Giriş yap
Giriş yap
Giriş yap
Dil Seçin

Tefsir: Al-A'raf 7:195

7:195
الهم ارجل يمشون بها ام لهم ايد يبطشون بها ام لهم اعين يبصرون بها ام لهم اذان يسمعون بها قل ادعوا شركاءكم ثم كيدون فلا تنظرون ١٩٥
أَلَهُمْ أَرْجُلٌۭ يَمْشُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ أَيْدٍۢ يَبْطِشُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌۭ يُبْصِرُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ ءَاذَانٌۭ يَسْمَعُونَ بِهَا ۗ قُلِ ٱدْعُوا۟ شُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ ١٩٥
أَلَهُمۡ
أَرۡجُلٞ
يَمۡشُونَ
بِهَآۖ
أَمۡ
لَهُمۡ
أَيۡدٖ
يَبۡطِشُونَ
بِهَآۖ
أَمۡ
لَهُمۡ
أَعۡيُنٞ
يُبۡصِرُونَ
بِهَآۖ
أَمۡ
لَهُمۡ
ءَاذَانٞ
يَسۡمَعُونَ
بِهَاۗ
قُلِ
ٱدۡعُواْ
شُرَكَآءَكُمۡ
ثُمَّ
كِيدُونِ
فَلَا
تُنظِرُونِ
١٩٥
Onların yürüyecek ayakları mı var, yoksa tutacak elleri mi var, ya da görecek gözleri mi var, veya işitecek kulakları mı var? De ki: "Ortaklarınızı çağırın elinizden gelirse bana tuzak kurun, göz açtırmayın."
Tefsirler
Katmanlar
Dersler
Yansımalar
Cevaplar
Kıraat
Hadis
7:191 ile 7:198 arasındaki ayetler grubu için bir tefsir okuyorsunuz

১৯১-১৯৮ নং আয়াতের তাফসীর: যে মুশরিকরা আল্লাহকে ছেড়ে প্রতিমা-পূজায় লিপ্ত হয়ে পড়ে তাদেরকে এখানে ভৎসনা করা হচ্ছে যে, এই প্রতিমাগুলোও আল্লাহর সৃষ্ট এবং মানুষই এগুলো নির্মাণ করেছে। এদের কোনই ক্ষমতা নেই। এগুলো কারও কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না। এদের দেখারও শক্তি নেই এবং যারা এদের ইবাদত করে তাদের এরা কোন সাহায্যও করতে পারে না। বরং এ মূর্তিগুলো তো জড় পদার্থের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো নড়াচড়া পর্যন্ত করতে পারে না। এমন কি যারা এদের ইবাদত করে তারাও এদের চেয়ে উত্তম। কেননা, তারা শুনতে পায়, দেখতে পায়, স্পর্শ করতে পারে এবং ধরতে পারে । এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ “তারা কি ঐ পাথরের মূর্তিগুলোকে আল্লাহর অংশীদার বানিয়ে নিচ্ছে যারা কোন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না? বরং তারা নিজেরাই তো সৃষ্ট। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে লোক সকল! একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হচ্ছে দেখো! যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যান্যের উপাসনা করছে ঐ উপাস্যগুলো তো একটি মাছি পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারে না যদিও তারা সবাই একত্রিত হয়ে চেষ্টা করে, এমন কি মাছিও যদি তাদের খাবারের কোন জিনিস ছিনিয়ে নেয় তবে তারা তার নিকট থেকে তা ফিরিয়ে নিতেও পারে না। আকাংখী ও আকাংখিত উভয়েই কতই না দুর্বল ও শক্তিহীন!” তারা আল্লাহর মর্যাদা বুঝেনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই শক্তিশালী ও প্রবল পরাক্রান্ত। তাদের উপাস্যরা এতই দুর্বল ও শক্তিহীন যে, মাছি একটা নিকৃষ্ট খাবারও যদি তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে উড়ে যায় তবে তার নিকট থেকে তা কেড়ে নেয়ারও শক্তি এদের নেই। যাদের বিশেষণ এইরূপ তারা কি করে জীবিকা দান করতে পারে বা সাহায্য করতে পারে? যেমন হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা কি এমন জিনিসের ইবাদত করছো যাকে তোমরা নিজেরাই নির্মাণ করছো?” (৩৭:৯৫)।