登入
登入
登入
选择语言

经注: Ali 'Imran 3:13

3:13
قد كان لكم اية في فيتين التقتا فية تقاتل في سبيل الله واخرى كافرة يرونهم مثليهم راي العين والله يويد بنصره من يشاء ان في ذالك لعبرة لاولي الابصار ١٣
قَدْ كَانَ لَكُمْ ءَايَةٌۭ فِى فِئَتَيْنِ ٱلْتَقَتَا ۖ فِئَةٌۭ تُقَـٰتِلُ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَأُخْرَىٰ كَافِرَةٌۭ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْىَ ٱلْعَيْنِ ۚ وَٱللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِۦ مَن يَشَآءُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةًۭ لِّأُو۟لِى ٱلْأَبْصَـٰرِ ١٣
قَدۡ
كَانَ
لَكُمۡ
ءَايَةٞ
فِي
فِئَتَيۡنِ
ٱلۡتَقَتَاۖ
فِئَةٞ
تُقَٰتِلُ
فِي
سَبِيلِ
ٱللَّهِ
وَأُخۡرَىٰ
كَافِرَةٞ
يَرَوۡنَهُم
مِّثۡلَيۡهِمۡ
رَأۡيَ
ٱلۡعَيۡنِۚ
وَٱللَّهُ
يُؤَيِّدُ
بِنَصۡرِهِۦ
مَن
يَشَآءُۚ
إِنَّ
فِي
ذَٰلِكَ
لَعِبۡرَةٗ
لِّأُوْلِي
ٱلۡأَبۡصَٰرِ
١٣
你们确已得到一种迹象,在交战的两军之中;一军是为主道而战的,一军是不信道的,眼见这一军有自己的两倍。真主以他自己的佑助扶助他所意欲的人。对于有眼光的人,此中确有一种鉴戒。
经注
层
课程
反思
答案
基拉特
圣训
3:12至3:13节的经注

