Entrar
Entrar
Entrar
Selecione o idioma

Tafsir: Az-Zukhruf 43:51

43:51
ونادى فرعون في قومه قال يا قوم اليس لي ملك مصر وهاذه الانهار تجري من تحتي افلا تبصرون ٥١
وَنَادَىٰ فِرْعَوْنُ فِى قَوْمِهِۦ قَالَ يَـٰقَوْمِ أَلَيْسَ لِى مُلْكُ مِصْرَ وَهَـٰذِهِ ٱلْأَنْهَـٰرُ تَجْرِى مِن تَحْتِىٓ ۖ أَفَلَا تُبْصِرُونَ ٥١
وَنَادَىٰ
فِرۡعَوۡنُ
فِي
قَوۡمِهِۦ
قَالَ
يَٰقَوۡمِ
أَلَيۡسَ
لِي
مُلۡكُ
مِصۡرَ
وَهَٰذِهِ
ٱلۡأَنۡهَٰرُ
تَجۡرِي
مِن
تَحۡتِيٓۚ
أَفَلَا
تُبۡصِرُونَ
٥١
E o Faraó discursou para o seu povo, dizendo: Ó povo meu, porventura, não é meu domínio do Egito, assim como odestes rios, que correm sob (o meu palácio)? Não o vedes, pois?
Tafsirs
Camadas
Lições
Reflexões
Respostas
Qiraat
Hadith
Você está lendo um tafsir para o grupo de versos 43:51 a 43:56

৫১-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা ফিরাউনের ঔদ্ধত্য ও আমিত্বের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, সে তার কওমকে একত্রিত করে ঘোষণা করলোঃ আমি কি একাই মিসরের বাদশাহ নই? আমার বাগ-বাগীচায় ও প্রাসাদে কি নদীগুলো প্রবাহিত নয়। তোমরা কি আমার শ্রেষ্ঠত্ব ও সাম্রাজ্য দেখতে পাচ্ছ না? আর মূসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীদেরকে দেখো তো যে, তারা কেমন দুর্বল ও দরিদ্র! যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সে সবকে একত্রিত করে বললোঃ আমিই তোমাদের বড় প্রভু। ফলে, আল্লাহ তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার শাস্তিতে গ্রেফতার করলেন।”(৭৯:২৩-২৫)এখানে (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কোন কোন কারীর কিরআতে (আরবী) এরূপও রয়েছে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, যদি এই কিরআত শুদ্ধ ও সঠিক হয় তবে অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু এই কিরআত সমস্ত শহরের কিরআতের বিপরীত। সব জায়গারই কিরআতে (আরবী) শব্দটি (আরবী) বা প্রশ্নবোধক রূপে রয়েছে। মোটকথা, অভিশপ্ত ফিরাউন নিজেকে হযরত মূসা (আঃ) অপেক্ষা উত্তম ও ভাল মনে করলো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার এটা মিথ্যা দাবী।(আরবী) শব্দের অর্থ হলো ঘৃণ্য, দুর্বল, নির্ধন ও মান-সম্মানহীন। ফিরাউন বললো যে, মূসা (আঃ) ভালরূপে কথা বলতে জানেন না, তাঁর ভাষা অলংকার পূর্ণ নয় এবং তিনি বাকপট নন। তিনি তাঁর মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না।কেউ কেউ বলেন যে, বাল্যকালে হযরত মূসা (আঃ) স্বীয় মুখে আগুনের অঙ্গার পুরে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি তোতলা হয়ে গিয়েছিলেন।আসলে এটাও ফিরাউনের প্রতারণামূলক ও মিথ্যা কথা। হযরত মূসা (আঃ) ছিলেন বাকপটু। তাঁর ভাষা ছিল অলংকারপূর্ণ। তিনি উচ্চ মান-মর্যাদার অধিকারী ও প্রভাবশালী ছিলেন। কিন্তু অভিশপ্ত ফিরাউন আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ)-কে কুফরীর চোখে দেখতো বলে তাকে ঐরূপ দেখতো। প্রকৃতপক্ষে সে। নিজেই ছিল ঘৃণ্য ও লাঞ্ছিত। বাল্যকালে হযরত মূসা (আঃ) তার মুখে আগুনের অঙ্গার পুরে দেয়ার কারণে তাঁর কথা যদিও তোতলা হতো, কিন্তু তার তোতলামি যেন দূর হয়ে যায় এজন্যে তিনি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে মহান আল্লাহর দয়ায় তাঁর ঐ তোতলামি ছুটে গিয়েছিল। কাজেই পরে তিনি সুন্দরভাবে তাঁর বক্তব্য জনগণের সামনে পেশ করতে পারতেন এবং তারা তাঁর কথা ভালভাবে বুঝতে পারতো। আর যদি এটা মেনে নেয়াও হয় যে, এরপরেও তাঁর যবানের কিছুটা ত্রুটি রয়ে গিয়েছিল, কেননা তিনি প্রার্থনায় শুধু এটুকুই বলেছিলেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার জিহ্বার জড়তা আপনি দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে, তবুও এটা কোন দোষের কথা নয়। আল্লাহ তা'আলা যাকে যেভাবে সৃষ্টি করেন সে সেভাবেই হয়ে থাকে, এতে দোষের এমন কি আছে? আসলে ফিরাউন একটা কথা বানিয়ে নিয়ে তার মূখ প্রজাদেরকে উত্তেজিত ও বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। যেমন সে বলেছিলঃ মূসা (আঃ)-কে কেন দেয়া হলো না স্বর্ণ-বলয় অথবা তার সাথে কেন আসলো না ফেরেশতারা দলবদ্ধভাবে?' মোটকথা, সে বহু রকম চেষ্টা চালিয়ে তার প্রজাবর্গকে নির্বোধ বানিয়ে নেয় এবং তাদেরকে তারই মতাবলম্বী করে নেয়। সে নিজেই ছিল পাপী, অপরাধী ও লম্পট।যখন সে মন খুলে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করেই চললো এবং আল্লাহ তার প্রতি চরমভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেন তখন তার পিঠের উপর আল্লাহর চাবুক পড়লো। প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ তাকে তার সমুদয় কৃতকর্মের ফল প্রদান করলেন। তাকে সদলবলে সমুদ্রে নিমজ্জিত করা হলো। আর পরকালে সে জাহান্নামে জ্বলতে থাকবে। হযরত উকবা ইবনে আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তুমি দেখো যে, আল্লাহ কোন মানুষকে ইচ্ছামত দিতে রয়েছেন, আর সে তার অবাধ্যাচরণ করতে রয়েছে তখন তুমি বুঝবে যে, আল্লাহ তাকে অবকাশ দিয়েছেন।” অতঃপর তিনি (আরবী) এই আয়াতটিই তিলাওয়াত করেন।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সামনে হঠাৎ মৃত্যুর আলোচনা করা হলে তিনি বলেনঃ “মুমিনের উপর এটা খুব সহজ, কিন্তু কাফিরের উপর এটা দুঃখজনক।” তারপর এ আয়াতটি পাঠ করে শুনিয়ে দেন।হযরত উমার ইবনে আবদিল আযীয (রঃ) বলেন যে, গাফলতি বা অমনোযোগিতার সাথে শাস্তি রয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তৎপর পরবর্তীদের জন্যে আমি তাদেরকে করে রাখলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত। অর্থাৎ পরবর্তী লোকেরা যেন তাদের পরিণাম দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং নিজেদের পরিত্রাণ লাভের উপায় অনুসন্ধান করে।