سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
زبان منتخب کریں۔

تفسیر: النور 24:48

24:48
واذا دعوا الى الله ورسوله ليحكم بينهم اذا فريق منهم معرضون ٤٨
وَإِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنْهُم مُّعْرِضُونَ ٤٨
وَاِذَا
دُعُوْۤا
اِلَی
اللّٰهِ
وَرَسُوْلِهٖ
لِیَحْكُمَ
بَیْنَهُمْ
اِذَا
فَرِیْقٌ
مِّنْهُمْ
مُّعْرِضُوْنَ
۟
اور جب انہیں بلایا جاتا ہے اللہ اور اس کے رسول ﷺ کی طرف کہ وہ ﷺ ان کے مابین فیصلہ کریں تو اس وقت ان میں سے ایک گروہ کنیّ کترا جاتا ہے
تفاسیر
لیئرز
اسباق
تدبرات
جوابات
قرأت
حدیث
آپ 24:47 سے 24:52 آیات کے گروپ کی تفسیر پڑھ رہے ہیں

৪৭-৫২ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আল মুনাফিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন, তারা মুখে তো ঈমান ও আনুগত্যের কথা স্বীকার করছে বটে, কিন্তু তাদের অন্তর এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের কথা ও কাজের মধ্যে কোন মিল নেই। কারণ তারা ঈমানদার নয়। হাদীসে আছে যে, যাকে বাদশাহর সামনে হাযির হওয়ার জন্যে আহ্বান করা হয়। এবং সে ঐ আহ্বানে সাড়া দেয় না সে যালিম। সে অন্যায়ের উপর রয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিবরানী (রঃ) হযরত সামুরা প্রমুখ বর্ণনা করেছেন)মহান আল্লাহ বলেনঃ যখন তাদেরকে আহ্বান করা হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর দিকে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবার জন্যে, অর্থাৎ যখন তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহবান করা হয় এবং কুরআন ও হাদীস মানতে বলা হয় তখন তারা গর্বভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এটা আল্লাহ তা'আলার নিম্নের উজির মতঃ (আরবি) হতে (আরবি) পর্যন্ত।অর্থাৎ “তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা দাবী করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস করে, অথচ তারা তাগূতের কাছে বিচার প্রার্থী হতে চায়, যদিও ওটা প্রত্যাখ্যান করার জন্যে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং শয়তান তাদেরকে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়? তাদেরকে যখন বলা হয়ঃ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূল (সঃ)-এর দিকে এসো, তখন মুনাফিকদেরকে তুমি তোমার নিকট হতে মুখ একেবারে ফিরিয়ে নিতে দেখবে।” (৪:৬০-৬১) ঘোষিত হচ্ছেঃ যদি তাদের প্রাপ্য থাকে তাহলে তারা বিনীতভাবে রাসূল (সঃ)-এর নিকট ছুটে আসে। অর্থাৎ তারা যদি শরীয়তের ফায়সালায় নিজেদের লাভ দেখতে পায় তবে আনন্দে আটখানা হয়ে রাসূল (সঃ)-এর নিকট ছুটে আসে। আর যদি জানতে পারে যে, শরয়ী ফায়সালা তাদের মনের চাহিদার উল্টো, পার্থিব স্বার্থের পরিপন্থী, তবে তারা সত্যের দিকে ফিরেও তাকায় না। সুতরাং এইরূপ লোকে পাকা কাফির। কেননা, তাদের মধ্যে তিন অবস্থার যে কোন একটি অবশ্যই রয়েছে। হয়তো তাদের অন্তরে বে-ঈমানী বদ্ধমূল হয়ে গেছে, কিংবা হয়তো তারা আল্লাহর দ্বীনের সত্যতায় সন্দিহান রয়েছে, অথবা হয়তো তারা এই ভয় করে যে, না জানি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) তাদের হক নষ্ট করেন এবং তাদের প্রতি যুলুম করেন। এই তিনটাই কুফরীর অবস্থা। আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রত্যেককেই জানেন। তাদের অন্তরে যা রয়েছে তা তার কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। প্রকৃতপক্ষে এই লোকগুলোই পাপী ও অত্যাচারী। