Đăng nhập
Đăng nhập
Đăng nhập
Chọn ngôn ngữ

Tafsir: Maryam 19:20

19:20
قالت انى يكون لي غلام ولم يمسسني بشر ولم اك بغيا ٢٠
قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى غُلَـٰمٌۭ وَلَمْ يَمْسَسْنِى بَشَرٌۭ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّۭا ٢٠
قَالَتۡ
أَنَّىٰ
يَكُونُ
لِي
غُلَٰمٞ
وَلَمۡ
يَمۡسَسۡنِي
بَشَرٞ
وَلَمۡ
أَكُ
بَغِيّٗا
٢٠
かの女は言った。「未だ且つて,誰もわたしに触れません。またわたしは不貞でもありません。どうしてわたしに息子がありましょう。」

— Ryoichi Mita

(Maryam không khỏi ngạc nhiên) nói: “Làm sao tôi có thể có được một đứa con trai khi mà chưa từng có một người phàm nào chạm đến người tôi. Hơn nữa, tôi đâu phải là một người phụ nữ hư đốn.”

— Ruwwad Center

Tafsirs
Các lớp
Bài học
Suy ngẫm
Câu trả lời
Qiraat
Hadith
Bạn đang đọc phần chú giải Kinh Qur'an cho nhóm các câu này. 19:16 đến 19:21