ইরশাদ হচ্ছে- তারা তাদের উপাসনাকারীদের সামান্য পরিমাণও সাহায্য করতে পারে না। এমন কি কেউ যদি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তবে তা থেকে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতেও পারে না। যেমন হযরত ইবরাহীম খলীল (আঃ) স্বীয় কওমের মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেলতেন এবং এভাবে পূর্ণমাত্রায় ওদেরকে লাঞ্ছিত করতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, মূর্তিগুলোকে ইবরাহীম (আঃ) মেরে মেরে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। কিন্তু ভুতখানার সবচেয়ে বড় মূর্তিকে ছেড়ে দিলেন, যেন জনগণ এসে ঐ বড় মূর্তিটিকে জিজ্ঞেস করে যে, এটা কি হয়েছে এবং কে করেছে?হযরত মুআহ্ ইবনে আমর ইবনুল জামূহ (রাঃ) এবং হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) দু’জন যুবক লোক ছিলেন। তাঁরা মুসলমান হয়েছিলেন। রাত্রিকালে তারা মদীনায় মুশরিকদের মূর্তিগুলোর নিকটে যেতেন এবং ওগুলোকে ভেঙ্গে ফেলতেন। ওগুলো কাঠ দ্বারা নির্মিত হয়ে থাকলে ওগুলো ভেঙ্গে দিয়ে জ্বালানী কাষ্ঠ রূপে ব্যবহারের জন্যে গরীব বিধবা নারীদেরকে ওগুলো দিয়ে দিতেন।উদ্দেশ্য এই যে, যেন মুশরিকরা এর থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং নিজেদের আমল ও আকীদার উপর চিন্তা ভাবনা করে। আমর ইবনে জামূহ (রাঃ) ছিলেন স্বীয় গোত্রের নেতা! তাঁর একটা প্রতিমা ছিল। তিনি ঐ প্রতিমার পূজা করতেন। ওর গায়ে তিনি সুগন্ধি মাখাতেন। রাত্রিকালে ঐ দু'যুবক তার ভুতখানায় যেতেন এবং ঐ প্রতিমার মাথার উপর ময়লা-আবর্জনা রেখে দিতেন। আমর ইবনে জামূহ মূর্তিটিকে ঐ অবস্থায় দেখতেন এবং আবর্জনা ধুয়ে মুছে পুনরায় সুগন্ধি মাখাতেন। অতঃপর ওর পার্শ্বে তরবারী রেখে দিয়ে বলতেনঃ “এর দ্বারা তুমি নিজেকে রক্ষা করবে।” দ্বিতীয় রাতে যুবকদ্বয় আবার ঐ কাজই করতেন এবং ইবনে জামৃহ ওটা ধুয়ে মুছে সাফ করতেন এবং পুনরায় ওর পার্শ্বে তরবারী রেখে দিতেন। অবশেষে একদিন যুবকদ্বয় ঐ মূর্তিটিকে বের করে আনেন এবং একটি কুকুরের মৃত দেহের সাথে ওকে বেঁধে একটি রজ্জ্বর মাধ্যমে একটি কুয়ায় লটকিয়ে দেন। আমর ইবনে জামূহ এসে মূর্তিটিকে এ অবস্থায় যখন দেখলেন তখন তার জ্ঞান আসলো যে, তিনি প্রতিমা পূজায় লিপ্ত থেকে এতোদিন বাতিল আকীদার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। তাই তিনি মূর্তিটিকে সম্বোধন করে বললেনঃ “তুমি যদি সত্যিই উপাস্য হতে তবে এই কুয়ার মধ্যে কুকুরটির সাথে পড়ে থাকতে না।” অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং একজন ভাল মুসলিম রূপে জীবন অতিবাহিত করেন। উহুদের যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।ইরশাদ হচ্ছে- তুমি যদি ওদেরকে সৎপথে ডাকো তবে ওরা তোমার অনুসরণ করবে না। অর্থাৎ লো কারো ডাক শুনতে পায় না। ওদেরকে। ডাকা এবং না ডাকা সমান কথা। হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে পিতা! এমন মূর্তির উপাসনা করবেন না যা না শুনতে পায়, না দেখতে পায়, না আপনার কোন কাজ করে দেয়।” আল্লাহ পাক বলেনঃ মূর্তিপূজকের মত এই মূর্তিগুলোও আল্লাহরই সৃষ্ট। এমন কি এই মূর্তিপূজকরাই বরং মূর্তিগুলোর চেয়ে উত্তম। কেননা, তারা শুনতে পায়, দেখতে পায় এবং স্পর্শ করতে তো পারে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাও আল্লাহর সাথে তোমরা যাদেরকে অংশী করছে তাদেরকে ডাকো, তারপর সকলে সমবেত হয়ে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকো এবং আমাকে আদৌ কোন অবকাশ দিয়ো না। আর আমার বিরুদ্ধে মন খুলে