Aanmelden
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren

Tafseer: Al-Qamar 54:12

54:12
وفجرنا الارض عيونا فالتقى الماء على امر قد قدر ١٢
وَفَجَّرْنَا ٱلْأَرْضَ عُيُونًۭا فَٱلْتَقَى ٱلْمَآءُ عَلَىٰٓ أَمْرٍۢ قَدْ قُدِرَ ١٢
وَفَجَّرۡنَا
ٱلۡأَرۡضَ
عُيُونٗا
فَٱلۡتَقَى
ٱلۡمَآءُ
عَلَىٰٓ
أَمۡرٖ
قَدۡ
قُدِرَ
١٢
En Wij lieten uit de aarde de bronnen stromen. Waarna de wateren elkaar ontmoetten in een voorbeschikte zaak.
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 54:9tot 54:17

৯-১৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার এই উম্মতের পূর্বে হযরত নূহ (আঃ)-এর উম্মতও তাদের নবী আমার বান্দা হযরত নূহ (আঃ)-কে অবিশ্বাস করেছিল, পাগল বলেছিল এবং শাসন গর্জন ও ধমক দিয়ে বলেছিলঃ “হে নূহ (আঃ)! যদি তুমি তোমার এ কাজ হতে বিরত না হও তবে অবশ্যই আমরা তোমাকে পাথর দ্বারা হত্যা করবে। আমার বান্দা ও রাসূল হযরত নূহ (আঃ) তখন আমাকে ডাক দিয়ে বললোঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমি তো অসহায়। আমি কোনক্রমেই আর নিজেকে বাঁচাতে পারছি না এবং আপনার দ্বীনেরও হিফাযত করতে পারছি না। সুতরাং আপনি আমাকে সাহায্য করুন এবং আমাকে বিজয় দান করুন। তাঁর এ প্রার্থনা আল্লাহ তা'আলা কবুল করলেন এবং ঐ কাফির কওমের উপর প্রসিদ্ধ তুফান পাঠালেন। আকাশ হতে মুষল ধারের বৃষ্টির দরযা খুলে দিলেন এবং যমীন হতে উথলিয়ে ওঠা পানির প্রস্রবণের মুখ খুলে দিলেন। এমন কি যা পানির জায়গা ছিল না, যেমন উনান ইত্যাদি হতে পানি উঠতে লাগলো। চতুর্দিক পানিতে ভরে গেল। আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হলো না এবং যমীন হতে পানি উঠাও বন্ধ হলো না। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এটা চলতেই থাকলো। আকাশের মেঘ হতেই বৃষ্টি বর্ষিত হয়ে থাকে। কিন্তু ঐ সময় আকাশ হতে পানির দরযা খুলে দেয়া হয়েছিল এবং আল্লাহর শাস্তি বৃষ্টির আকারে বর্ষিত হচ্ছিল। না এর পূর্বে কখনো এতো বেশী পানি বর্ষিত হয়েছিল, না এর পরে কখনো এরূপ পানি বর্ষিত হয়েছে। এদিকে আকাশের এই অবস্থা, আর ওদিকে যমীনের উপর এ আদেশ হয়েছিল যে, ওটা যেন পানি উগলিয়ে দেয়। সুতরাং চতুর্দিকে শুধু পানি আর পানি।হযরত আলী (রাঃ) বলেন যে, আকাশের মুখ খুলে দেয়া হয় এবং ওগুলো দিয়ে অনবরত পানি বর্ষিত হতে থাকে।মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তাকে (নূহ আঃ-কে) আরোহণ করালাম কাষ্ঠ ও কীলক নির্মিত এক নৌযানে। (আরবী) শব্দের অর্থ হলো নৌকার বাম দিকের অংশ এবং প্রাথমিক অংশ যার উপর ঢেউ এসে লাগে। ওর মূল জোড়কেও বলা হয়েছে।আল্লাহ পাক বলেনঃ “ওটা আমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চলতো, এটা পুরস্কার তার জন্যে যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। হযরত নূহ (আঃ)-কে সাহায্য করার মাধ্যমে এটা ছিল কাফিরদের হতে প্রতিশোধ গ্রহণ। ইরশাদ হচ্ছেঃ আমি এটাকে রেখে দিয়েছি এক নিদর্শন রূপে। অর্থাৎ ঐ নৌকাকে শিক্ষণীয় বিষয় রূপে বাকী রেখেছি। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এই উম্মতের প্রথম যুগের লোকেরাও ঐ নৌকাটি দেখেছে। কিন্তু এর প্রকাশ্য অর্থ হলোঃ ঐ নৌকার নমুনায় অন্যান্য নৌকাগুলো আমি নিদর্শন হিসেবে দুনিয়ায় কায়েম রেখেছি। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী)অর্থাৎ তাদের এক নিদর্শন এই যে, আমি তাদের বংশধরদেরকে বোঝাই নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম। আর তাদের জন্যে অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে।” (৩৬:৪১-৪২) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী)অর্থাৎ “যখন জলোচ্ছাস হয়েছিল তখন আমি তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে। আমি এটা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্যে এবং এই জন্যে যে, শ্রুতিধর কর্ণ এটা সংরক্ষণ করে।" (৬৯:১১-১২) এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেনঃ সুতরাং উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে (আরবী) পড়িয়েছেন। (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতেও এই শব্দের কিরআত এরূপই বর্ণিত আছে। হযরত আসওয়াদ (রঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “এই শব্দটি না হবে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আমি হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে পড়তে শুনেছি … দ্বারা এবং তিনি বলেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে দ্বারাই পড়তে শুনেছেন।এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “কি কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।' অর্থাৎ যারা আমার সাথে কুফরী করেছিল, আমার রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল এবং আমার উপদেশ হতে শিক্ষা গ্রহণ করেনি তাদের প্রতি আমার শাস্তি কতই না কঠোর ছিল! কিভাবেই না আমি আমার রাসূলদের শত্রুদের হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি। আর কেমন করে আমি সত্য ধর্মের শত্রুদের ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি।মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি কুরআন কারীমের শব্দ ও অর্থ প্রত্যেক এমন ব্যক্তির জন্যে সহজ করে দিয়েছি যে এর দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায়। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃঅর্থাৎ “আমি তোমার প্রতি (নবী সঃ-এর প্রতি) বরকতময় কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতগুলো সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে এবং যেন জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (৩৮:২৯) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি কুরআনকে উপদেশের জন্যে সহজ করেছি। আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে তুমি ওটা দ্বারা মুত্তাকীদের সুসংবাদ দিতে পার এবং বিতণ্ডা প্রবণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার।" (১৯:৯৭)হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এর কিরআত ও তিলাওয়াত আল্লাহ তা'আলা সহজ করে দিয়েছেন।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যদি আল্লাহ তা'আলা একে সহজসাধ্য না করতেন তবে মাখলুকের ক্ষমতা ছিল না যে, তারা আল্লাহর কালাম পড়তে পারে। আমি বলি যে, ঐ সহজগুলোর মধ্যে একটি সহজ ওটাই যা পূর্বে হাদীসে গত হয়েছে। তা এই যে, এই কুরআন সাতটি কিরআতের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। এই হাদীসের সমস্ত পন্থা ও শব্দ আমরা ইতিপূর্বে জমা করে দিয়েছি। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। মোটকথা, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে খুবই সহজ করে দিয়েছেন। সুতরাং কুরআন হতে উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? অর্থাৎ কেউ এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে চাইলে তাকে সাহায্য করা হবে।