১৬-২১ নং আয়াতের তাফসীর: পূর্বে হযরত যাকারিয়ার (আঃ) ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং এই বর্ণনা দেয়া হয়েছিল যে, হযরত যাকারিয়া (আঃ) পূর্ণ বার্ধক্যে উপনীত হওয়া পর্যন্ত সন্তানহীন ছিলেন। তার স্ত্রীর মধ্যে সন্তান লাভের কোন সম্ভাবনাই ছিল না। এই অবস্থায় আল্লাহ তাআলা নিজের ক্ষমতাবলে তাদেরকে সন্তান দান করেন। হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও খোদাভীরু। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর এর চেয়েও বড় ক্ষমতার নিদর্শন পেশ করছেন। এখানে তিনি হযরত মারইয়ামের (আঃ) ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন চির কুমারী। কোন পুরুষ তাকে কখনো স্পর্শ করে নাই। এভাবে বিনা পুরুষেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় পূর্ণ ক্ষমতাবলে তাঁকে সন্তান দান করেন। তার গর্ভে হযরত ঈসার (আঃ) জন্ম হয়, যিনি আল্লাহর মনোনীত নবী এবং তার রূহ ও কালেমা ছিলেন। এই দু'টি ঘটনায় পূর্ণভাবে পারস্পরিক সম্বন্ধ রয়েছে বলে এখানে এবং সূরায়ে আল ইমরান ও সূরায়ে আম্বিয়াতেও এ দুটি ঘটনাকে মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে বান্দা আল্লাহ তাআলার অতুলনীয় ক্ষমতা এবং ব্যাপক প্রতিপত্তি পর্যবেক্ষণ করে।হযরত মারইয়াম (আঃ) হযরত ইমরানের কন্যা ছিলেন। তিনি ছিলেন হযরত দাউদের (আঃ) বংশধর। এই পরিবারটি বানী ইসরাঈলের মধ্যে পবিত্র পরিবার হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিলেন। সুরায়ে আল-ইমরানে তার জন্মের বিস্তারিত বিবরণ গত হয়েছে। ঐ যুগের প্রথা অনুযায়ী হযরত মারইয়ামের (আঃ) মাতা তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদে কুদৃসের খিদমতের জন্যে পার্থিব কাজ কর্ম হতে আযাদ করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর এই নর কবুল করেছিলেন। 'উত্তমরূপে তিনিহযরত মারইয়ামকে (আঃ) বড় করে তুলেছিলেন। তিনি আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী, দুনিয়ার প্রতি ঔদাসীন্য এবং সংযমী শীলতায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। তার ইবাদত, আধ্যাত্মিক সাধনা ও তাকওয়ার কথা সর্বসাধারণের মুখে আলোচিত হতে থাকে। তাঁর লালন পালনের দায়িত্বভার তাঁর খালু হযরত যাকারিয়া (আঃ) গ্রহণ করেছিলেন। ঐ সময় তিনি ছিলেন বাণী ইসরাঈলের নবী। সমস্ত বাণী ইসরাঈল তাদের ধর্মীয় কাজে তাঁরই অনুসারী ছিল। হযরত যাকারিয়ার (আঃ) কাছে হযরত মারইয়ামের (আঃ) বহু অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ পেয়ে ছিল। বিশেষ করে যখনই তিনি হযরত মারইয়ামের (আঃ) ইবাদত খানায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি তার কাছে নতুন ধরণের অমওসূমী ফল দেখতে পেতেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করতেনঃ “হে মারইয়াম! এই ফল কোথা হতে আসলো?" উত্তরে তিনি বলতেনঃ “এগুলি আল্লাহ তাআলার নিকট হতে এসেছে। তিনি এমন ক্ষমতাবান যে, যাকে ইচ্ছা করেন বে হিসেবে রিক দান করে থাকেন।অতঃপর আল্লাহ তাআ'লা হযরত মারইয়ামের (আঃ) গর্ভে হযরত ঈসাকে (আঃ) সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, যিনি পঁচিজন স্থির প্রতিজ্ঞ নবীদের একজন ছিলেন। হযরত মারইয়াম (আঃ) মসজিদে কুদসের পূর্ব দিকে গমন করেন। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, হায়েয বা মাসিক ঋতুর কারণেই তিনি ঐ দিকে গিয়েছিলেন। অন্যদের মতে তিনি অন্য কোন কারণে গিয়েছিলেন। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আহলে কিতাবের উপর বায়তুল্লাহ মুখী হওয়া ও হজ্ব করা ফরয করা হয়েছিল। কিন্তু হযরত মারইয়াম (আঃ) বায়তুল মুকাদ্দাস হতে পুর্ব দিকে গমন করেছিলেন বলে তারা পূর্ব মুখী হয়েই নামায পড়তে শুরু করে দেয়। হযরত ঈসার (আঃ) জন্মস্থানকে তারা নিজেরাই কিবলা বানিয়ে নেয়। বর্ণিত আছে যে, হযরত মারইয়াম (আঃ) যে জায়গায় গিয়েছিলেন সেটা ছিল ঐ জনদপ হতে দূরে এক নির্জন স্থান। কথিত আছে যে, সেখানে তার শস্যক্ষেত্র ছিল এবং তাতে তিনি পানি দিতে গিয়েছিলেন। একথাও বলা হয়েছে যে, সেখানে তিনি একটি কক্ষ বানিয়ে নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জনগণ হতে পৃথক হয়ে নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। যখন হযরত মারইয়াম (আঃ) জনগণ হতে পৃথক হয়ে দূরে চলে যান এবং তাদের মধ্যে ও তার মধ্যে আড়াল হয়ে যায় তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে ফেরেশতা হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) প্রেরণ করেন। তিনি পূর্ণ মানবাকৃতিতে তার সামনে প্রকাশিত হন। এখানে ‘রূহ দ্বারা এই মর্যাদা সম্পন্ন ফেরেশতাকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন কুরআন কারীমের (আরবী) এই আয়াতে রয়েছে। হযরত উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) বলেন যে, রোযে আযলে যখন হযরত আদমের (আঃ) সমস্ত সন্তানের রূহসমূহের নিকট হতে তার প্রতিপালক হওয়ার স্বীকারোক্তি নিয়েছিলেন ঐ রূহগুলির মধ্যে হযরত ঈসার (আঃ) রহও ছিল। ঐ রূহকেই মানবাকৃতিতে আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত মারইয়ামের (আঃ) নিকট পাঠানো হয়। ঐ রূহই তার সাথে