চেষ্টা চালিয়ে দেখো। আমার সাহায্যকারী হচ্ছেন ঐ আল্লাহ যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তিনি সঙ্কর্মশীলদের অভিভাবক। ঐ আল্লাহই আমার জন্যে যথেষ্ট। তিনিই আমাকে সাহায্য করবেন। তাঁরই উপর আমি ভরসা করছি। আমি যদি বাধ্য হই তবে তাঁরই বাধ্য হবো। তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে শুধু আমার নয় বরং আমার পরেও সকল সৎকর্মশীল লোকেরই অভিভাবক ও বন্ধু । যেমন হূদ (আঃ) স্বীয় কওমের কথার প্রতি উত্তরে বলেছিলেন, যখন তারা তাকে অপবাদ দিয়ে বলেছিলঃ “তোমার উপর আমাদের দেবতাদের মার পড়েছে, এ জন্যেই তুমি এসব বিভ্রান্তি মূলক কথা বলছো।” তিনি উত্তরে তাদেরকে বলেছিলেনঃ “আমি তো আল্লাহরই সাক্ষ্য দান করছি এবং পরিষ্কারভাবে তোমাদেরকে বলে দিচ্ছি যে, আমি তোমাদের শরীকদের প্রতি ঘৃণা ও অসন্তোষ প্রকাশ করছি। আচ্ছা, তোমরা সমবেতভাবে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে দেখো এবং আমাকে আত্মরক্ষার সুযোগে পর্যন্ত দিয়ো না। তোমরা আমার কি ক্ষতি করবে? আমার ভরসাস্থল একমাত্র আল্লাহ। তিনি আমার তোমাদের সবারই প্রতিপালক। দুনিয়ায় এমন কোন প্রাণী নেই যার বাগডোর তার হাতে নেই। আমার প্রতিপালক সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন।” হযরত ইবরাহীম (আঃ) স্বীয় কওমকে বলেছিলেনঃ “যে প্রতিমাগুলোর পূজা তোমরা করছো এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা করতো সেগুলো সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি? এরা তো আমার শত্রু, আর আমার বন্ধু হচ্ছেন স্বয়ং আমার প্রতিপালক। তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।” আরো যেমন হযরত ইবরাহীম (আঃ) স্বীয় পিতা এবং কওমের লোককে সম্বোধন করে বলেছিলেনঃ “আমি তোমাদের দেবতাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। আমি আমার আল্লাহরই ইবাদতকারী যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আমাকে হিদায়াতের পথে চালিয়েছেন, আর এর পেছনে তিনি এটাকে একটা স্মারক হিসাবে রেখে দিয়েছেন, আশা এই যে, হয়তো এরা নিজেদের কার্যকলাপ থেকে ফিরে আসবে।” এ জন্যেই ইরশাদ হচ্ছে- এরা না তোমাদের সাহায্য করতে পারে, না পারে নিজেদেরকে সাহায্য করতে। যদি তুমি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর তবে তারা তোমার ডাক শুনতে পাবে না। তুমি মনে করছে যে, ওরা (মূর্তিগুলো) তোমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কিন্তু আসলে কিছুই দেখে না। ওরা ছবির চক্ষু দ্বারা তোমাকে দেখছে। মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতই তোমার প্রতি দৃষ্টিপাত করছে। কিন্তু বাস্তবে তো ওরা নিজীব। এ জন্যেই ওদের সম্পর্কে এমন ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে যেমন জ্ঞান বুদ্ধির অধিকারীর ব্যাপারে প্রয়োগ করা হয়। কেননা, ওগুলো হচ্ছে মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট এবং মানুষের মতই মনে হয়। আল্লাহ পাক বলেনঃ তুমি দেখছো যে, তারা যেন মনোযোগের সাথে তোমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এ কারণেই ওদের ব্যাপারে সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের বেলায় প্রয়োগ করা হয়। অথচ ওগুলো তো জড় পদার্থ ও নিজীব। আর নির্জীব ও জড় পদার্থের ব্যাপারে (আরবী) সর্বনাম ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সুদ্দী (রঃ) এর দ্বারা প্রতিমার পরিবর্তে মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রথম মতটিই সঠিকতর।