Ingia
Ingia
Ingia
Chagua Lugha

Tafsir: Ash-Shuaraa 26:61

26:61
فلما تراءى الجمعان قال اصحاب موسى انا لمدركون ٦١
فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَـٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ ٦١
فَلَمَّا
تَرَٰٓءَا
ٱلۡجَمۡعَانِ
قَالَ
أَصۡحَٰبُ
مُوسَىٰٓ
إِنَّا
لَمُدۡرَكُونَ
٦١
Na yalipo onana majeshi mawili haya, watu wa Musa wakasema: Hakika sisi bila ya shaka tumepatikana! 1
Tafsir
Tabaka
Mafunzo
Tafakari
Majibu
Qiraat
Hadith
Unasoma tafsir kwa kundi la aya 26:60 hadi 26:68

৬০-৬৮ নং আয়াতের তাফসীরফিরাউন তার সমস্ত লোক-লশকর, সমস্ত প্রজা এবং মিসরের ভিতরের ও মিসরের বাইরের লোক, নিজস্ব লোক ও নিজের কওমের লোকদেরকে নিয়ে বড়ই আড়ম্বর ও জাঁকজমকের সাথে বানী ইসরাঈলের লোকদেরকে তচনচ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেল। কেউ কেউ বলেন যে, তাদের সংখ্যা লক্ষাধিক ছিল। তাদের মধ্যে এক লক্ষ তো শুধু কালো রঙের ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিল। এটা হলো আহলে কিতাবের খবর, যে ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। হযরত কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আট লক্ষ লোক এরূপ ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিল। আমাদের ধারণা তো এই যে, এসব হলো বানী ইসরাঈলেরঅতিরঞ্জিত কথা। কুরআন কারীমে এটুকু রয়েছে যে, ফিরাউন তার গোটা দল নিয়ে রওয়ানা হয়েছিল। তাদের সংখ্যা বর্ণনা করা হয়নি। এটা জেনে আমাদের কোন লাভও নেই।সূর্য উদয়ের সময় ফিরাউন তার দলবলসহ বানী ইসরাঈলের নিকট পৌঁছে যায়। কাফিররা মুমিনদেরকে এবং মুমিনরা কাফিরদেরকে দেখতে পায়। হঠাৎ হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গীদের মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়েঃ “হে মূসা (আঃ)! বলুন, এখন উপায় কি? আমরা তো ধরা পড়ে যাবো। সামনে রয়েছে লোহিত সাগর এবং পিছনে রয়েছে ফিরাউনের অসংখ্য সৈন্য। কাজেই আমাদের এখন উভয় সংকট!” এটা স্পষ্ট কথা যে, নবী ও গায়ের নবী কখনো সমান হয় না। হযরত মূসা (আঃ) অত্যন্ত শান্ত মনে জবাব দিলেনঃ “ভয়ের কোন কারণ নেই। তোমাদের উপর কোন বিপদ আসতে পারে না। আমি নিজের ইচ্ছায় তোমাদেরকে নিয়ে বের হইনি, বরং আহকামুল হাকিমীন আল্লাহর নির্দেশক্রমে বের হয়েছি। তিনি কখনো ওয়াদা খেলাফ করেন না। তাদের অগ্রভাগে ছিলেন হযরত হারূন (আঃ)! তার সাথেই হযরত ইউশা ইবনে নূন ছিলেন অথবা ফিরাউনের বংশের কোন একজন মুমিন লোক ছিল। আর হযরত মূসা (আঃ) সেনাবাহিনীর শেষাংশে ছিলেন। ভয় ও পথ না পাওয়ার কারণে বানী ইসরাঈলের স্বাই হতবুদ্ধি হয়ে থমকে দাঁড়ায় এবং উদ্বেগের সাথে হযরত মূসা (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করেঃ “এই পথে চলারই কি আল্লাহর নির্দেশ ছিল?