কথা বলেন এবং তার দেহের মধ্যে প্রবেশ করেন। (কিন্তু এই উক্তিটি অস্বাভাবিক হওয়া ছাড়াও সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার্য। খুব সম্ভব এটা বাণী ইসরাঈলেরই উক্তি হবে)হযরত মারইয়াম (আঃ) ঐ জনশূন্য স্থানে একজন অপরিচিত লোক দেখে মনে করেন যে, হয়তো কোন দুষ্ট প্রকৃতির লোক হবে। তাকে তিনি আল্লাহর ভয় দেখিয়ে বলেনঃ “আপনি খোদাভীরু লোক হলে তাকে ভয় করুন। আমি তারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।” তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য দেখেই হযরত মারইয়াম (আঃ) বুঝে ফেলেছিলেন যে, তিনি ভাল লোকই হবেন এবং তিনি জানতেন যে, ভাল লোকের জন্যে আল্লাহর ভয়ই যথেষ্ট। ফেরেশতা হযরত মারইয়ামের (আঃ) ভয় ভীতি দূর করে দেয়ার জন্যে পরিষ্কার ভাবে বলেনঃ “আপনি অন্য কোন ধারণা করবেন না, আমি আল্লাহ তাআলার প্রেরিত ফেরেশতা।” বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলার নাম শুনেই হযরত জিবরাঈল (আঃ) কেঁপে উঠেন এবং নিজের প্রকৃতরূপ ধারণ করেন। আর বলে দেনঃ “ আমি আল্লাহর একজন দূত রূপে প্রেরিত হয়েছি। তিনি আমাকে এজন্যেই প্রেরণ করেছেন যে, তিনি আপনাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দান করবেন।”(আরবী) এর দ্বিতীয় পঠন (আরবী) রয়েছে। প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত কারী আবু উমার ইবনু আলার কিরআত এটাই। দুটো কিরআতেরই মতলব পরিষ্কার। হযরত জিবরাঈলের (আঃ) এ কথা শুনে হযরত মারইয়াম (আঃ) আরো বেশী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেনঃ “সুবহানাল্লাহ! আমরি সন্তান হওয়া কি করে সম্ব? আমার তো বিয়েই হয় নাই এবং কখনো কোন খারাপ খেয়াল আমার মনে জাগে নাই। আমার দেহ কখনো কোন পুরুষ লোক স্পর্শ করে নাই এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই। সুতরাং আমার সন্তান হওয়া কেমন কথা।"(আরবী) শব্দ দ্বারা ব্যভিচারিণীকে বুঝানো হয়েছে। হাদীসেও এই শব্দটি এই অর্থেই এসেছে। যেমন বলা হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ ব্যভিচারিণীর খরচা হারাম।হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর এই বিস্ময় দূর করার জন্যে বলেনঃ “এটা সত্য বটে, তবে স্বামী ছাড়া বা অন্য কোন উপকরণ ও উপাদান ছাড়াও আল্লাহ তাআলা সন্তান দানে সক্ষম। তিনি যা চান তাই হয়। তিনি এই সন্তান ও এই ঘটনাকে মানুষের জন্যে একটা নিদর্শন বানাতে চান। এটা আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন হবে যে, তিনি সর্ব প্রকারের সষ্টির উপরই সক্ষম। হযরত আদমকে (আঃ) তিনি পুরুষ ও নারীর মাধ্যম ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। হাওয়াকে (আঃ) তিনি সৃষ্টি করেছেন নারী ছাড়াই-শুধু পুরুষের মাধ্যমে। বাকী সমস্ত মানুষকে তিনি পুরুষ ও নারীর মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। শুধু হযরত ঈসা (আঃ) এই নিয়মের ব্যতিক্রম। তিনি পুরুষ ছাড়াই শুধু নারীর মাধ্যমে সৃষ্ট হয়েছেন। সুতরাং মানব সৃষ্টির এই চারটি নিয়ম হতে পারে এবং সবটাই মহান আল্লাহ পুরো করে দেখিয়েছেন। এভাবে তিনি নিজের ব্যাপক ও পূর্ণক্ষমতা ও বিরাটত্বের দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। এটা বাস্তব কথা যে, তিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ নেই এবং কোন প্রতিপালকও নেই। এই শিশু আল্লাহর রহমতরূপে পরিগণিত হবেন। তিনি তাঁর নবী হবেন। তিনি মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহবান করবেন।" অন্য জায়গায় রয়েছেঃ “যখন ফেরেশতাগণ বললোঃ হে মারইয়াম (আঃ)! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন একটি কালেমার যা আল্লাহর পক্ষ হতে হবে; তার নাম হবে মাসীহ্ ঈসা ইবনু মারইয়াম; সম্মানিত হবে ইহলোকে এবং পরলোকে, আর সান্নিধ্য প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। মানুষের সাথে কথা বলবে দোলনার মধ্যে এবং প্রাপ্ত বয়সে এবং সসভ্য লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অর্থাৎ তিনি বাল্যাবস্থায় ও বৃদ্ধ বয়সে মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহবান করবেন।হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত মারইয়াম (আঃ) বলেনঃ “ঈসা (আঃ) আমার পেটে থাকা অবস্থায় যখন আমি নির্জনে থাকতাম তখন সে আমার সাথে কথা বলতো। আর যখন আমি লোকদের সাথে থাকতাম তখন সে তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করতো।" (এটা ইবনু আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)ঘোষিত হচ্ছেঃ এটাতো এক স্থিরকৃত ব্যাপার। খুব সম্ভব যে, এটাও হযরত জিবরাঈলেরই (আঃ) উক্তি। আবার এও হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলার এই ফরমান রাসূলুল্লাহর (সঃ) মাধ্যমে ঘোষিত হয়েছে। আর এর দ্বারা রূহ ফুকে দেয়াই উদ্দেশ্য। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “ইমরানের কন্যা মারইয়াম (আঃ), যে তার গুপ্তাঙ্গকে পবিত্র রেখেছিল এবং আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুকে ছিলাম।” সুতরাং এই বাক্যের ভাবার্থ হচ্ছেঃ এটা তো হয়েই যাবে। আল্লাহ তাআলা এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।