Aanmelden
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren

Tafseer: Al-A'raf 7:4

7:4
وكم من قرية اهلكناها فجاءها باسنا بياتا او هم قايلون ٤
وَكَم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَـٰهَا فَجَآءَهَا بَأْسُنَا بَيَـٰتًا أَوْ هُمْ قَآئِلُونَ ٤
وَكَم
مِّن
قَرۡيَةٍ
أَهۡلَكۡنَٰهَا
فَجَآءَهَا
بَأۡسُنَا
بَيَٰتًا
أَوۡ
هُمۡ
قَآئِلُونَ
٤
En een groot aantal steden vernietigden Wij. Onze bestraffing kwam over hen gedurende de nacht, of terwijl zij hun middagslaap deden.
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 7:4tot 7:7

৪-৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ পাক বলেনঃ রাসূলের বিরুদ্ধাচরণের কারণে আমি কত লোকালয়কেই ধ্বংস করেছি! আর দুনিয়া ও আখিরাতের লাঞ্ছনা ও অপমান তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছি। যেমন তিনি বলেনঃ “(হে নবী সঃ!) তোমার পূর্বে রাসূলদেরকে উপহাস করা হয়েছিল, ফলে ঐ উপহাসের শাস্তি হিসেবে সেই উপহাসকারীদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। যেমন তিনি আর এক জায়গায় বলেনঃ “যখন আমি পাপের কারণে বহু জনপদকে ধ্বংস করে দিলাম তখন তাদের বড় বড় অট্টালিকা ও মজবুত ঘরবাড়ী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে পড়লো এবং তাদের প্রস্রবণ ও নদী-নালা তছনছ হয়ে গেল।” অন্য জায়গায় বলেনঃ “জীবিকার প্রাচুর্যের কারণে যখন তারা অহংকারে ফেটে পড়লো তখন আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম, তাদের বাড়ীঘর এমন হয়ে গেল যে, যেন তারা তাতে কোন দিন বসবাসই করেনি, কিন্তু অল্প কয়েকজন বেঁচে গেল, এখন তাদের উত্তরাধিকারী একমাত্র আমিই।”আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার শাস্তি তাদের উপর রাত্রিকালে ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা ভরা দ্বিপ্রহরে যখন তারা বিশ্রামরত ছিল তখনই আপতিত হয়েছে। আর এ দু'টোই হচ্ছে উদাসীন থাকার সময়। যেমন তিনি অন্যত্র বলেনঃ “ঐ লোকদের কি এই ভয় নেই যে, আমার শাস্তি রাত্রিকালে ঘুমন্ত অবস্থায় অকস্মাৎ তাদেরকে ঘিরে ফেলে অথবা অতি প্রত্যুষে তাদের উপর এসে পড়ে যখন তারা অশ্লীল ও বাজে কাজে লিপ্ত থাকে? আর নিজেদের পাপরাশির মাধ্যমে চালবাজীকারীরা এটাকে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ সম্পূর্ণরূপে তাদেরকে ভূ-গর্ভে ধ্বসিয়ে দিতে সক্ষম অথবা এমনভাবে তাদেরকে ভীষণ শাস্তি দ্বারা গ্রেফতার করতে পারেন যা তারা কল্পনা বা ধারণাও করতে পারবে না? কিংবা তাদের সফরে তাদেরকে পাকড়াও করবেন যা তারা প্রতিরোধ করতে পারবে না?” যেমন তিনি আরও বলেনঃ “যখন তাদের উপর শাস্তি এসেই পড়ে তখন ‘বাস্তবিকই আমরা অপরাধী ছিলাম’ একথা বলা ছাড়া তাদের আর কিছুই বলার থাকে না। যেমন তিনি আর এক জায়গায় বলেনঃ “যারা সীমালংঘন করেছিল এরূপ বহু গ্রামবাসীকে আমি সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছি।” উপরোক্ত আয়াতগুলো নবী (সঃ)-এর নিম্নের হাদীসের স্পষ্ট দলীলঃ “ কোন কওমকে ধ্বংস করে দেয়া হয়নি যে পর্যন্ত না তাদের সমস্ত শাস্তি শেষ করে দেয়া হয়েছে।” আবদুল মালিককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ “এটা কিরূপ হবে?” তখন তিনি “আমার শাস্তি যখন তাদের কাছে এসেই পড়েছিল তখন তাদের মুখে-বাস্তবিকই আমরা অত্যাচারী ছিলাম এই কথা ছাড়া আর কিছুই ছিল না” এই আয়াতটিই পাঠ করেছিলেন। আল্লাহ পাকের উক্তি (আরবী) অর্থাৎ “যাদের কাছে রাসূল পাঠানো হয়েছিল আমি তাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসবাদ করবো।” যেমন তিনি আর এক জায়গায় বলেনঃ “রাসূলগণ যখন প্রচারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিল তখন তোমরা তাদেরকে কি উত্তর দিয়েছিলে?” আরও এক জায়গায় তিনি বলেনঃ “সেইদিন আল্লাহ রাসূলদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞেস করবেনতোমাদের কওম তোমাদেরকে কি জবাব দিয়েছিল? তারা উত্তরে বলবে-আমাদের জানা নেই, আপনিই গায়েবের সংবাদ রাখেন। তখন আল্লাহ কিয়ামতের দিন ঐ লোকদেরকে জিজ্ঞেস করবেন-তোমরা রাসূলদেরকে কি জবাব দিয়েছিলে?” তাই আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেনঃ “আমি রাসূলদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল নেতা। তোমাদের সকলকেই নিজ নিজ অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাদশাহ্ তার প্রজাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, পুরুষ লোককে তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, স্ত্রীলোক জিজ্ঞাসিত হবে তার স্বামী সম্পর্কে এবং খাদেমকে জিজ্ঞেস করা হবে তার মনিবের মাল সম্পর্কে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি তাদের সমস্ত বিবরণ অকপটে প্রকাশ করে দেবো, যেহেতু আমি পূর্ণরূপে জ্ঞাত আছি, আর আমি তো বে-খবর ছিলাম না।” কিয়ামতের দিন তাদের আমলনামা খুলে দেয়া হবে এবং তাদের আমল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে। আল্লাহ তা'আলা সবকিছুই দেখতে রয়েছেন। তিনি তো গোপন দৃষ্টিপাত সম্পর্কেও পূর্ণ অবগত। তিনি অন্তরের গোপন কথাও জানেন। যদি গাছের কোন পাতা পড়ে যায় বা অন্ধকারে কোন বীজ পড়ে থাকে তবে সেটাও তার দৃষ্টির অন্তরালে থাকে না। স্পষ্ট কিতাবের মধ্যে কী নেই? আর্দ্রতা ও শুষ্কতা সবকিছুই তো লিপিবদ্ধ রয়েছে এতে।