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ। ইতিমধ্যে ফিরাউনের সেনাবাহিনী তাদের একেবারে মাথার মছেই এসে পড়ে। তৎক্ষণাৎ হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট আল্লাহর অহী আসেঃ “হে মূসা (আঃ)! তোমার লাঠি দ্বারা তুমি সমুদ্রে আঘাত কর। তারপর আমার ক্ষমতার নিদর্শন দেখে নাও। তিনি তখন সমুদ্রে তাঁর লাঠি দ্বারা আঘাত লেন। আঘাত করা মাত্রই আল্লাহর নির্দেশক্রমে পানি ফেটে গেল। ঐ উদ্বেগের অবস্থায় তিনি নিম্নরূপ দু'আ করেন যা মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে নিম্নের ভাষায় বর্ণিত আছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে ঐ সত্তা যিনি প্রত্যেক জিনিসের পূর্বে ছিলেন এবং প্রত্যেক জিনিসের পরে থাকবেন, আমাদের জন্যে বের হওয়ার স্থান তৈরী করে দিন।হযরত মূসা (আঃ)-এর মুখে এ দু'আ উচ্চারিত হওয়া মাত্রই তার উপর সমুদ্রে লাঠি মারার অহী এসে পড়ে। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ঐ রাত্রে আল্লাহ তা'আলা পূর্বেই সমুদ্রের প্রতি অহী করেছিলেনঃ “আমার নবী মূসা (আঃ) যখন আসবে এবং তোমার উপর তার লাঠি দ্বারা আঘাত করবে তখন তুমি তার কথা শুনবে ও মানবে।” ঐ রাত্রে সমুদ্রের অবস্থা ছিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। সমুদ্র এদিক-ওদিক তরঙ্গায়িত হচ্ছিল যে, না জানি হযরত মূসা (আঃ) কখন এবং কোন দিক হতে লাঠি মারবেন এবং সে হয়তো খবর রাখবে না ও তার নির্দেশ পালন করতে পারবে। যখন তারা একেবারে তীরে পৌঁছে যান তখন তাঁর সঙ্গী হযরত ইউশা ইবনে নন (আঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আপনার উপর আল্লাহ তাআলার কি নির্দেশ রয়েছে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আমার উপর এই নির্দেশ রয়েছে যে, আমি যেন সমুদ্রের উপর আমার লাঠি দ্বারা আঘাত করি।” হযরত ইউশা (আঃ) তখন বলেনঃ “তাহলে আর বিলম্ব কেন?” তার এ কথা শুনে হযরত মূসা (আঃ) সমুদ্রে লাঠি দ্বারা আঘাত করেন এবং বলেনঃ “আল্লাহর হুকুমে তুমি ফেটে যাও এবং আমার জন্যে রাস্তা করে দাও।” তৎক্ষণাৎ সমুদ্র ফেটে যায় এবং ওর মধ্য দিয়ে পরিষ্কারভাবে রাস্তা দেখা যায়। ওর আশে পাশে পাহাড়ের মত হয়ে পানি খাড়া হয়ে যায়। তাতে বারোটি পথ বের হয়। বানী ইসরাঈলও বারোটি গোত্রেই বিভক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহর কুদরতে প্রতি দু'দলের মাঝে যে পাহাড় প্রতিবন্ধকরূপে ছিল তাতে তাক বা খিলান নির্মিত হয়ে যায়, যাতে প্রত্যেকে একে অপরকে নিরাপদে আসতে যেতে দেখতে পায়। পানি প্রাচীরের মত হয়ে যায়। আর বাতাসকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, সে যেন মধ্য থেকে পানি ও মাটিকে শুকিয়ে দিয়ে পথ পরিষ্কার করে দেয়। সুতরাং ঐ শুষ্ক পথ ধরে হযরত মূসা (আঃ) তাঁর কওমসহ নির্ভয়ে চলতে শুরু করেন। তারপর ফিরাউন ও তার দলবলকে সমুদ্রের নিকটবর্তী করে দেয়া হয়। অতঃপর হযরত মূসা (আঃ) ও বানী ইসরাঈলকে মুক্তি দেয়া হয়। পক্ষান্তরে কাফিরদের সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের একজনও ডুবে যাওয়া হতে রেহাই পায়নি।হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ফিরাউন যখন বানী ইসরাঈলের পলায়নের খবর জানতে পারে তখন সে একটি বকরী যবাহ করে এবং বলেঃ “এর চামড়া ছাড়িয়ে নেয়ার পূর্বেই আমার সামনে ছয় লক্ষ সৈন্য জমা হওয়া চাই।" হযরত মূসা (আঃ) পালিয়ে গিয়ে যখন সমুদ্রের ধারে পৌঁছেন তখন তিনি সমুদ্রকে বলেনঃ “তুমি ফেটে যাও এবং সরে গিয়ে আমাদের জন্যে জায়গা করে দাও।” সমুদ্র উত্তরে বলেঃ “আপনি যে অহংকারের ভঙ্গীতে কথা বলছেন! ইতিপূর্বে কি আমি কখনো ফেটেছি ও সরে গিয়ে কোন মানুষকে জায়গা করে দিয়েছে যে, আপনাকে জায়গা করে দেবো?” তার সাথে যে বুর্গ ব্যক্তিটি ছিলেন তিনি তাঁকে বললেনঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! এটাই কি আল্লাহর বলে দেয়া রাস্তা ও জায়গা?” জবাবে তিনি বলেনঃ “হ্যা, এটাই।” তখন ঐ বুযর্গ লোকটি বললেনঃ “আপনি মিথ্যাবাদীও নন এবং আপনাকে ভুল কথাও বলা হয়নি।” হযরত মূসা (আঃ) দ্বিতীয়বারও সমুদ্রকে ঐ কথাই বললেন, কিন্তু তখনো কিছুই হলো না। ঐ বুযর্গ লোকটি পুনরায় ঐ একই প্রশ্ন করেন, একই জবাব পান এবং তিনি আবার ঐ একই কথা বলেন। তৎক্ষণাৎ তাঁর উপর অহী করা হয়ঃ “সমুদ্রের উপর তুমি তোমার লাঠি দ্বারা আঘাত কর।” এবার তার একথা স্মরণ হয়ে যায় এবং তিনি সমুদ্রের উপর লাঠির আঘাত করেন। আঘাত করা মাত্রই সমুদ্র রাস্তা করে দেয়। বারোটি রাস্তা প্রকাশিত হয়ে পড়ে। প্রত্যেক দল নিজ নিজ রাস্তা চিনে নেয়। তারপর তারা নিজ নিজ পথ ধরে চলতে থাকে এবং একে অপরকে দেখতে দেখতে নিরাপদে সবাই পার হয়ে যায়।হযরত মূসা (আঃ) তো বানী ইসরাঈলকে নিয়ে সমুদ্র অতিক্রম করলেন, আর ওদিকে ফিরাউন ও তার লোক-লশকর তাদের পশ্চাদ্ধাবনে সমুদ্রের মধ্যে এসে পড়লো। হঠাৎ আল্লাহর নির্দেশক্রমে সমুদ্রের পানি যেমন ছিল তেমনই হয়ে গেল এবং তারা সবাই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেল। যখন বানী ইসরাঈলের শেষ ব্যক্তি সমুদ্র হতে বের হলো এবং সর্বশেষ কিতী সমুদ্রের মধ্যে এসে পড়লো, ঠিক ঐ সময় আল্লাহ পাকের হুকুমে সমুদ্রের পানি এক হয়ে গেল এবং এক এক করে সমস্ত কিবতী পানিতে নিমজ্জিত হলো। এতে বড় রকমের নিদর্শন রয়েছে যে, কিভাবে গুনাহগার ধ্বংস হয় এবং নেককার পরিত্রাণ পায়। কিন্তু তথাপিও অধিকাংশ লোক ঈমানরূপ সম্পদ হতে বঞ্চিত হয়। তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালক তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।