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র।রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যুগে এরূপ কাফিরের সংখ্যা অনেক ছিল যারা বাহ্যিকভাবে মুসলমান ছিল। যখন তারা দেখতো যে, কুরআন ও হাদীসমূলে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হবে তখন তারা নবী (সঃ)-এর খিদমতে তাদের মুকদ্দমা পেশ করতো। আর যখন দেখতো যে, তাদের প্রতিপক্ষের অনুকূলে রায় যাবে তখন নবী (সঃ)-এর দরবারে হাযির হতে প্রকাশ্যভাবে অস্বীকার করতো। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যদি দুই ব্যক্তির মধ্যে কোন বিবাদ হয় এবং তাদেরকে ইসলামী হুকুম অনুযায়ী ফায়সালার দিকে আহ্বান করা হয়, আর তারা তা অস্বীকার করে তবে তারা যালিম এবং তারা অন্যায়ের উপর রয়েছে।” (এ হাদীসটি গারীব ও মুরসাল)এরপর সঠিক ও খাঁটি মুমিনের বিশেষণ বর্ণনা করা হচ্ছে যে, তারা আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সঃ)-এর সুন্নাত ছাড়া অন্য কিছুকেই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত মনে করে না। তারা তো কুরআন ও হাদীস শোনা মাত্রই এবং এগুলোর ডাক কানে আসা মাত্রই পরিষ্কারভাবে বলে থাকেঃ আমরা শুনলাম ও মানলাম। এরা উদ্দেশ্যে সফলকাম ও মুক্তিপ্রাপ্ত লোক।হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ), যিনি ছিলেন একজন বদরী সাহাবী এবং আনসারদের মধ্যে একজন নেতৃস্থানীয় লোক, মৃত্যুর সময় স্বীয় ভাতুপুত্র জানাদাহ ইবনে আবি উমাইয়া (রাঃ)-কে বলেনঃ “তোমার উপর কি কর্তব্য এবং তোমার কি উপকারী তাকি আমি তোমাকে বলে দেবো না? তিনি জবাবে বললেনঃ “হ্যা বলুন।” তখন তিনি বললেনঃ “তোমার কর্তব্য হলো (ধর্মীয় উপদেশ) শ্রবণ করা ও মান্য করা কঠিন অবস্থায়ও এবং সহজ অবস্থায়ও, আনন্দের সময়ও এবং দুঃখের সময়ও, আর ঐ সময়েও যখন তোমার হক অন্যকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। তোমার জিহ্বাকে তুমি ন্যায় ও সত্যবাদিতার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবে। যোগ্য শাসনকর্তার নিকট থেকে শাসনকার্য ছিনিয়ে নিবে না। তবে সে। যদি প্রকাশ্যভাবে অবাধ্যতার হুকুম করে তবে তা কখনো মানবে না। সে যদি আল্লাহর কিতাবের বিপরীত কিছু বলে তবে তা কখনো স্বীকার করবে না। সদা-সর্বদা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করবে।” হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া ইসলাম নেই। আর সমস্ত মঙ্গল নিহিত রয়েছে জামাআতের মধ্যে এবং আল্লাহ, তদীয় রাসূল (সঃ), মুসলমানদের খলীফা এবং সাধারণ মুসলমানদের মঙ্গল কামনার মধ্যে।হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেন যে, ইসলামের দৃঢ় রঙ্গু হলো আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়া, নামায প্রতিষ্ঠিত করা, যাকাত প্রদান করা এবং মুসলমানদের বাদশাহদের আনুগত্য স্বীকার করা।আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সঃ)-এর এবং মুসলমান বাদশাহদের আনুগত্যের ব্যাপারে যেসব হাদীস ও আসার এসেছে সেগুলোর সংখ্যা এতো বেশী যে, সকলো এখানে বর্ণনা করা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর অনুগত হবে, তারা যা করতে আদেশ করেছেন তা পালন কবে, যা করতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকবে, যে পাপকার্য করে ফেলেছে তার জন্যে সদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে এবং আগামীতে ঐ সব পাপকার্য হতে বিরত থাকবে সে সমুদয় কল্যাণ জমাকার এবং সমস্ত অকল্যাণ হতে পৰিত্ৰাণ প্রাপ্ত। দুনিয়া ও আখিরাতে সে মুক্তিপ্রাপ্ত ও সফলকাম।