سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
زبان منتخب کریں۔

تفسیر: ص 38:17

38:17
اصبر على ما يقولون واذكر عبدنا داوود ذا الايد انه اواب ١٧
ٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُۥدَ ذَا ٱلْأَيْدِ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ ١٧
اِصْبِرْ
عَلٰی
مَا
یَقُوْلُوْنَ
وَاذْكُرْ
عَبْدَنَا
دَاوٗدَ
ذَا
الْاَیْدِ ۚ
اِنَّهٗۤ
اَوَّابٌ
۟
(اے محمد ﷺ !) آپ صبرکیجیے اس پر جو کچھ یہ لوگ کہہ رہے ہیں اور آپ ﷺ تذکرہ کیجیے ہمارے بندے دائود کا جو بہت قوت والا تھا بیشک وہ (اللہ کی طرف) بہت رجوع کرنے والا تھا
تفاسیر
لیئرز
اسباق
تدبرات
جوابات
قرأت
حدیث
آپ 38:17 سے 38:20 آیات کے گروپ کی تفسیر پڑھ رہے ہیں

১৭-২০ নং আয়াতের তাফসীর: (আরবী) দ্বারা জ্ঞান ও আমল সম্পর্কীয় শক্তি বুঝানো হয়েছে এবং শুধু শক্তিও অর্থ হয়ে থাকে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে আনুগত্যের শক্তি উদ্দেশ্য। হযরত দাউদ (আঃ)-কে ইবাদতের শক্তি এবং ইসলামের বোধশক্তি দান করা হয়েছিল। এটা উল্লিখিত আছে যে, তিনি রাত্রির এক তৃতীয়াংশ সময় তাহাজ্জুদ নামাযে কাটিয়ে দিতেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় নামায হলো হযরত দাউদ (আঃ)-এর রাত্রির নামায এবং সবচেয়ে পছন্দনীয় রোযা হলো হযরত দাউদ (আঃ)-এর দিনের রোযা। হযরত দাউদ (আঃ) অর্ধরাত্রি শুয়ে থাকতেন এবং এক তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত নামায পড়তেন। তারপর এক ষষ্ঠাংশ রাত পর্যন্ত আবার ঘুমিয়ে থাকতেন। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযাহীন অবস্থায় থাকতেন। আর দ্বীনের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে কখনো পৃষ্ঠ প্রদর্শন করতেন না। আর সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার প্রতি আকৃষ্ট হতেন এবং তাঁর দিকে রুজু করতেন।” মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে পর্বতমালা! তোমরা দাউদ (আঃ)-এর সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং বিহংগকুলকেও।” (৩৪:১০) আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ অনুযায়ী হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে পর্বতমালা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো। অনুরূপভাবে পক্ষীকুলও তার শব্দ শুনে তাঁর সাথে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে শুরু করতো। উড়ন্ত পাখী তার পার্শ্ব দিয়ে গমন করতো। ঐ সময় তিনি তাওরাত পাঠ করলে তার সাথে পাখীরাও তাওরাত পাঠে নিমগ্ন হয়ে পড়তো এবং উড়া বন্ধ করে বসে যেতো।রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের সময় হযরত উম্মে হানী (রাঃ)-এর ঘরে আট রাকআত নামায পড়েন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা এই যে, এটাও নামাযের সময়। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “তারা তার সাথে সকাল-সন্ধ্যায় আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো।”আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফিল (রাঃ) বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) চাশতের নামায পড়তেন না। আমি একদা তাঁকে হযরত উম্মে হানী (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং তাকে বললামঃ একে আপনি ঐ হাদীসটি শুনিয়ে দেন যা আমাকে শুনিয়েছিলেন। তখন হযরত উম্মে হানী (রাঃ) বললেনঃ “মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার বাড়ীতে আমার কাছে আসলেন এবং এসে একটি বরতনে পানি ভর্তি করিয়ে নিলেন। অতঃপর কাপড়ের পর্দা করে নিয়ে গোসল করতে বসলেন। এরপর ঘরের এক কোণে পানি ছিটিয়ে দিয়ে চাশতের আট রাকআত নামায আদায় করলেন। এতে তার কিয়াম, রুকূ', সিজদা এবং উপবেশন প্রায় সমান ছিল।