Đăng nhập
Đăng nhập
Đăng nhập
Chọn ngôn ngữ

Tafsir: Al-Isra 17:102

17:102
قال لقد علمت ما انزل هاولاء الا رب السماوات والارض بصاير واني لاظنك يا فرعون مثبورا ١٠٢
قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَآ أَنزَلَ هَـٰٓؤُلَآءِ إِلَّا رَبُّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ بَصَآئِرَ وَإِنِّى لَأَظُنُّكَ يَـٰفِرْعَوْنُ مَثْبُورًۭا ١٠٢
قَالَ
لَقَدۡ
عَلِمۡتَ
مَآ
أَنزَلَ
هَٰٓؤُلَآءِ
إِلَّا
رَبُّ
ٱلسَّمَٰوَٰتِ
وَٱلۡأَرۡضِ
بَصَآئِرَ
وَإِنِّي
لَأَظُنُّكَ
يَٰفِرۡعَوۡنُ
مَثۡبُورٗا
١٠٢
かれは言った。「あなたはこれら(印)を,証拠として下された方が,天と地の主に外ならないことを知っています。フィルアウンよ,本当にあなたは破滅する運命にあるとわたしは考えます。」

— Ryoichi Mita

(Musa) đã nói với (Pha-ra-ông): “Chắc chắn ngài biết rõ không ai có đủ khả năng ban những thứ này xuống hiện rõ trước mắt (như thế này) ngoại trừ Thượng Đế của các tầng trời và trái đất và quả thật, tôi nghĩ rằng ngài, hỡi Pha-ra-ông, sắp bị tiêu diệt.”

— Ruwwad Center

Tafsirs
Các lớp
Bài học
Suy ngẫm
Câu trả lời
Qiraat
Hadith
Bạn đang đọc phần chú giải Kinh Qur'an cho nhóm các câu này. 17:101 đến 17:104

