Giriş yap
Giriş yap
Giriş yap
Dil Seçin

Tefsir: Al-A'raf 7:17

7:17
ثم لاتينهم من بين ايديهم ومن خلفهم وعن ايمانهم وعن شمايلهم ولا تجد اكثرهم شاكرين ١٧
ثُمَّ لَـَٔاتِيَنَّهُم مِّنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَـٰنِهِمْ وَعَن شَمَآئِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَـٰكِرِينَ ١٧
ثُمَّ
لَأٓتِيَنَّهُم
مِّنۢ
بَيۡنِ
أَيۡدِيهِمۡ
وَمِنۡ
خَلۡفِهِمۡ
وَعَنۡ
أَيۡمَٰنِهِمۡ
وَعَن
شَمَآئِلِهِمۡۖ
وَلَا
تَجِدُ
أَكۡثَرَهُمۡ
شَٰكِرِينَ
١٧
"Beni azdırdığın için, and olsun ki, Senin doğru yolun üzerinde onlara karşı duracağım; sonra önlerinden, ardlarından, sağ ve sollarından onlara sokulacağım; çoğunu Sana şükreder bulamayacaksın" dedi.
Tefsirler
Katmanlar
Dersler
Yansımalar
Cevaplar
Kıraat
Hadis
7:16 ile 7:17 arasındaki ayetler grubu için bir tefsir okuyorsunuz

