Войти
Войти
Войти
Выберите язык

Тафсир: An-Nisa 4:122

4:122
والذين امنوا وعملوا الصالحات سندخلهم جنات تجري من تحتها الانهار خالدين فيها ابدا وعد الله حقا ومن اصدق من الله قيلا ١٢٢
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّـٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقًّۭا ۚ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ ٱللَّهِ قِيلًۭا ١٢٢
وَٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ
وَعَمِلُواْ
ٱلصَّٰلِحَٰتِ
سَنُدۡخِلُهُمۡ
جَنَّٰتٖ
تَجۡرِي
مِن
تَحۡتِهَا
ٱلۡأَنۡهَٰرُ
خَٰلِدِينَ
فِيهَآ
أَبَدٗاۖ
وَعۡدَ
ٱللَّهِ
حَقّٗاۚ
وَمَنۡ
أَصۡدَقُ
مِنَ
ٱللَّهِ
قِيلٗا
١٢٢
А тех, которые уверовали и совершали праведные деяния, Мы введем в Райские сады, в которых текут реки. Они пребудут там вечно по истинному обещанию Аллаха. Чья речь правдивее речи Аллаха?
Тафсиры
Слои
Уроки
Размышления
Ответы
Кираат
Хадис
Вы читаете тафсир для группы стихов 4:116 до 4:122

