ลงชื่อเข้าใช้
ลงชื่อเข้าใช้
ลงชื่อเข้าใช้
เลือกภาษา

ตัฟซีร: Az-Zukhruf 43:75

43:75
لا يفتر عنهم وهم فيه مبلسون ٧٥
لَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ ٧٥
لَا
يُفَتَّرُ
عَنۡهُمۡ
وَهُمۡ
فِيهِ
مُبۡلِسُونَ
٧٥
[75] การลงโทษนั้นจะไม่ถูกลดหย่อนแก่พวกเขา และในการลงโทษนั้นพวกเขาเป็นผู้หมดหวัง
ตัฟซีร
ชั้นต่างๆ
บทเรียน
ภาพสะท้อน
คำตอบ
กิรอต
หะดีษ
คุณกำลังอ่านตัฟซีร สำหรับกลุ่มอายะห์ที่ 43:74 ถึง 43:80

৭৪-৮০ নং আয়াতের তাফসীর: উপরে সৎ লোকদের বর্ণনা দেয়া হয়েছিল এ জন্যে এখানে মন্দ ও অসৎ লোকদের অবস্থার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, পাপীরা স্থায়ীভাবে জাহান্নামের আযাব। ভোগ করতে থাকবে। এক ঘন্টার জন্যেও তাদের ঐ শাস্তি হালকা করা হবে না। জাহান্নামে সে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকবে। সর্বপ্রকারের কল্যাণ হতে সে। নিরাশ হয়ে যাবে।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারা নিজেরাই ছিল যালিম। দুষ্কর্যের মাধ্যমে তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। আমি রাসূল পাঠিয়েছিলাম, কিতাব নাযিল করেছিলাম এবং যুক্তি-প্রমাণ কায়েম করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের হঠকারিতা, অবাধ্যতা এবং সীমালংঘন হতে বিরত হয়নি। ফলে আমি তাদেরকে এর প্রতিফল প্রদান করেছি। এটা আমার তাদের প্রতি যুলুম নয়, আমি তো আমার বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করি না। জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষক মালিককে চীৎকার করে ডাক দিয়ে বলবেঃ ‘তোমার প্রতিপালক যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করে দেন। সহীহ বুখারী শরীফের মধ্যে হযরত ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মিম্বরের উপর এ আয়াতটি পড়তে শুনেন, অতঃপর তিনি বলেন যে, জাহান্নামীরা মৃত্যু কামনা করবে যাতে শাস্তি হতে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে এটা ফায়সালা হয়ে গেছে যে, না তাদের মৃত্যু হবে এবং না তাদের শাস্তি হালকা করা হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের উপর এ সিদ্ধান্ত নেই যে, তারা মৃত্যু বরণ করবে, আর তাদের হতে শাস্তি হালকা করা হবে না।” (৩৫:৩৬) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওটা (উপদেশ) উপেক্ষা করবে যে নিতান্ত হতভাগা, যে মহা অগ্নিতে প্রবেশ করবে, অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।” (৮৭:১১-১৩)।যখন জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষক মালিকের কাছে আবেদন করবে যে, আল্লাহ তাআলা যেন তাদের মৃত্যু ঘটিয়ে দেন, তখন মালিক উত্তরে বলবেঃ ‘তোমরা এখানে এভাবেই থাকবে, তোমাদের আর মৃত্যু হবে না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, হলো এক হাজার বছর। অর্থাৎ তোমরা মরবেও না, মুক্তিও পাবে না এবং এখান হতে পালাতেও পারবে না। এরপর মহান আল্লাহ তাদের দুস্কার্যের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যখন তিনি তাদের সামনে সত্যকে পেশ করেন অর্থাৎ তাদের সামনে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন। তখন তারা তা মেনে নেয়া তো দূরের কথা, ওর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতঃ মুখ ফিরিয়ে নেয়। ওটা তাদের মনেই চায় না। তাই তারা হকপন্থীদেরকে ঘৃণার চোখে দেখে। তারা অসত্য ও অন্যায়ের দিকেই ঝুঁকে থাকে এবং অসৎপন্থীদের সাথেই তাদের খুব মিল মহব্বত। সুতরাং তাদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা আজ নিজেদেরকেই ভৎসনা কর এবং নিজেদের উপরই দুঃখ আফসোস কর। কিন্তু সেদিন তাদের আফসোসেও কোন উপকার হবে না।এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ “তারা জঘন্য চক্রান্তের ইচ্ছা করেছিল, তখন আমিও কৌশল করেছিলাম।' মুজাহিদ (রঃ) এটার এই তাফসীর করেছেন এবং এর স্বপক্ষে আল্লাহ্ পাকের নিম্নের উক্তিটি রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এমন কৌশল করেছিলাম যে, তারা বুঝতেই পারে না।” (২৭:৫০) মুশরিকরা সত্যকে এড়িয়ে চলার জন্যে নানা প্রকারের কৌশল অবলম্বন করতো। আল্লাহ তাআলাও তখন তাদেরকে ধোকার মধ্যেই রেখে দেন এবং তাদের দুষ্কর্মের শাস্তি তাদের মাথার উপর এসে না পড়া পর্যন্ত তাদের চক্ষু খুললো না। এ জন্যেই এর পরেই প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ “তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না? তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আমি অবশ্যই তাদের সমস্ত গোপন বিষয় অবগত রয়েছি। আর আমার ফেরেশতারা তো তাদের নিকট থেকে সবকিছু লিপিবদ্ধ করে। অর্থাৎ আমি নিজেই তো তাদের সমস্ত গোপন বিষয়ের খবর রাখি, তদুপরি আমার নির্ধারিত ফেরেশতারা তাদের ছোট বড় সব আমলই লিপিবদ্ধ করে রাখছে।