Giriş yap
Giriş yap
Giriş yap
Dil Seçin

Tefsir: An-Nahl 16:78

16:78
والله اخرجكم من بطون امهاتكم لا تعلمون شييا وجعل لكم السمع والابصار والافيدة لعلكم تشكرون ٧٨
وَٱللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّنۢ بُطُونِ أُمَّهَـٰتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْـًۭٔا وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٧٨
وَٱللَّهُ
أَخۡرَجَكُم
مِّنۢ
بُطُونِ
أُمَّهَٰتِكُمۡ
لَا
تَعۡلَمُونَ
شَيۡـٔٗا
وَجَعَلَ
لَكُمُ
ٱلسَّمۡعَ
وَٱلۡأَبۡصَٰرَ
وَٱلۡأَفۡـِٔدَةَ
لَعَلَّكُمۡ
تَشۡكُرُونَ
٧٨
Allah sizi annelerinizin karnından bir şey bilmez halde çıkarmıştır. Belki şükredersiniz diye size kulak, göz ve kalp vermiştir.
Tefsirler
Katmanlar
Dersler
Yansımalar
Cevaplar
Kıraat
Hadis
16:77 ile 16:79 arasındaki ayetler grubu için bir tefsir okuyorsunuz

৭৭-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা স্বীয় পূর্ণজ্ঞান ও পূর্ণ ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যমীন ও আসমানের অদৃশ্যের খবর তিনিই রাখেন। কেউ এমন নেই যে, অদৃশ্যের খবর জানতে পারে। তিনি যাকে যে জিনিসের খবর অবহিত করেন সে তখন তা জানতে পারে। প্রত্যেক জিনিসই তার ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। কেউ তাঁর বিপরীত করতে পারে না, কেউ তাকে বাধা প্রদানও করতে পারে না। যখন যে কাজের তিনি ইচ্ছা করেন তখনই তা করতে পারেন। হে মানুষ! তোমাদের চক্ষু বন্ধ করার পর তা খুলতে তো কিছু সময় লাগে, কিন্তু আল্লাহর হুকুম পুরো হতে ততটুকুও সময় লাগে না। কিয়ামত আনয়নও তাঁর কাছে এরূপই সহজ ওটাও হুকুম হওয়া মাত্রই সংঘটিত হয়ে যাবে। একজনকে সৃষ্টি করা এবং অনেককে সৃষ্টি করা তাঁর কাছে সমান।মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পর্কে চিন্তা করে দেখো, তিনি মানুষকে মায়ের গর্ভ হতে বের করেছেন। তখন তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে শক্তিহীন। তারপর তিনি তাদেরকে শুনবার জন্যে কান দিলেন, দেখবার জন্যে দিলেন চক্ষু এবং বুঝবার জন্যে দিলেন জ্ঞান-বুদ্ধি। জ্ঞান-বুদ্ধির স্থান হচ্ছে। হৃদয়। কেউ কেউ মস্তিষ্কও বলেছেন। জ্ঞান ও বিবেক দ্বারাই লাভ ও ক্ষতি জানতে পারা যায়। এই শক্তি ও এই ইন্দ্রিয় মানুষকে ক্রমান্বয়ে অল্প অল্প করে দেয়া হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এটাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পূর্ণতায় পৌঁছে যায়। মানুষকে এ সব এ জন্যেই দেয়া হয়েছে যে, তারা এ গুলোকে আল্লাহর মারেফাত ও ইবাদতে লাগিয়ে দেবে।” যেমন সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “যারা আমার বন্ধুদের সাথে শত্রুতা করে তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আমার ফরজ আদায় করার মাধ্যমে বান্দা আমার যতটা নৈকট্য ও বন্ধুত্ব লাভ করে এতটা আর কিছুর মাধ্যমে করতে পারে না। খুব বেশী বেশী নফল আদায় করতে করতে বান্দা আমার নৈকট্য লাভে সমর্থ হয় এবং আমার বন্ধু হয়ে যায়। যখন আমি তাকে মুহব্বত করতে শুরু করি তখন আমিই তার কান হয়ে যাই যার দ্বারা শুনে, আমিই তার চক্ষু হয়ে যাই যার দ্বারা সে দেখে, আমিই তার হাত হয়ে যাই যার দ্বারা সে ধারণ করে এবং আমিই তার পা হয়ে যাই যার দ্বারা সে চলে-ফিরে। সে আমার কাছে চাইলে আমি তাকে দিয়ে থাকি। আশ্রয় চাইলে তাকে আশ্রয় দিয়ে থাকি। আমি কোন কাজে ততো ইতস্ততঃ করি না যতো ইতস্তত করি আমার মুমিন বান্দার রূহ কব করতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে এবং আমি তাঁকে অসন্তুষ্ট করতে চাই না। কিন্তু মৃত্যু এমনই যে, কোন প্রাণীই এর থেকে রেহাই পেতে পারে না।”এই হাদীসের ভাবার্থ এই যে, মু'মিন যখন আন্তরিকতা ও আনুগত্যে পূর্ণতা লাভ করে তখন তার সমস্ত কাজ শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্যে হয়ে থাকে। সে শুনে আল্লাহর জন্যে, দেখে আল্লাহর জন্যে। অর্থাৎ সে শরীয়তের কথা শুনে এবং শরীয়তে যেগুলি দেখা জায়েয রয়েছে সেগুলিই দেখে থাকে। অনুরূপ ভাবে তার হাত বাড়ানো এবং পা চালানোও আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজের জন্যেই হয়ে থাকে। সে আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করে এবং তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তার সমস্ত কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। কোন কোন গায়ের সহীহ হাদীসে এরপর নিম্নলিখিত কথাও এসেছেঃ “অতপর সে আমার জন্যেই শ্রবণ করে, আমার জন্যেই দর্শন করে , আমার জন্যেই ধারণ করে এবং আমার জন্যেই চলাফেরা করে।” এজন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, এবং হৃদয় যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” যেমন অন্য আয়াতে তিনি বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তুমি বলঃ তিনিই (আল্লাহই) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় দিয়েছেন, তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে। তুমি বলঃ তিনিই তোমারেকে ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তাঁরই কাছে একত্রিত করা হবে।” (৬৭:২৩-২৪)এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেনঃ “তোমরা কি আকাশের শূন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখিগুলির দিকে লক্ষ্য কর না? আল্লাহ তাআলাই ওগুলিকে স্বীয় ক্ষমতা বলে স্থির রাখেন। তিনিই ওদেরকে এভাবে উড়বার শক্তি দান করেছেন এবং বায়ুকে ওদের অনুগত করে দিয়েছেন।” সূরায়ে মুলকের মধ্যে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের ঊর্ধ্বদেশে বিহঙ্গকুলের প্রতি যারা পক্ষ বিস্তার করে ও সংকুচিত করে? তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।” এখানেও আল্লাহ তাআলা সমাপ্তি টেনে বলেনঃ “এতে ঈমানদারদের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে।”