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি শুনে যখন সেখান হতে বেরিয়ে আসলেন তখন তিনি বলতে লাগলেনঃ “আমি কুরআন কারীম সম্পূর্ণটাই পাঠ করেছি, কিন্তু চাশতের নামায কি তা আমি জানতাম না। আজ জানলাম যে, এটা (আরবী)-এই আয়াতের মধ্যেই রয়েছে। ইশরাক দ্বারা চাশতকে বুঝানো হয়েছে। এরপর তিনি তাঁর পূর্ব উক্তি হতে ফিরে আসেন।মহান আল্লাহ বলেন যে, পক্ষীকুলও হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে আল্লাহর তাসবীহ পাঠে অংশ নিতো। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি দাউদ (আঃ)-এর রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম। বাদশাহদের যতগুলো জিনিসের প্রয়োজন সবই তাঁকে দেয়া হয়েছিল। প্রত্যহ চার হাজার রক্ষী বাহিনী তার পাহারায় নিযুক্ত থাকতো। পূর্বযুগীয় কোন কোন। গুরুজন হতে বর্ণিত আছে যে, পালাক্রমে প্রতি রাত্রে তেত্রিশ হাজার প্রহরী পাহারা দিতো এবং এক রাত্রে যারা পাহারা দিতো, এক বছর পর্যন্ত তাদের আর পালা আসতো না। চল্লিশ হাজার লোক সর্বক্ষণ তার খিদমতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় প্রস্তুত থাকতো।একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত দাউদ (আঃ)-এর যুগে বানী ইসরাঈলের দু’জন লোকের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একজন অপরজনকে এই অপবাদ দেয় যে, সে তার গরু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। অপর ব্যক্তি এ অপরাধ অস্বীকার করে। হযরত দাউদ (আঃ) বাদীর নিকট প্রমাণ তলব করেন। কিন্তু সে প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়। হযরত দাউদ (আঃ) তখন তাদেরকে বললেনঃ “আগামীকাল তোমাদের বিচার মীমাংসা করা হবে।" রাত্রে হযরত দাউদ (আঃ)-কে স্বপ্নে হুকুম দেয়া হয় যে, তিনি যেন বাদী লোকটিকে হত্যা করেন। সকালে তোক দু'টিকে ডাকিয়ে নিয়ে হযরত দাউদ (আঃ) বাদীকে হত্যা করার আদেশ জারি করেন। তখন বাদী লোকটি বলেঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আপনি আমাকেই হত্যা করার নির্দেশ দিলেন, অথচ এ লোকটি আমার গরু গসব করে নিয়েছে।” তখন তিনি বললেনঃ “দেখো, এটা আমার হুকুম নয়, বরং আল্লাহর ফায়সালা। সুতরাং এ হুকুম টলতে পারে না। অতএব তুমি প্রস্তুত হয়ে যাও।" সে তখন বললোঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আল্লাহর শপথ! আমি যা দাবী করেছি সেই কারণে আল্লাহ আমাকে হত্যা করার নির্দেশ আপনাকে দেননি। এবং সে যে আমার গরু গসব করে নিয়েছে এ দাবীতে আমি অবশ্যই সত্যবাদী। বরং আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়ার কারণ শুধু আমিই জানি। ব্যাপার এই। যে, আজ রাত্রে আমি এ লোকটির পিতাকে প্রতারিত করে হত্যা করেছি এবং এটা আমি ছাড়া আর কেউই জানে না। এরই প্রতিশোধ হিসেবে আল্লাহ আপনাকে আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তাকে হত্যা করে দেয়া হলো। এ ঘটনার পর প্রত্যেকের অন্তরে হযরত দাউদ (আঃ)-এর ভীতি স্থাপিত হলো। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাকে হিকমত দিয়েছিলাম। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমত অর্থ বোধশক্তি, জ্ঞান ও নিপুণতা। মুররাহ (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমত অর্থ ন্যায়পরায়ণতা ও সঠিকতা। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর-অর্থ হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাতে যা রয়েছে। তার অনুসরণ। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমতের অর্থ হলো নবুওয়াত।মহান আল্লাহর উক্তিঃ আর আমি তাকে দিয়েছিলাম ফায়সালাকারী বাগ্মিতা অর্থাৎ বিবাদ মীমাংসার সুন্দর নীতি। যেমন সাক্ষী নেয়া, কসম খাওয়ানো। অর্থাৎ বাদীর নিকট সাক্ষ্য-প্রমাণ চাওয়া এবং বিবাদীর নিকট হতে শপথ নেয়া। ফায়সালার জন্যে নবীদের (আঃ) ও সৎ লোকদের পন্থা এটাই ছিল। এই উম্মতের মধ্যেও এই পন্থাই চালু আছে। হযরত দাউদ (আঃ) মুকদ্দমার গভীরে পৌঁছে যেতেন এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন। তাঁর মুখের ভাষাও খুব পরিষ্কার ছিল এবং তিনি হুকুমও দিতেন ইনসাফ মুত্যবিক। তিনিই (আরবী) কথার সূচনা করেন এবং (আরবী) ঐ দিকেই ইঙ্গিত করছে।