Aanmelden
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren

Tafseer: Ghafir 40:61

40:61
الله الذي جعل لكم الليل لتسكنوا فيه والنهار مبصرا ان الله لذو فضل على الناس ولاكن اكثر الناس لا يشكرون ٦١
ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِتَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ٦١
ٱللَّهُ
ٱلَّذِي
جَعَلَ
لَكُمُ
ٱلَّيۡلَ
لِتَسۡكُنُواْ
فِيهِ
وَٱلنَّهَارَ
مُبۡصِرًاۚ
إِنَّ
ٱللَّهَ
لَذُو
فَضۡلٍ
عَلَى
ٱلنَّاسِ
وَلَٰكِنَّ
أَكۡثَرَ
ٱلنَّاسِ
لَا
يَشۡكُرُونَ
٦١
Allah is Degene Die de nacht voor jullie heeft gemaakt opdat jullie er in zullen rusten, en de dag als verlichter. Waarlijk, Allah is vol Genade voor de mensheid, maar de meesten danken niet.
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 40:61tot 40:65

৬১-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি রাত্রিকে সৃষ্টি করেছেন বিশ্রামের জন্যে, আর দিবসকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল, যাতে মানুষ তাদের কাজে-কর্মে, সফরে এবং জীবিকা উপার্জনে সুবিধা লাভ করতে পারে এবং সারা দিনের ক্লান্তি রাত্রির বিশ্রামের মাধ্যমে দূর হতে পারে। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টজীবের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই মহান আল্লাহর নিয়ামতরাজির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। এই সমুদয় জিনিসের সৃষ্টিকর্তা এবং এই শান্তি ও বিশ্রামের ব্যবস্থাপক একমাত্র আল্লাহ। তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি ছাড়া সৃষ্টজীবের পালনকর্তা আর কেউ নেই। তাই তো মহান আল্লাহ বলেনঃ এই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক, সবকিছুর স্রষ্টা; তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই! সুতরাং তোমরা কিভাবে বিপদগামী হচ্ছ? আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত করছে তারা তো নিজেরাই সষ্ট। সুতরাং তারা কোন কিছুই সৃষ্টি করেনি। বরং তোমরা যেসব মূর্তির উপাসনা করছো সেগুলো তো তোমরা নিজেদের হাতেই তৈরী করেছে। এদের পূর্ববর্তী মুশরিকরাও এভাবেই বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং বিনা দলীলে তারা গায়রুল্লাহর ইবাদত করতো। নিজেদের কুপ্রবৃত্তিকে সামনে রেখে তারা আল্লাহর দলীল প্রমাণকে অস্বীকার করতো। নিজেদের অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতাকে সামনে করে তারা বিভ্রান্ত হতো।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহই তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী। অর্থাৎ পৃথিবীকে তিনি তোমাদের জন্যে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন, যাতে আরাম-আয়েশে তোমরা এখানে জীবন যাপন করতে পার, চলো, ফিরো এবং গমনাগমন কর। যমীনের উপর পাহাড়-পর্বত স্থাপন করে তিনি যমীনকে হেলা দোলা হতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আসমানকে তিনি ছাদ স্বরূপ বানিয়েছেন যা সব দিক দিয়েই রক্ষিত রয়েছে। তিনিই তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন এবং ঐ আকৃতি করেছেন খুবই উৎকৃষ্ট। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তিনি সঠিকভাবে সজ্জিত করেছেন। মানানসই দেহ এবং সেই মুতাবেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সুন্দর চেহারা দান করেছেন। আর তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন উৎকৃষ্ট রিযক বা আহার্য। সৃষ্টি করেছেন তিনি, বসতি দান করেছেন তিনি, পানাহার করাচ্ছেন তিনি এবং পোশাক পরিচ্ছদ দান করেছেন তিনি। সুতরাং সঠিক অর্থে তিনিই হলেন সৃষ্টিকর্তা, আহার্যদাতা। তিনিই জগতসমূহের প্রতিপালক। যেমন সূরায়ে বাকারায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে মানবমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে তদ্দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্যে ফল-মূল উৎপাদন করেন। সুতরাং জেনে শুনে কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না।”(২:২১-২২)। আল্লাহ তা'আলা এখানেও এ সমুদয় সৃষ্টির বর্ণনা দেয়ার পর বলেনঃ “এই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক! কত মহান জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্! তিনি চিরঞ্জীব। তিনি শুরু হতেই আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন। তাঁর লয় নেই, ক্ষয় নেই। তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ। তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত। তার কোন গুণ অন্য কারো মধ্যে নেই। তাঁর সমতুল্য কেউই নেই। সুতরাং তোমাদের উচিত তোমরা তাঁর তাওহীদকে মেনে নিয়ে তাঁরই কাছে প্রার্থনা জানাতে থাকবে এবং তাঁরই ইবাদতে লিপ্ত থাকবে। সমুদয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য।ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, আহলে ইলমের একটি দলের উক্তি হলোঃ “যে ব্যক্তি (আরবী) ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে তার এর সাথে সাথে (আরবী) পড়ে নেয়াও উচিত, যাতে এই আয়াতের উপর আমল হয়ে যায়।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতেও এটা বর্ণিত আছে। হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর (রঃ) বলেনঃ “যখন তুমি (আরবী) পাঠ করবে তখন পড়ে নিবে এবং সাথে সাথে (আরবী) এটাও পাঠ করবে।”হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ) প্রত্যেক নামাযের সালামের পরে নিম্নলিখিত কালেমাগুলো পাঠ করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, রাজ্য তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া পাপ হতে বিরত থাকা যায় না এবং ইবাদত করার শক্তিও থাকে না। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি। নিয়ামত তাঁরই, অনুগ্রহ তাঁরই এবং উত্তম প্রশংসাও তারই প্রাপ্য। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। আমরা একনিষ্ঠভাবে তারই আনুগত্য করি, যদিও কাফিররা অসন্তুষ্ট হয়। আর তিনি বলতেন যে, রাসূলুল্লাহও (সঃ) ঐ কালেমাগুলো প্রত্যেক নামাযের পরে পাঠ করতেন। (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)