— Ryoichi Mita
— Ruwwad Center
৫৭-৬০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত হূদ (আঃ) তাঁর কওমকে বলতে লাগলেনঃ ‘আমার কাজটি আমি পূর্ণ করেছি। আল্লাহর পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি তা মান্য না কর তবে এর শাস্তি তোমাদের উপর পতিত হবে, আমার উপর নয়। আল্লাহ তাআ’লার এই ক্ষমতা রয়েছে যে, তোমাদের স্থলে তিনি এমন জাতিকে আনয়ন করবেন যারা তার তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে এবং তাঁরই ইবাদত করবে। তিনি তোমাদেরকে মোটেই পরওয়া করেন না। তোমাদের কুফরী তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। বরং এর শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। তাদের কথা ও কাজ তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। কল্যাণ ও বরকত হতে শূন্য এবং শাস্তিতে পরিপূর্ণ ঘূর্ণিবাত্যা তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঐ সময় হযরত হূদ (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা আল্লাহ তাআ’লার দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে এই শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কঠিন শাস্তি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো। এরাই ছিল আ’দ সম্প্রদায় যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছিল এবং তার নবীকে মানে নাই। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, একজন নবীকে অমান্যকারী হচ্ছে সমস্ত নবীকেই অমান্যকারী। আ’দ সম্প্রদায় ঐ লোকদেরকেই মেনে চলতো যারা ছিল তাদের মধ্যে একগুঁয়ে ও উদ্ধত। এদের উপর আল্লাহ ও তাঁর মু'মিন বান্দাদের লা'নত বর্ষিত হলো। এই দুনিয়াতেও তাদের আলোচনা হতে থাকলো লা’নতের সাথে এবং কিয়ামতের দিনও হাশরের মাঠে সকলের সামনে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। সেই দিন ঘোষণা করা হবে যে, আ’দ সম্প্রদায় হচ্ছে আল্লাহকে অস্বীকারকারী।হযরত সুদ্দীর (রঃ) উক্তি এই যে, এই আ’দ সম্প্রদায়ের পরে দুনিয়ার বুকে যত নবীর আগমন ঘটে সবাই তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের ভাষায় আল্লাহ তাআ’লার লা'নতও তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে।