Ingia
Ingia
Ingia
Chagua Lugha

Tafsir: Fatir 35:41

35:41
۞ ان الله يمسك السماوات والارض ان تزولا ولين زالتا ان امسكهما من احد من بعده انه كان حليما غفورا ٤١
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يُمْسِكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ أَن تَزُولَا ۚ وَلَئِن زَالَتَآ إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍۢ مِّنۢ بَعْدِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًۭا ٤١
۞ إِنَّ
ٱللَّهَ
يُمۡسِكُ
ٱلسَّمَٰوَٰتِ
وَٱلۡأَرۡضَ
أَن
تَزُولَاۚ
وَلَئِن
زَالَتَآ
إِنۡ
أَمۡسَكَهُمَا
مِنۡ
أَحَدٖ
مِّنۢ
بَعۡدِهِۦٓۚ
إِنَّهُۥ
كَانَ
حَلِيمًا
غَفُورٗا
٤١
Hakika Mwenyezi Mungu ndiye anaye zuilia mbingu na ardhi zisiondoke. Na zikiondoka hapana yeyote wa kuzizuia isipo kuwa Yeye. Hakika Yeye ni Mpole Mwenye kusamehe. 1
Tafsir
Tabaka
Mafunzo
Tafakari
Majibu
Qiraat
Hadith
Unasoma tafsir kwa kundi la aya 35:40 hadi 35:41

৪০-৪১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সাঃ)-কে বলছেন যে, তিনি যেন মুশরিকদেরকে বলেনঃ আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকছে, তারা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে তা একটু দেখিয়ে দাও তো, অথবা এটাই প্রমাণ করে দাও যে, আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টিতে তাদের কি অংশ রয়েছে? তারা তো অণু পরিমাণ জিনিসেরও মালিক নয়। তাহলে তারা যখন সৃষ্টিকারী নয় এবং সৃষ্টিতে অংশীদারও নয় এবং অণু পরিমাণ জিনিসেরও মালিক নয় তখন তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে তাদেরকে কেন ডাকছো? আচ্ছা, এটাও যদি না হয় তবে কমপক্ষে তোমরা তোমাদের কুফরী ও শিরকের কোন লিখিত দলীল পেশ কর। কিন্তু তোমরা এটাও পারবে না। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তোমরা শুধু তোমাদের প্রবৃত্তি ও মতের পিছনে লেগে রয়েছে। দলীল-প্রমাণ কিছুই নেই। তোমরা বাতিল, মিথ্যা ও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছে। একে অপরকে তোমরা প্রতারিত করছে। নিজেদের মনগড়া মিথ্যা মা’ৰূদের দুর্বলতাকে সামনে রেখে সঠিক ও সত্য মা'বুদ আল্লাহ তা'আলার ব্যাপক ও অসীম শক্তির প্রতি লক্ষ্য কর যে, আসমান ও যমীনে তাঁরই হুকুম কায়েম রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে স্থির রয়েছে। এদিক ওদিক চলে যায় না। আকাশকে তিনি যমীনের উপর পড়ে যাওয়া হতে মাহফুয রেখেছেন। প্রত্যেকটাই তাঁর হুকুমে নিশ্চল ও স্থির রয়েছে। তিনি ছাড়া অন্য কেউই এগুলোকে স্থির রাখতে পারে না এবং সুশৃংখলভাবে কায়েম রাখতে পারে না। এই সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণ আল্লাহকে দেখো যে, তাঁর সৃষ্টজীব ও দাস তাঁর নাফরমানী, শিরক ও কুফরীতে ডুবে থাকা সত্ত্বেও তিনি সহনশীলতার সাথে তাদেরকে ক্ষমা করে চলেছেন। অবকাশ ও সুযোগ দিয়ে তিনি তাদের পাপরাশি ক্ষমা করতে রয়েছেন। এখানে ইবনে আবি হাতিম (রঃ) একটি গারীব এমনকি মুনকার হাদীস আনয়ন করেছেন। তাতে রয়েছে যে, হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে একদা মিম্বরে হযরত মূসা (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হযরত মূসা (আঃ)-এর অন্তরে একদা খেয়াল জাগলো যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ কি নিদ্রা যান? তখন আল্লাহ তা'আলা একজন ফেরেশতাকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন যিনি তাঁকে তিনদিন পর্যন্ত ঘুমাতে দিলেন না। অতঃপর তিনি তার দু'হাতে দু'টি বোতল দিলেন এবং তাঁকে বললেনঃ “এগুলো হিফাযত করুন যেন পড়ে না যায় এবং না ভাঙ্গে।” হযরত মূসা (আঃ) ওগুলো রক্ষা করে চললেন। কিন্তু তার উপর নিদ্রার প্রকোপ ছিল বলে তন্দ্রা আসছিল। তন্দ্রায় ঝুঁকে পড়তেই তিনি সতর্ক হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষে দ্রিা তাঁর উপর চেপে বসলো এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ফলে বোতল দু’টি তাঁর হাত হতে পড়ে গিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। এতে তাঁকে জানানো উদ্দেশ্য ছিল যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন দু'টি বোতল ধরে রাখতে পারে না তখন আল্লাহ তা'আলা যদি নিদ্রা যেতেন তাহলে আসমান ও যমীনের হিফাযত কি করে সম্ভব হতো? কিন্তু এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এটা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বর্ণনা নয়, বরং এটা বানী ইসরাঈলের মনগড়া গল্প। এ কি সম্ভব যে, হযরত মূসা (আঃ)-এর ন্যায় একজন বড় মর্যাদা সম্পন্ন নবী এ ধরনের চিন্তা করতে পারেন যে, আল্লাহ তা'আলা নিদ্রা যান? অথচ আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বিশেষণের মধ্যে বলে দিয়েছেন যে, তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। যমীন ও আসমানের যাবতীয় বস্তুর মালিক তিনিই? হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা নিদ্রা যান না, আর এটা তাঁর শানের বিপরীত যে, তিনি নিদ্রা যাবেন। তিনি পাল্লাকে উঁচু-নীচু করে থাকেন। দিনের আমল রাতের পূর্বে এবং রাতের আমল দিনের পূর্বে তাঁর কাছে পৌছে যায়। জ্যোতি অথবা আগুন তাঁর হিজাব বা পর্দা। যদি তা খুলে দেয়া হয় তাহলে যেখান পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হবে সেখান পর্যন্ত সমস্ত মাখলূক তাঁর চেহারার তাজাল্লীতে জ্বলে পুড়ে যাবে।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একটি লোক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে আগমন করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “কোথা হতে আসলে?” সে উত্তর দিলোঃ “সিরিয়া হতে।” তিনি প্রশ্ন করলেনঃ “সেখানে কার সাথে সাক্ষাৎ করেছো?” সে জবাবে বললোঃ “হযরত কা'ব (রাঃ)-এর সাথে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “কা'ব (রাঃ) কি বর্ণনা করলেন?” লোকটি উত্তর দিলো যে, হযরত কা'ব (রাঃ) বললেনঃ “আসমান একজন ফেরেশতার কাঁধ পর্যন্ত ঘুরতে আছে।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) লোকটিকে বললেনঃ “তুমি কি তাঁর কথাটিকে সত্য বলে মেনে নিলে, না মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলে?” লোকটি জবাব দিলোঃ “আমি কিছুই মনে করিনি।" তখন তিনি বললেনঃ “হযরত কা'ব (রাঃ) ভুল বলেছেন।” অতঃপর তিনি (আরবী)-এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। (এ হাদীসটি ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এর ইসনাদ বিশুদ্ধ) অন্য সনদে আগুন্তুক লোকটির নাম হযরত জুনদুব বাজালী (রাঃ) বলা হয়েছে। ইমাম মালিকও (রঃ) একথা খণ্ডন করতেন যে, আসমান ঘুরতে রয়েছে। আর তিনি এ আয়াত হতেই দলীল গ্রহণ করতেন এবং ঐ হাদীস থেকেও দলীল গ্রহণ করতেন যাতে রয়েছে। যে, পশ্চিমে একটি দরযা রয়েছে যেটা তাওবার দরযা, ওটা বন্ধ হবে না যে পর্যন্ত না পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হবে। এ হাদীসটি সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ। এসব ব্যাপারে মহান ও পবিত্র আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।