১০১-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর হযরত মূসা (আঃ) ন’টি মু'জিযা লাভ করেছিলেন যেগুলি তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার স্পষ্ট দলীল ছিল। নয় টি মু'জিযা হচ্ছেঃ লাঠি, হাত (এর ঔজ্জ্বল্য), দুর্ভিক্ষ, সমুদ্র, তুফান, ফড়িং, উকুণ, ব্যাঙ এবং রক্ত। এইগুলি বিস্তারিত বিবরণযুক্ত আয়াত সমূহ। মুহাম্মদ ইবনু কাবের (রঃ) উক্তি এই যে, মু'জিযাগুলি হলোঃ হাত উজ্জ্বল হওয়া, লাঠি সাপ হওয়া এবং পাঁচটি মু'জিযা যা সূরায়ে আ'রাফে বর্ণিত আছে, আর মাল কমে যাওয়া এবং পাথর। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) প্রভৃতি হতে বর্ণিত আছে যে, মুজিযাগুলি ছিল তাঁর হাত, তাঁর লাঠি, দুর্ভিক্ষ, ফল হ্রাস পাওয়া, তুফান, ফড়িং, উকুণ, ব্যাঙ এবং রক্ত । এই উক্তিটিই সবচেয়ে বেশী প্রকাশমান ও স্পষ্ট, উত্তম ও দৃঢ়। হাসান বসরী (রঃ) এগুলির মধ্যে দুর্ভিক্ষ এবং ফলেরহ্রাস পাওয়াকে একটি ধরে লাঠির যাদুকরদের সাপগুলি খেয়ে ফেলাকে নবম মুজিযা বলেছেন।এই সমুদয় মু'জিযা দেখা সত্ত্বেও ফিরাউন এবং তার লোকেরা অহংকার করে এবং তাদের পাপ কার্যের উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাদের অন্তরে বিশ্বাস জমে গেলেও তারা যুলুম ও বাড়াবাড়ি করে কুফরী ও ইনকারের উপরই কায়েম থেকে যায়। পূর্ববর্তী আয়াতগুলির সাথে এই আয়াতগুলির সহযোগ এই যে, যেমন রাসূলুল্লাহর (সঃ) কওম তার কাছে মু'জিযা দেখতে চেয়েছিল, অনুরূপভাবে ফিরাউনও মূসার (আঃ) কাছে মু'জিযা দেখতে চেয়েছিল এবং তার সামনে সেগুলি প্রকাশিতও হয়েছিল, তবুও ঈমান তার ভাগ্যে জুটে নাই। শেষ পর্যন্ত তাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। তদ্রুপই তাঁর কওমও যদি মু'জিযা। আসার পরেও কাফিরই থেকে যায় তবে তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হবে না এবং তারাও সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে। স্বয়ং ফিরাউন মু'জিযাগুলি দেখার পর হযরত মূসাকে (আঃ) যাদুকর বলে নিজেকে তাঁর থেকে ছাড়িয়ে নেয়। এখানে যে নয়টি মু'জিযা’র বর্ণনা রয়েছে তা এইগুলিই এবং ঐগুলির বর্ণনা হতে (আরবি) (২৭:১০-১২) পর্যন্ত এর মধ্যে রয়েছে। এই আয়াতগুলির মধ্যে লাঠি ও হাতের বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে। বাকীগুলোর বর্ণনা সূরায়ে আ’রাফে রয়েছে। এইগুলো ছাড়াও আল্লাহ তাআলা হযরত মূসাকে (আঃ) আরো বহু মু'জিযা দিয়েছিলেন। যেমন তাঁর লাঠির আঘাতে একটি পাথরের মধ্য হতে বারোটি প্রস্রবণ বের হওয়া, মেঘ দ্বারা ছায়া করা, মান্ন ও সালওয়া অবতীর্ণ হওয়া ইত্যাদি। এসব নিয়ামত বাণী ইসরাঈলকে মিসর শহর ছেড়ে দেয়ার পর দেয়া হয়েছিল। এই মু'জিযা গুলির বর্ণনা এখানে না দেয়ার কারণ এই যে, ফিরাউন ও তার লোকেরা এগুলো দেখে নাই। এখানে শুধু ঐ মু'জিযাগুলির বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে গুলি ফিরাউন ও তার লোকেরা দেখেছিল। তারপর অবিশ্বাস করেছিল। মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, একজন ইয়াহূদী তার সঙ্গীকে বলেঃ “চল, আমরা এই নবীর (সঃ) কাছে গিয়ে তাঁকে কুরআনের এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি যে, হযরত মূসার (আঃ) নয়টি মু'জিযা কি ছিল?” অপরজন তাকে বললোঃ “নবী বলো না। অন্যথায় তাঁর চারটি চোখ হয়ে যাবে। (অর্থাৎ তিনি এতে গর্ববোধ করবেন।” অতঃপর তারা দুজন এসে তাঁকে প্রশ্ন করে।” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না, চুরি করো না, ব্যভিচার করো না, কাউকেও অন্যায়ভাবে হত্যা করো না, জাদু করো না, সুদ খেয়ো না, নিস্পাপ লোকদেরকে ধরে বাদশাহর কাছে নিয়ে গিয়ে হত্যা করিয়ে, সতী ও পবিত্র মহিলাদেরকে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়ো না অথবা বলেছেনঃ জিহাদ হতে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না। আর হে ইয়াহূদীগণ! তোমাদের উপর শেষ হুকুম ছিল এই যে, তোমরা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লংঘন করো না।” একথা শোনা মাত্রই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাসূলুল্লাহর (সঃ) হাত পা চুমতে শুরু করে। এরপর বলেঃ “আমাদের সাক্ষ্য রইলো যে, আপনি আল্লাহর নবী।” তখন নবী (সঃ) বললেনঃ “তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করছো না কেন?” তারা উত্তরে বললোঃ “হযরত দাউদ (আঃ) প্রার্থনা করেছিলেন যে, তাঁর বংশে যেন নবী অবশ্যই হন। আমরা ভয় করছি যে, আমরা আপনার অনুসরণ করলে ইয়াহূদীরা আমাদেরকে জীবিত রাখবে না। (এ হাদীসটি জামে তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী ও সুনানে ইবনু মাজাতেও রয়েছে। ইমাম তিরমীযী (রঃ) এটাকে হাসান সহীহও বলেছেন। কিন্তু এতে কিছুটা সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কেননা এর বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সালমার স্মরণ শক্তিতে ত্রুটি রয়েছে। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভাল জানেন) হযরত মূসা (আঃ) ফিরাউনকে বলেনঃ “হে ফেরাউন! তোমার তো ভালরূপেই জানা আছে যে, এসব মুজিযা সত্য। এগুলোর এক একটি আমার সত্যতার উপর উজ্জ্বল দলীল। আমার ধারণা হচ্ছে যে, তুমি ধ্বংস হতে চাচ্ছ। তোমার উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হোক-এটা তুমি কামনা করছে; তুমি পরাস্ত হবে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে।”(আরবি) শব্দের অর্থ হলো ধ্বংস হওয়া। যেমন নিম্নের কবিতাংশে রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখন শয়তান পথ ভ্রষ্টতার পন্থায় যুলুম করে থাকে, তখন যে তার প্রতি আকৃষ্ট হয় সে ধ্বংস প্রাপ্ত হয় (অর্থাৎ) শয়তানের বন্ধু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।”(আরবি) দ্বিতীয় কিরআতে (আরবি) রয়েছে। কিন্তু জামহূরের কিরআতে (আরবি) অর্থাৎ অক্ষরের উপর যবর দিয়েও রয়েছে। এই অর্থকেই নিম্নের আয়াতে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে আমার প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ নিদর্শনসমূহ পৌঁছে যায়, তখন তারা বলে ওঠেঃ এটা তো স্পষ্ট যাদু, একথা বলে তারা অস্বীকার করে বসে, অথচ তাদের অন্তর তা বিশ্বাস করে নিয়ে ছিল, কিন্তু যুলুম ও সীমালংঘনের কারণেই তারা মানে না।” (২৭:১৩-১৪) মোট কথা, যে নিদর্শনগুলির বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেগুলি হলোঃ লাঠি, হাত, দুর্ভিক্ষ, ফলের হ্রাস প্রাপ্তি, ফড়িং, উকুণ, ব্যাঙ এবং রক্ত। এগুলো ফিরাউন ও তার কওমের জন্যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে দলীল ছিল এবং এগুলো ছিল হযরত মূসার (আঃ) মু'জিযা যা তার সত্যতা এবং আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ স্বরূপ ছিল এই নতুন নিদর্শনগুলির দ্বারা উদ্দেশ্য এ আহকাম নয় যা উপরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কেননা, ওগুলো ফিরাউন ও তার কওমের উপর হজ্জত ছিল না। কেননা, তাদের উপর হুজ্জত হওয়া এবং এই আহকামের বর্ণনার মধ্যে কোন সম্পর্কই নেই। শুধু বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সালমার বর্ণনার কারণেই এই ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে তার কতকগুলি কথা অস্বীকার যোগ্য। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ। খুব সম্ভব ঐ ইয়াহূদী দু’জন দশটি কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন, আর বর্ণনাকারীর ধারণা হয়েছিল যে, সেগুলি ঐ নয়টি নিদর্শন।ফিরাউন হযরত মূসাকে (আঃ) দেশান্তর করার ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ স্বয়ং তাকেই মাছের গ্রাস বানিয়েছিল। আর তার সমস্ত সঙ্গীকেও পানিতে নিমজ্জিত করেছিলেন। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বাণী ইসরাঈলকে বলেছিলেনঃ এখন যমীন তোমাদেরই অধিকারভুক্ত হয়ে গেল। তোমরা এখন সুখে শান্তিতে বসবাস কর এবং পানাহার করতে থাকো। এই আয়াতে রাসূলুল্লাহকেও (সঃ) চরমভাবে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, মক্কা তাঁর হাতেই বিজিত হবে। অথচ এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তখনতো তিনি মদীনায় হিজরতই করেন নাই। বাস্তবে হয়েছিলও এটাই যে, মক্কাবাসী তাকে মক্কা থেকে বের করে দেয়ার ইচ্ছা করে। যেমন কুরআন কারীমের (আরবি) (১৭:৭৬) এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) জয়যুক্ত করেন এবং মক্কার মালিক বানিয়ে দেন। আর বিজয়ীর বেশে তিনি মক্কায় আগমন করেন এবং এখানে স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর ধৈর্য ও করুণা প্রদর্শন করতঃ স্বীয় প্রাণের শত্রুদেরকে সাধারণভাবে ক্ষমা করে দেন।আল্লাহ তাআলা বাণী ইসরাঈলের ন্যায় দুর্বল জাতিকে যমীনের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং তাদেরকে ফিরাউনের ন্যায় কঠোর ও অহংকারী বাদশাহর ধন দৌলত, যমীন, ফল, জমিজমা এবং ধন-ভাণ্ডারের মালিক করে দেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “বাণী ইসরাঈলকে আমি ওগুলির উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলাম।” (২৬:৫৯)এখানেও আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ফিরাউনের ধ্বংসের পর আমি বাণী ইসরাঈলকে বললামঃ “এখন তোমরা এখানে বসবাস কর। কিয়ামতের প্রতিশ্রুতির দিন তোমরা ও তোমাদের শত্রুরা সবাই আমার সামনে হাযির হবে। আমি তোমাদের সবকেই আমার কাছে একত্রিত করবো।