১২-১৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি অবিশ্বাসীদেরকে বলে দাও যে, তারা পৃথিবীতেও পরাজিত ও পর্যদস্ত হবে এবং মুসলমানদের অধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হবে এবং কিয়ামতের দিনও তাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে, আর ওটা হচ্ছে জঘন্যতম স্থান। সীরাত-ই-ইবনে ইসহাক’ গ্রন্থে রয়েছে, হযরত আমর ইবনে কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বদর যুদ্ধে বিজয় লাভের পর যখন মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন তখন তিনি বানূ কাইনুকার বাজারে ইয়াহুদীদেরকে একত্রিত করেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে ইয়াহুদীর দল! কুরাইশদের লাঞ্ছিত ও অপদস্ত হওয়ার ন্যায় তোমরাও লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হওয়ার পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ কর।' এ কথা শুনে ঐ উদ্ধত ও অবাধ্য দলটি উত্তর দেয়ঃ ‘যুদ্ধবিদ্যায় অনভিজ্ঞ কয়েকজন কুরাইশকে পরাজিত করেই বুঝি আপনি অহংকারে ফেটে পড়েছেন? আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ হলে জানতে পারবেন যুদ্ধ কাকে বলে! এখনও আমাদের সাথে আপনার যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এতে বলা হয়- মক্কা বিজয়ই এটা প্রমাণ করেছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সত্য, উত্তম ও পছন্দনীয় দ্বীনকে ও ঐ দ্বীনধারীদেরকে সম্মান দানকারী। তিনি তাঁর রাসূলের ও তাঁর অনুসারীদের স্বয়ং সাহায্যকারী'। দু’টি দল যুদ্ধে পরস্পর সম্মুখীন হয়। একটি সাহাবা-ই-কিরামের দল এবং অপরটি মুশরিক কুরাইশদের দল। এটা বদর যুদ্ধের ঘটনা। সেদিন মুশরিকদের উপর এমন প্রভাব পড়ে (মুসলমানদের) এবং মহান আল্লাহ মুসলমানদেরকে এমনভাবে সাহায্য করেন যে, যদিও মুসলমানেরা সংখ্যায় মুশরিকদের অপেক্ষা বহু কম ছিল, কিন্তু মুশরিকরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলমানদেরকে দ্বিগুণ দেখছিল। যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পূর্বে মুশরিকরা উমায়ের ইবনে সাদকে গোয়েন্দাগিরির জন্যে প্রেরণ করেছিল। সে এসে সংবাদ দেয় যে, মুসলমানদের সংখ্যা কিছু কম বেশী তিনশ জন। আসলেও তাই ছিল। তাদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশ এবং আর কয়েকজন বেশী। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্রই আল্লাহ তা'আলা তাঁর বিশিষ্ট ও নির্বাচিত এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন। একটি অর্থ তো এই। দ্বিতীয় ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, কাফিরদের সংখ্যা মুসলমানদের দ্বিগুণ ছিল, এটা মুসলমানেরা জানতো এবং প্রত্যক্ষও করছিল। তথাপি আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সাহায্য করতঃ কাফিরদের উপর জয়যুক্ত করেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, বদরী সাহাবীরা (রাঃ) ছিলেন তিনশ তেরোজন এবং মুশরিকরা ছিল দু’শ ষোল জন। কিন্তু ইতিহাসের পুস্তকগুলোতে মুশরিকদের ন’শ হতে এক হাজার বর্ণনা করা হয়েছে। তাহলে সম্ভবতঃ হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাস (রাঃ) কুরআন শরীফের শব্দ দ্বারাই দলীল গ্রহণ করে থাকবেন। বানূ হাজ্জাজ গোত্রের একটি কৃষ্ণ বর্ণের ক্রীতদাস যে ধৃত হয়ে এসেছিল, তাকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কুরাইশদের সংখ্যা জিজ্ঞেস করলে সে বলেঃ ‘অনেক। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেনঃ “তারা দৈনিক কতটি উট যবেহ করছে?' সে বলেঃ ‘একদিন নয়টি এবং আর একদিন দশটি। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ তাহলে মুশরিকদের সংখ্যা নয়শ এবং এক হাজারের মধ্যবর্তী।' সুতরাং জানা যাচ্ছে যে, মুশরিকরা মুসলমানদের তিনগুণ ছিল। কিন্তু এটা স্মরণ রাখবার বিষয় যে, আরববাসী বলে থাকে, আমার নিকট এক হাজার তো রয়েছে কিন্তু আমার আরও এর দ্বিগুণ প্রয়োজন এবং তার তিন হাজারের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাহলে কোন অসুবিধা থাকলো না কিন্তু প্রশ্ন আরও একটি রয়েছে, তা এই যে, কুরআন কারীমের মধ্যে অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ যখন তোমরা মুখোমুখী হয়ে গেলে তখন আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের চোখে কম দেখালেন যেন আল্লাহ যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা হয়ে যায়। (৮:৪৪) সুতরাং এ পবিত্র আয়াতের দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, প্রকৃত সংখ্যার চেয়েও অল্প পরিলক্ষিত হয়। আর উপরোক্ত আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে। যে, বেশী এমন কি দ্বিগুণ পরিলক্ষিত হয়। তাহলে আয়াতদ্বয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য কিরূপে হতে পারে? উত্তর এই যে, ঐ আয়াতে অবস্থা ছিল এক রকম এবং এ আয়াতে অবস্থা ছিল অন্য রকম। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ বদরের দিন মুশরিকদের সংখ্যা আমাদের চোখে মোটেই বেশী দেখায়নি। আমরা আবার গভীরভাবে দৃষ্টিপতি করেও বুঝতে পারি যে, তাদের সংখ্যা আমাদের অপেক্ষা বেশী নয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘মুশরিকদের সংখ্যা আমাদের নিকট এত অল্প মনে হলো যে, আমি আমার পাশ্ববর্তী একজনকে বললাম-এরা সত্তরজন হবে। ঐ লোকটি তখন বললোঃ না না,একশজন হবে। তাদের একজন লোক ধৃত হলে আমরা তাকে মুশরিকদের সংখ্যা জিজ্ঞেস করি। সে বলেঃ এক হাজার। অতঃপর যখন উভয় পক্ষ সারিবদ্ধভাবে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায় তখন মুসলমাদের মনে হয় যে, মুশরিকরা তাদের দ্বিগুণ হবে। এটা এ জন্যই যে, যেন তারা নিজেদের দুর্বলতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতঃ মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে, সমস্ত মনোযোগ তারই দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং তারই নিকট সাহায্যের জন্য প্রার্থনা জানায়। অনুরূপভাবে মুশরিকদের নিকটও মুসলমানদের সংখ্যা তাদের দ্বিগুণ অনুভূত হয়, যেন তাদের অন্তরে ভয় ও সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয় এবং তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। অতঃপর যখন যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে যায় তখন প্রত্যেক দলের দৃষ্টিতে নিজেদের তুলনায় অন্য দলের সংখ্যা কম পরিলক্ষিত হয় যেন উভয় দলই উদ্যমের সাথে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহ তাআলা সত্য ও মিথ্যার স্পষ্ট মীমাংসা করে দেন। যেন কুফর ও ঔদ্ধত্যের উপর ঈমানের বিজয় লাভ ঘটে এবং যেন মুসলমানেরা সম্মানিত হয় এবং কাফিরেরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ বদরের দিন তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা সে সময় দুর্বল ছিলে।' (৩:১২৩) এ জন্যেই এখানেও বলেছেন- “আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তদীয় সাহায্যদানে শক্তিশালী করে থাকেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “নিশ্চয়ই এর মধ্যে চক্ষুষ্মনদের জন্যে শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। অর্থাৎ যারা স্থির মস্তিষ্ক বিশিষ্ট তারা আল্লাহ তা'আলার আদেশ পালনে উঠেপড়ে লেগে যাবে এবং বুঝে নেবে যে, আল্লাহ পাক তাঁর মনোনীত বান্দাদেরকে এ ইহলৌকিক জগতেও সাহায্য করবেন এবং কিয়ামতের দিনও তাদেরকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি হতে রক্ষা করবেন।