Identifikohu
Identifikohu
Identifikohu
Zgjidh Gjuhën

Tefsir: Al-Baqarah 2:131

2:131
اذ قال له ربه اسلم قال اسلمت لرب العالمين ١٣١
إِذْ قَالَ لَهُۥ رَبُّهُۥٓ أَسْلِمْ ۖ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ١٣١
إِذۡ
قَالَ
لَهُۥ
رَبُّهُۥٓ
أَسۡلِمۡۖ
قَالَ
أَسۡلَمۡتُ
لِرَبِّ
ٱلۡعَٰلَمِينَ
١٣١
Kur Zoti i tij i tha: “Përulu!” - ai u përgjigj: “Iu përula Zotit të gjithësisë!”
Tefsiret
Shtresat
Mësimet
Reflektime
Përgjigjet
Kiraat
Hadith
Po lexoni një tefsir për grupin e vargjeve 2:130 deri në 2:132

১৩০-১৩২ নং আয়াতের তাফসীরএই আয়াতসমূহেও মুশরিকদের দাবী খণ্ডন করা হয়েছে। তারা নিজেদেরকে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ধর্মের অনুসারী বলে দাবী করতো, অথচ তারা পূর্ণ মুশরিক ছিল। আর হযরত ইবরাহীম (আঃ) তো একত্ববাদীদের ইমাম ছিলেন। তিনি তাওহীদকে শিরক হতে পৃথককারী ছিলেন। সারা জীবনে চক্ষুর পলক পরিমাণও আল্লাহ তাআলার সাথে কাউকে শরীক করেননি। বরং তিনি প্রত্যেক অংশীবাদীকে প্রত্যেক প্রকারের শিককে এবং কৃত্রিম মাবুদকে অন্তরের সাথে ঘৃণা করতেন এবং তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এই কারণেই তিনি স্বীয় সম্প্রদায় হতে পৃথক হয়ে যান, স্বদেশ ত্যাগ করেন, এমন কি পিতার বিরুদ্ধাচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি পরিষ্কারভাবে বলে দেনঃ ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যে অংশী স্থির করছে আমি তা থেকে বিমুক্ত। নিশ্চয় আমি সুদৃঢ়ভাবে তাঁরই দিকে স্বীয় আনন স্থাপন করলাম যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই। অন্য জায়গায় রয়েছে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) তার সম্প্রদায়কে স্পষ্টভাবে বলেছেনঃ আমি তোমাদের উপাস্যগণ হতে বিমুক্ত রয়েছি, আমি আমার সৃষ্টিকর্তারই বশ্য, তিনিই আমাকে সুপথ প্রদর্শন করবেন।অন্যস্থানে রয়েছেঃ 'হযরত ইবরাহীম (আঃ) তার জন্যেও শুধুমাত্র একটি অঙ্গীকারের কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারেন যে, সে আল্লাহর শত্রু, তখন তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যান, ইবরাহীম বড়ই তওবাকারী ও সহিষ্ণু। অন্যত্র রয়েছেঃ ইবরাহীম খাটিও অনুগত বান্দা ছিল, কখনও মুশরিক ছিল না; প্রভুর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ ছিল, আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় ছিল, সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, পৃথিবীর উত্তম লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পরকালেও সে সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এই আয়াতসমূহের ন্যায় এখানেও আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, নিজেদের জীবনের উপর অত্যাচারকারী ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তিরাই শুধু হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ধর্মকে ত্যাগ করে থাকে। কেননা হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে আল্লাহ্ তা'আলা হিদায়াতের জন্যে মনোনীত করেছিলেন। এবং বাল্যকাল হতেই তাঁকে সত্য অনুধাবনের তওফীক দান করেছিলেন। খালীল’-এর ন্যায় সম্মানিত উপাদি। একমাত্র তাকেই দান করেছিলেন। আখেরাতেও তিনি ভাগ্যবান লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাঁর পথ ও ধর্মকে ছেড়ে দিয়ে যারা ভ্রান্ত পথ ধারণ করে, তাদের মত নির্বোধ ও অত্যাচারী আর কে হতে পারে? এই আয়াতে ইয়াহুদীদের দাবীকেও খণ্ডন করা হয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ‘ইবরাহীম ইয়াহূদীও ছিল না, খ্রীষ্টানও ছিল না, মুশরিকও ছিল না, বরং একত্ববাদী মুসলমান এবং খাটি বান্দা ছিল। তার নিকটবর্তী তারাই যারা তাকে মানে এবং এই নবী (সঃ) ও মু'মিনগণ, আর আল্লাহ তা'আলাও মু'মিনদের অভিভাবক।যখন তার প্রভু তাকে বলেছিলেন, আত্মসমর্পন কর, তখন সে বলেছিল আমি বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। এই একত্ববাদের মিল্লাতের উপদেশই হযরত ইবরাহীম (আঃ) ইয়াকুব (আঃ) তাদের সন্তানগণকে দিয়েছিল (আরবি) সর্বনামটির (আরবি) হয়তো বা (আরবি) হবে কিংবা হবে। (আরবি)-এর ভাবার্থ হচ্ছে ইসলাম এবং (আরবি)-এর ভাবার্থ (আরবি)হবে। ইসলামের প্রতি তাঁদের প্রেম ও ভালবাসা কত বেশী ছিল যে, তারা নিজেরাতো সারা জীবন তার উপর অটল ছিলেনই, আবার সন্তানদেরকেও তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবার উপদেশ দিচ্ছেন। অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ আমি তা তাদের সন্তানদের মধ্যেও বাকী রেখেছি। (৪৩:২৮) কোন কোন মনীষী এরকমও পড়েছেন। তখন ওটার সংযোগ হবে (আরবি)-এর সঙ্গে। তা হলে অর্থ হবেঃ ইবরাহীম (আঃ) তার সন্তানদেরকে এবং সন্তানদের সন্তান ইয়াকুব (আঃ) কে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার উপদেশ দিয়েছিল। কুশাইরী (রঃ) বলেন যে, হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর মৃত্যুর পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তার এ দাবী ভিত্তিহীন, এর উপর কোন বিশুদ্ধ দলীল নেই। বরং স্পষ্টতঃ জানা যাচ্ছে যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর জীবদ্দশাতেই হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইসহাক (আঃ)-এর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। কেননা, কুরআন পাকের আয়াতে রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ আমি তাকে (হযরত ইবরাহীম আঃ-এর স্ত্রী সারাকে) ইসহাক ও ইসহাকের পরে ইয়াকুবের সুসংবাদ দিয়েছি।' (১১:৭১) তাহলে যদি হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর জীবদ্দশায় বিদ্যমান না থাকতেন তবে তার নাম নেয়ার কোন প্রয়োজন থাকতো না। সূরা-ই-আনকাবুতের মধ্যেও রয়েছেঃআমি ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রতি ইসহাক (আঃ) ও ইয়াকুব (আঃ)কে দান করেছি এবং তার সন্তানদের মধ্যে আমি নবুওয়াত ও কিতাব দিয়েছি। অন্য জায়গায় রয়েছেঃ “আমি তাকে ইসহাককে দিয়েছি এবং অতিরিক্ত হিসেবে ইয়াকুবকে দান করেছি। এই সব আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর জীবদ্দশায় বিদ্যমান ছিলেন। পূর্বের কিতাবসমূহেও রয়েছে যে, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে’ আগমন করবেন।সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে হযরত আবু যার (রাঃ) হতে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ “আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কোন মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়?' তিনি বলেনঃ ‘মসজিদ-ই- হারাম। আমি বলি- তার পরে কোনটি?' তিনি বলেনঃ বায়তুল মুকাদ্দাস। আমি বলি, ‘এদুটির মধ্যে সময়ের ব্যবধান"কত?' তিনি বলেনঃ চল্লিশ বছর। ইবনে হিব্বান (রঃ) বলেন যে, এ ব্যবধান হচ্ছে হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত সুলাইমান (আঃ) -এর মধ্যে। অথচ এটা সম্পূর্ণ বিপরীত কথা। এই দুই নবীর মধ্যে হাজার বছরেরও বেশী ব্যবধান ছিল। বরং হাদীসটির ভাবার্থ অন্য কিছু হবে। হযরত সুলাইমান (আঃ) তো ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসের মেরামতকারী, তিনি ওর নির্মাতা ছিলেন না। এরকমই হযরত ইয়াকুব (আঃ) উপদেশ দিয়েছিলেন, যেমন অতিসত্বরই এর আলোচনা আসছে। তাদের ওসিয়তের ভাবার্থ হচ্ছে এইঃ ‘তোমরা তোমাদের জীবদ্দশায় সৎ কর্মশীল হও এবং ওর উপরেই প্রতিষ্ঠিত থাক, যেন মৃত্যুও ওর উপরেই হয়। সাধারণতঃ যে ইহলৌকিক জীবনে যার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে মৃত্যু ওর উপরই হয়ে থাকে, এবং যার উপরে মৃত্যুবরণ করে ওর উপরেই কিয়ামতের দিন তার উত্থান হবে। মহান আল্লাহর বিধান এই যে, যে ব্যক্তি ভাল কাজের ইচ্ছে পোষণ করে, তিনি তাকে সেই কাজের তাওফীক প্রদান করে থাকেন এবং ঐ কাজ তার জন্য সহজ করে দেয়া হয় ও তাকে ওরই উপর অটল রাখা হয়। নিঃসন্দেহে এটাও হাদীসে এসেছে যে, মানুষ বেহেশতের কাজ করতে করতে বেহেশত হতে মাত্র এক হাত দূরে থাকে। অতঃপর তার ভাগ্য তার উপর বিজয় লাভ করে। ফলে সে দুখের কাজ করতঃ দুখী হয়ে যায়। আবার কখনও এর বিপরীত হয়ে থাকে। কিন্তু এর ভাবার্থ এই যে, এই ভাল বা মন্দ বাহ্যিক হয়, প্রকৃত পক্ষে তা হয়। কেননা, এই হাদীসের কোন কোন বর্ণনায় আছেঃ সে বেহেশতের কাজ করে যা মানুষের নিকট প্রকাশ পায় এবং সে দুযখের কাজ করে যা লোকের নিকট প্রকাশ পায়। কুরআন মাজীদ ঘোষণা করেঃ “যে ব্যক্তি দান করেছে, ভয় করেছে এবং ভাল কথার সত্যতা স্বীকার করেছে আমি তাকে শান্তির উপকরণ (বেহেশত) প্রদান করবো। আর যে কার্পণ্য করেছে এবং বেপরোয়া হয়েছে, আর ভাল কথাকে (সত্য ধর্মকে) অবিশ্বাস করেছে, আমি তাকে ক্লেশদায়ক বস্তু (জাহান্নাম)-এর জন্যে আসবাব প্রদান করবো।