করাও তোমাদের জন্যে অসম্ভব। মুমিনরা যেমন বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাবে, ঠিক তেমনই তোমরাও বিনা হিসাবে জাহান্নামে যাবে। এখন তোমাদের তাওবা বৃথা।আল্লাহ তাআলা মুমিন ও কাফিরদের মধ্যে যা ফায়সালা করবেন এটার বর্ণনা দেয়ার পর বলেনঃ ‘প্রশংসা তাঁরই, যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং জগতসমূহের প্রতিপালক।' অর্থাৎ যিনি আকাশ ও পৃথিবীর মালিক এবং এতোদুভয়ের মধ্যে যতকিছু রয়েছে সবকিছুরই যিনি অধিপতি, সমুদয় প্রশংসা ঐ আল্লাহরই প্রাপ্য।অতঃপর তিনি বলেনঃ ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে গৌরব গরিমা তারই। আসমানে ও যমীনে আল্লাহ তা'আলারই রাজত্ব, আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব। তিনি বড়ই মর্যাদা ও বুযুর্গীর অধিকারী। সবাই তার অধীনস্থ। সবাই তার মুখাপেক্ষী।সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “শ্রেষ্ঠত্ব আমার তহবন্দ এবং অহংকার আমার চাদর। সুতরাং এ দু’টির কোন একটি আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নেয়ার জন্যে যে ব্যক্তি টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করবো।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে)তিনি ‘আযীয অর্থাৎ পরাক্রমশালী। তিনি কারো কাছে কখনো পরাস্ত হন। তার কোন কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কেউ নেই।তিনি প্রজ্ঞাময়। তাঁর কোন কথা, কোন কাজ, তাঁর শরীয়তের কোন মাসআলা, তাঁর লিখিত তকদীরের কোন অক্ষর হিকমত বা নিপুণতা শূন্য নয়। তিনি সমুচ্চ ও সমুন্নত। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই।