سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
زبان منتخب کریں۔

تفسیر: المائدة 5:105

5:105
يا ايها الذين امنوا عليكم انفسكم لا يضركم من ضل اذا اهتديتم الى الله مرجعكم جميعا فينبيكم بما كنتم تعملون ١٠٥
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا ٱهْتَدَيْتُمْ ۚ إِلَى ٱللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًۭا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ١٠٥
یٰۤاَیُّهَا
الَّذِیْنَ
اٰمَنُوْا
عَلَیْكُمْ
اَنْفُسَكُمْ ۚ
لَا
یَضُرُّكُمْ
مَّنْ
ضَلَّ
اِذَا
اهْتَدَیْتُمْ ؕ
اِلَی
اللّٰهِ
مَرْجِعُكُمْ
جَمِیْعًا
فَیُنَبِّئُكُمْ
بِمَا
كُنْتُمْ
تَعْمَلُوْنَ
۟
اے لوگو جو ایمان لائے ہو تم پر ذمہ داری ہے صرف اپنی جانوں کی جو کوئی گمراہ ہوجائے وہ تمہیں نقصان نہیں پہنچا سکتا جبکہ تم ہدایت پر ہو اللہ ہی کی طرف تم سب کو لوٹ کر جانا ہے اور وہ تمہیں بتادے گا جو کچھ تم کرتے رہے تھے
تفاسیر
لیئرز
اسباق
تدبرات
جوابات
قرأت
حدیث

(আরবী) আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয় এবং সকার্য সম্পাদনে যথাসাধ্য চেষ্টা করে। আর তিনি তাদেরকে এ সংবাদও দিচ্ছেন যে, যারা নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, দুনিয়ার নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সবাই ঝগড়া ফাসাদে লিপ্ত হলেও তাদের কোনই ক্ষতি হবে না। এ আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যখন বান্দা হারাম ও হালালের ব্যাপারে আমার নির্দেশ মেনে চলবে তখন যে যতই পথভ্রষ্ট হয়ে যাক না কেন তার কোনই ক্ষতি হবে না। তোমাদের সকলকেই আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃত ভাল ও মন্দ সম্পর্কে অবহিত করবেন। যার কাজ ভাল হবে তাকে ভাল বিনিময় প্রদান করা হবে এবং যার কাজ মন্দ হবে তাকে মন্দ বিনিময় দেয়া হবে। এ আয়াত দ্বারা এ দলীল গ্রহণ করা যেতে পারে না যে, ভাল কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করণ জরুরী নয়। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) একদা দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করার পর বলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা এ আয়াতটি পাঠ কর বটে, কিন্তু ওটাকে ওর নিজ স্থানে রাখছে না। আমি আল্লাহর রাসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছি-'মানুষ যখন কোন পাপের কাজ দেখে, অতঃপর ওর প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করতঃ তার মধ্যে ক্রোধের সঞ্চার না হয়, তখন হতে বিস্ময়ের কিছুই নেই যে মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ সাধারণভাবে শাস্তি আনয়ন করবেন (সবাই সেই শাস্তির শিকার হবে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), আসহাবুস সুনান এবং ইবনে মাজা (রঃ) বর্ণনা করেছেন) ইমাম তিরমিযী (রঃ) আবূ উমাইয়া শাবানী (রঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আবু সা'লাবা খুশানী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এ আয়াতের কি ভাবার্থ গ্রহণ করে থাকেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ কোন আয়াত? আমি বললাম, (আরবী) এ আয়াতটি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এ সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিকেই আপনি জিজ্ঞেস করেছেন। আমি আল্লাহর রাসূল (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ “তোমরা নিজ নিজ পাগড়ি সামলিয়ে নেয়ার পর নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থেকো না। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দান ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করণের কাজ অব্যাহত রাখো। তোমাদেরকে এ কাজ ঐ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে যে পর্যন্ত মানুষ সংকীর্ণমনা ও নিরুৎসাহী থাকে, যাকাত প্রদান না করে, কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয়, প্রত্যেকে নিজ নিজ মতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং কোন উপদেষ্টার উপদেশবাণী শ্রবণ না করে। যখন অবস্থা এরূপ হবে, এ সময় তাদের থেকে পৃথক থাকবে। তাদেরকে তাদের নিজেদের অবস্থার উপর ছেড়ে দেবে। তোমাদের পরেই এমন এক যুগ আসবে যে, তাতে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা ব্যক্তি হাতে আগুন ধরে রাখার মত বিপদে পতিত হবে। ঐ সময় যে ব্যক্তি শুধু নিজেই ভাল কাজ করবে সে পঞ্চাশজন লোকের নেক আমলের সমান পুণ্য লাভ করবে। জিজ্ঞেস করা। হলোঃ আমাদের পঞ্চাশজন লোকের, না সেই দলের পঞ্চাশজন লোকের? তিনি উত্তরে বললেনঃ “না, না বরং তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজন লোকের পুণ্যের সমান (সে পুণ্য লাভ করবে)। ইমাম রাযী (রঃ) আবুল আলিয়া (রঃ) ও হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর মাধ্যমে (আরবী) -এ আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বলেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট লোকেরা বসেছিল, এমন সময় কোন দুটি লোকের মধ্যে ঝগড়া বাধে। তখন উপস্থিত জনতার মধ্য হতে একটি লোক বলেঃ আমি উঠে গিয়ে এদের দুজনের মধ্যে (একটা সমঝোতা করে দেয়ার মানসে) ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার ব্রত পালন করবো। তার এ কথা শুনে তার পার্শ্ববর্তী একটি লোক বললোঃ তুমি স্ব-স্থানে বসে থাক। কেননা, আল্লাহ তা'আলা (আরবী) বলেছেন। তার একথা শুনে হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “তাকে বাধা দিয়ো না। এ আয়াতের উপর আমল করার স্থান এটা নয়। কুরআন যখন অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন ছিল তখন অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআনের কতগুলো আয়াত এমন রয়েছে, যেগুলোর তাবীল আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর যুগে হয়ে গেছে। আর কতগুলো আয়াতের তাবীল কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দিন কার্যকরী হবে। যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মন ও অনুভূতি এক থাকবে, তোমাদের মধ্যে ভাঙ্গন না ধরবে, তোমরা একে অপরের ক্ষতি সাধন করা থেকে বিরত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে হবে। কিন্তু যখন তোমাদের মন বিগড়ে যাবে, তোমাদের একতায় ভাঙ্গন ধরবে এবং তোমরা একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়ে যাবে, তখন তোমরা জনগণ থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক থাকবে।” এ আয়াতের এ তাফসীরই বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনে জারীর (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত হাসান (রঃ) এ আয়াতটি পাঠ করার পর বলেনঃ ‘আল্লাহর জন্যে সমুদয় প্রশংসা যে, অতীত যুগেও মুনাফিক ছিল এবং বর্তমান যুগেও মুনাফিক রয়েছে, কিন্তু মুসলমানরা মুনাফিকদের কাজকে সদা খারাপ মনে করে থাকে।' হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রঃ) বলেনঃ “যখন তুমি ভাল কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে তখন তুমি হিদায়াতের পথে রয়েছে বলে পথভ্রষ্ট লোকদের পথভ্রষ্টতা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।”