১১৬-১২২ নং আয়াতের তাফসীর: এ সূরার প্রথম দিকে আমরা (আরবী) -এ আয়াতটির তাফসীর করেছি এবং তথায় এ আয়াতের সাথে সম্পর্কিত হাদীসগুলোও বর্ণনা করেছি। জামেউত তিরমিযীতে রয়েছে, হযরত আলী (রাঃ) বলতেনঃ কুরআন কারীমের অন্য কোন আয়াত আমার নিকট এ আয়াত অপেক্ষা প্রিয় নেই। দুনিয়া ও আখিরাত মুশরিকদের হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তারা সত্য পথ হতে দূরে সরে পড়ছে। তারা নিজেদের জীবনকে ও উভয় জগতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ মুশরিকরা নারীদের পূজারী ।মুসনাদ-ই- ইবনে আবি হাতিমে রয়েছে, হযরত কা'ব (রাঃ) বলেন যে, প্রত্যেক প্রতিমার সাথে একটি মহিলা জ্বিন রয়েছে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে মূর্তি। এটা অন্যান্য মুফাসৃসিরগণেরও উক্তি।হযরত যহ্হাক (রঃ) বলেন যে, মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে পূজা করতো এবং তাদেরকে আল্লাহ তাআলার মেয়ে বলে বিশ্বাস করতো ও বলতোঃ ‘তাদের ইবাদত দ্বারা আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ।' তারা নারীদের আকারে ফেরেশতাদের ছবি প্রতিষ্ঠিত করতো। অতঃপর অন্ধভাবে তাদের ইবাদত করতো এবং বলতো যে, এগুলো হচ্ছে ফেরেশতাদের ছবি, তারা আল্লাহর কন্যা। এ তাফসীর (আরবী) (৫৩:১৯) -এ আয়াতের বিষয়বস্তুর সঙ্গে বেশ মিলে যায়। তথায় তাদের মূর্তিগুলোর নাম নিয়ে নিয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন- তাদের কি সুন্দর বিচার যে, ছেলেগুলো হচ্ছে তাদের এবং মেয়েগুলো আমার!' আর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা আল্লাহর দাস ফেরেশতাদেরকে মহিলা মনে করে নিয়েছে।' (৪৩:১৯) আর এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে বংশ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। (৩৭:১৫৮)হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে (আরবী)-এর অর্থ হচ্ছে মৃত। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, আত্মাহীন প্রত্যেক জিনিসই (আরবী) সেটা শুষ্ক কাঠই হোক বা পাথরই হোক। কিন্তু এ উক্তি দুর্বল।অতঃপর বলা হচ্ছে যে, প্রকৃতপক্ষে তারা শয়তানেরই পূজারী। কেননা, সে-ই তাকে এ পথে চালিত করেছে এবং আসলে তাকেই সে মানছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ হে আদম সন্তান ! আমি কি তোমাদের কাছে অঙ্গীকার নেইনি যে, তোমরা শয়তানের পূজা করবে না’? (৩৬:৬০) এ কারণেই কিয়ামতের দিন ফেরেশতাগণ স্পষ্টভাবে বলে দেবেনঃ ‘আমাদেরকে ইবাদত করার দাবীদারেরা প্রকৃতপক্ষে শয়তানেরই ইবাদত করতো, তাদের অধিকাংশই তাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। শয়তানকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় করুণা হতে দূর করে। দিয়েছিলেন। তাই সেও প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, আল্লাহ তা'আলার বহুসংখ্যক বান্দাকে সে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। হযরত কাতাদাহ (রঃ) বলেন- অর্থাৎ প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জনকে সে নিজের সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। একজন মাত্র অবশিষ্ট থাকবে যে জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে। সে বলেছিল, ‘আমি মানুষকে সত্যপথ হতে ভ্রষ্ট করবো, তাকে আমি এমন আশা দিতে থাকবো যে, সে তাওবা করা ছেড়ে দেবে, স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে এবং মরণকে ভুলে যাবে। ফলে সে আখেরাত হতে বহু দূরে সরে পড়বে। তাদের দ্বারা আমি জন্তুর কান কাটিয়ে নিয়ে ছিদ্র করিয়ে দেবো এবং আল্লাহকে ছেড়ে অন্যের ইবাদতে লিপ্ত হওয়ার জন্যে তাদেরকে উপদেশ দিতে থাকবো। আল্লাহর তৈরী করা আকৃতি নষ্ট করার কার্যে তাদের উৎসাহিত করবো। যেমন অণ্ডকোষ কর্তিত করা। একটি হাদীসে এটার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চেহারার উপর উল্কী করা এবং উল্কী করিয়ে নেয়া এও একটি অর্থ করা হয়েছে। সহীহ মুসলিমে এটা নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়েছে এবং যে এরূপ উল্কী করিয়ে নেয় তাকে অভিসম্পাত করা হয়েছে।সহীহ সনদে হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করতঃ সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যারা উল্কী করে ও করিয়ে নেয়, কপালের চুল তুলে ও তুলিয়ে নেয় এবং দাঁতে বিস্তৃতি সাধন করে, তাদের উপর অভিসম্পাত রয়েছে। আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করবো না কেন যাদের উপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) অভিসম্পাত করেছেন এবং যা আল্লাহ তা'আলার কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে?' অতঃপর তিনি (আরবী) -এ আয়াতটি পাঠ করেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সঃ) তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা হতে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।'(৫৯:৭) কোন কোন ব্যাখ্যাদাতার মতে এর ভাবার্থ হচ্ছে আল্লাহর দিনকে পরিবর্তিত করা। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ তুমি তোমার মুখমণ্ডলকে আল্লাহর একমুখী ধর্মের প্রতি প্রতিষ্ঠিত রাখ, এটা হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্টি যার উপর তিনি মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই।' (৩০:৩০) এ পরের বাক্যটিকে যখন আদেশবাচক ক্রিয়া অর্থে নেয়া হবে তখন এ তাফসীর ঠিকই হবে। অর্থাৎ আল্লাহর প্রকৃতিকে পরিবর্তন করে না। মানুষকে তিনি যে প্রকৃতির উপর সৃষ্টি করেছেন ওর উপরেই থাকতে দাও।সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক শিশু প্রকৃতির উপরই জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার বাপ-মা তাকে ইয়াহূদী করে, খ্রীষ্টান করে বা মাজুসী করে। যেমন ছাগলের নিখুঁত বাচ্চা সম্পূর্ণরূপে দোষমুক্ত হয়ে থাকে কিন্তু মানুষেরাই তার কান ইত্যাদি কেটে নিয়ে তাকে দোষযুক্ত করে থাকে।সহীহ মুসলিমে হযরত আইয়ায ইবনে হাম্মাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা বলেন- আমি আমার বান্দাকে এক মুখী দ্বীনের উপর সৃষ্টি করেছি। কিন্তু শয়তান এসে তাকে পথভ্রষ্ট করেছে। অতঃপর আমি আমার বৈধকে তাদের উপর অবৈধ করেছি।'শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে সে নিজেরই ক্ষতি সাধন করে, যে ক্ষতির আর পূরণ নেই। কেননা, শয়তান তাকে ধোকা দিতে রয়েছে, শয়তান তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তার মুক্তি ও মঙ্গল ঐ ভুল পথেই রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সে বড় প্রতারক, সে স্পষ্টভাবে তাকে ধোকা দিচ্ছে। যেমন কিয়ামতের দিন শয়তান পরিষ্কার ভাষায় মানুষকে বলবে, আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা সত্য ছিল। আর আমি তো ওয়াদা ভঙ্গকারী। তোমাদের উপর আমার কেনি জোর ছিল না। আমার আহ্বান শুনামাত্রই তোমরা নির্বোধের মত কেন তাতে সাড়া দিয়েছিলে? এখন আমাকে ভৎসনা করছো কেন? বরং তোমরা নিজেকেই ভৎসনা কর।' শয়তানের অঙ্গীকারকে সঠিক জ্ঞানকারী, তার প্রদত্ত আশা পূর্ণ হওয়ার ধারণাকারী জাহান্নামেই পৌছে যাবে, যেখান হতে পলায়ন করা অসম্ভব।ঐ হতভাগাদের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তাআলা এখন সৎ লোকদের অবস্থা বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন-যে আমাকে অন্তরে বিশ্বাস করে এবং শরীরের দ্বারা আমার আনুগত্য স্বীকার করে, আমার নির্দেশাবলীর উপর আমল করে, আমি যা নিষেধ করেছি সেটা হতে বিরত থাকে, তাকে আমি আমার নিয়ামত দান করবো এবং তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবো। ঐ জান্নাতের নদীগুলো তাদের ইচ্ছেমত বইতে থাকবে, সেখানে না আছে ধ্বংস না আছে মৃত্যু এবং না আছে কোন ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা। আল্লাহ তাআলার এ অঙ্গীকার অটল ও সম্পূর্ণ সত্য। তিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই এবং তিনি ছাড়া কেউ পালনকর্তাও নেই।'রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় ভাষণে বলতেনঃ 'সবচেয়ে সত্য কথা হচ্ছে আল্লাহর কথা এবং সর্বাপেক্ষা উত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর প্রদর্শিত পথ। আর সমস্ত কাজের মধ্যে জঘন্যতম কাজ হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে নতুন জিনিস আনয়ন করা এবং প্রত্যেক এ নতুন জিনিসই হচ্ছে বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে নিয়ে যাবে।'