১৬-১৭ নং আয়াতের তাফসীর: যখন ইবলীস কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ পেয়ে গেল এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো তখন সে বিদ্রোহ ও একগুয়েমী শুরু করে দিলো। সে বললো-“হে আল্লাহ! যেমনভাবে আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করে দিলেন, তেমনভাবেই আমিও আপনার বান্দাদেরকে সরল সোজা পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দেবো।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) (আরবী)-এর অনুবাদ (আরবী) করেছেন। আর অন্যেরা (আরবী) করেছেন। সে বললো- “আমি আদম (আঃ)-এর প্রতিশোধ তার বংশধর হতে গ্রহণ করবো। কেননা, তারই কারণে আমি আপনার দরবার হতে বহিষ্কৃত হয়েছি।” সিরাতে মুসতাকীম দ্বারা সত্যপথ ও মুক্তির পথ বুঝানো হয়েছে। (ইবলীস বললোঃ) “আমি আপনার বান্দাদেরকে এইভাবে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করবো যে, তারা আপনার ইবাদত করবে না এবং আপনার একত্ববাদ থেকে দূরে থাকবে। কোন কোন আরবী ব্যাকরণবিদ বলেন যে, এখানে (আরবী) শব্দের আক্ষরটি কসমের জন্যে আনা হয়েছে। যেন বলা হয়েছে-আপনার কুপথে পরিচালনার শপথ, যা আমার প্রতি করা হয়েছে।মুজাহিদ (রঃ) “সিরাত’ (আরবী) বুঝিয়েছেন। আর মুহাম্মাদ ইবনে সাওকার মতে এর দ্বারা মক্কার পথ’ বুঝানো হয়েছে। আর ইবনে জারীর (রঃ) বলেন-সঠিক কথা তো এই যে, এই শব্দটি এই সমুদয় অর্থের জন্যে আম’ বা সাধারণ। সীরা ইবনে আবিল ফাকা’ হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, শয়তান বিভিন্ন পন্থায় বানী আদমকে পথভ্রষ্ট করে থাকে। সে ইসলামের পথের উপর এসে বসে পড়ে এবং বলে- “তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করবে এবং স্বীয় বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করবে?” কিন্তু ঐ লোকটি শয়তানের অবাধ্য হয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর সে লোকটির হিজরতের পথে এসে বসে যায় এবং বলে- “তুমি স্বীয় দেশ ছেড়ে কেন হিজরত করছো? মুহাজিরের মর্যাদা একটা জানোয়ার ও ঘোড়ার চেয়ে বেশী হয় না। কিন্তু সে তার কথা অমান্য করে ও হিজরতের পথ অবলম্বন করে। এরপর শয়তান তার জিহাদে গমন বন্ধ করার জন্যে পথে বসে পড়ে। জিহাদ জীবন দিয়েও হতে পারে এবং মালধন দিয়েও হতে পারে। সে তাকে বলে- “তুমি কি যুদ্ধ করার জন্যে বের হচ্ছো? সাবধান! তুমি নিহত হয়ে যাবে এবং তোমার স্ত্রী অন্যের সাথে বিবাহিতা হয়ে যাবে। আর তোমার মালধন লোকেরা পরস্পরের মধ্যে ভাগ বণ্টন করে নেবে।” কিন্তু তবুও সে জিহাদের জন্যে বেরিয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ যে ব্যক্তি এই কাজ করে এবং মারা যায়, তাকে জান্নাতে স্থান দেয়া আল্লাহ পাকের জন্যে অবশ্যকর্তব্য হয়ে পড়ে, হয় সে নিহতই হাক বা পথে ডুবেই মরুক অথবা পথিমধ্যে কোন জীন-জন্তু দ্বারা পদদলিতই হাক।”শয়তান বললো-আমি বানী আদমের সামনের দিক থেকেও আসবো এবং পিছনের দিক থেকেও আসবো। অর্থাৎ পরকাল সম্পর্কে তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দেবো এবং দুনিয়ার আসক্তির প্রতি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবো। আর ডান দিক থেকেও আসবো। অর্থাৎ আমরে দ্বীন তাদের উপর সন্দেহপূর্ণ করে তুলবো। তাদের বাম দিক থেকেও আসবো। অর্থাৎ পাপ ও অবাধ্যতামূলক কার্যকলাপ তাদের জন্যে যোগ্য ও গ্রহণীয় বানিয়ে দেবো।আবার বিভিন্ন লোক এর বিভিন্ন ভাবার্থ নিয়ে থাকেন, যেগুলো প্রয়ি কাছাকাছি। শয়তান ‘আমি উপরের দিক থেকেও আসবো’ এ কথা বলেনি। কেননা, উপর থেকে তো শুধুমাত্র আল্লাহর রহমতই আসতে পারে। সে বললোঃ “হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী অর্থাৎ একত্ববাদীরূপে পাবেন না” এ কথাটা শয়তান স্বীয় খেয়াল ও ধারণার ভিত্তিতেই বলেছিল বটে, কিন্তু সেটা সত্যে পরিণত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ইবলীসের এ ধারণা ঠিকই ছিল। কেননা, মুমিনরা ছাড়া সবাই তার অনুসরণ করছে। কিন্তু মুমিনদের উপর সে তার জাল বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। আর আমি যে শয়তানকে এই চেষ্টা-তদবীরের ক্ষমতা দিয়েছি তার উদ্দেশ্য এই যে, কে পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং কে সন্দেহ পোষণকারী তা যেন প্রকাশ পেয়ে যায়। আর আল্লাহ তো প্রত্যেক জিনিসেরই রক্ষক।এ জন্যেই তো হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে এইভাবে আশ্রয় প্রার্থনা কর- “হে আল্লাহ! কোন দিক থেকেই সে যেন আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বয়ং প্রার্থনায় বলতেন- “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি, দ্বীনের জন্যেও দুনিয়ার জন্যেও এবং পরিবার ও ধন-সম্পদের জন্যেও। হে আল্লাহ! আমার গুনাহগুলো মাফ করে দিন, ভয় থেকে আমাকে নিরাপদে রাখুন। আর সামনের দিক থেকেও আমাকে রক্ষা করুন, পিছনের দিক থেকেও রক্ষা করুন এবং ডান দিক থেকেও আমাকে হিফাযত করুন, বাম দিক থেকেও আমাকে হিফাযত করুন এবং উপর দিক থেকেও রক্ষা করুন! আর শয়তান নীচের দিক থেকে আমার উপর প্রতারণার জাল বিস্তার করে, এ থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”