Aanmelden
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren

Tafseer: Al-Baqarah 2:263

2:263
۞ قول معروف ومغفرة خير من صدقة يتبعها اذى والله غني حليم ٢٦٣
۞ قَوْلٌۭ مَّعْرُوفٌۭ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌۭ مِّن صَدَقَةٍۢ يَتْبَعُهَآ أَذًۭى ۗ وَٱللَّهُ غَنِىٌّ حَلِيمٌۭ ٢٦٣
۞ قَوۡلٞ
مَّعۡرُوفٞ
وَمَغۡفِرَةٌ
خَيۡرٞ
مِّن
صَدَقَةٖ
يَتۡبَعُهَآ
أَذٗىۗ
وَٱللَّهُ
غَنِيٌّ
حَلِيمٞ
٢٦٣
Vriendelijke woorden en de vergeving van zonden zijn beter dan een liefdadigheid die door kwetsen gevolgd wordt. En Allah is Behoefteloos, Zachtmoedig.
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 2:262tot 2:264

২৬২-২৬৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা তার ঐ বান্দাদের প্রশংসা করছেন যারা দান-খয়রাত করে থাকেন; অতঃপর যাদেরকে দান করেন তাদের নিকট নিজেদের কৃপার কথা প্রকাশ করে না এবং তাদের নিকট হতে কিছু উপকারেরও আশা করে না। তারা তাদের কথা ও কাজ দ্বারা দান গ্রহীতাদেরকে কোন প্রকারের কষ্টও দেয় না। মহান আল্লাহ তাঁর এই বান্দাদেরকে উত্তম প্রতিদান প্রদানের ওয়াদা করেছেন যে, তাদের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার দায়িত্বে রয়েছে। কিয়ামতের দিন তাদের ভয় ও চিন্তার কারণ থাকবে না। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, মুখ দিয়ে উত্তম কথা বের করা, কোন মুসলমান ভাইয়ের জন্যে প্রার্থনা করা, দোষী ও অপরাধীদের ক্ষমা করে দেয়া ঐ দান-খয়রাত হতে উত্তম, যার পিছনে থাকে ক্লেশ ও কষ্ট প্রদান। ইবনে আবি হাতিমের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “উত্তম কথা হতে ভাল দান আর কিছু নেই। তোমরা কি মহান আল্লাহর (আরবি) অর্থাৎ যে দানের পশ্চাতে থাকে ক্লেশ দান সেই দান অপেক্ষা উত্তম বাক্য ও ক্ষমা উৎকৃষ্টতর’ (২:২৬৩) এই ঘোষণা শুননি: আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাগণ হতে অমুখাপেক্ষী এবং সমস্ত সৃষ্টজীব তারই মুখাপেক্ষী। তিনি অত্যন্ত সহিষ্ণু। বান্দার পাপ দেখেও ক্ষমা করে থাকেন। সহীহ মুসলিম শরীফে রয়েছে , রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন প্রকার লোকের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে দেখবেন না ও তাদেরকে পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। প্রথম হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে দান করার পর কৃপা প্রকাশ করে থাকে। দ্বিতীয় হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে পায়জামাকা লুঙ্গী পায়ের গোছার নীচে লটকিয়ে রাখে। তৃতীয় হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে মিথ্যা শপথ করে নিজের পণ্য দ্রব্য বিক্রি করে থাকে। সুনান-ই- ইবনে মাজাহ্ প্রভৃতি হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ বাপ-মার অবাধ্য, সাদকা করে কৃপা প্রকাশকারী, মদ্যপায়ী এবং তকদীরকে অবিশ্বাসকারী বেহেশতে প্রবেশ লাভ করবে না। সুনান-ই-নাসাঈর মধ্যে রয়েছে, রাসূলুয়াহ (সঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাতও করবেন না। পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ্যপানে অভ্যস্ত এবং দান করে অনুগ্রহ প্রকাশকারী। নাসাঈর অন্য হাদীসে রয়েছে যে,ঐ তিন ব্যক্তি (প্রাগুক্ত তিন ব্যক্তি) বেহেশতে প্রবেশ করবে না, এই জন্যেই এই আয়াতেও ইরশাদ হচ্ছেঃ অনুগ্রহ প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-খয়রাত নষ্ট করো না। এ অনুগ্রহ প্রকাশ ও কষ্ট দেয়ার পাপ দানের পুণ্য অবশিষ্ট রাখে না। অতঃপর অনুগ্রহ প্রকাশকারী ও কষ্ট প্রদানকারীর সাদকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপমা ঐ সাদকার সাথে দেয়া হয়েছে, যা মানুষকে দেখাবার জন্যে দেয়া হয় এবং উদ্দেশ্য থাকে যে, মানুষ তাকে দানশীল উপাধিতে ভূষিত করবে ও দেশে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য তার মোটেই থাকে না এবং সে পুণ্য লাভেরও আশা পোষণ করে না। এই জন্যেই এই বাক্যের পর বলেছেন যদি আল্লাহ তা'আলার উপর ও কিয়ামতের উপর বিশ্বাস না থাকে তবে ঐ লোক-দেখানো দান, অনুগ্রহ প্রকাশ করার দান এবং কষ্ট দেয়ার দানের দৃষ্টান্ত এইরূপ যেমন এক বৃহৎ মসৃণ প্রস্তর খণ্ড, যার উপরে কিছু মাটিও জমে গেছে। অতঃপর প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সমস্ত ধুয়ে গেছে এবং কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই দু' প্রকার ব্যক্তির দানের অবস্থাও দ্রুপ। লোকে মনে করে যে, সে দানের পুণ্য অবশ্যই পেয়ে যাবে। যেভাবে এই পাথরের মাটি দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু বৃষ্টিপাতের ফলে ঐ মাটি দূর হয়ে গেছে, তেমনই এই ব্যক্তির অনুগ্রহ প্রকাশ করা ও কষ্ট দেয়ার ফলে এবং ঐ ব্যক্তির রিয়াকারীর ফলে ঐ সব পুণ্য বিদায় নিয়েছে। আল্লাহ পাকের নিকট পৌছে তারা কোন প্রতিদান পাবে না। আল্লাহ তা'আলা অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।