登入
登入
登入
选择语言

经注: Al-Anbiya 21:45

21:45
قل انما انذركم بالوحي ولا يسمع الصم الدعاء اذا ما ينذرون ٤٥
قُلْ إِنَّمَآ أُنذِرُكُم بِٱلْوَحْىِ ۚ وَلَا يَسْمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ ٤٥
قُلۡ
إِنَّمَآ
أُنذِرُكُم
بِٱلۡوَحۡيِۚ
وَلَا
يَسۡمَعُ
ٱلصُّمُّ
ٱلدُّعَآءَ
إِذَا
مَا
يُنذَرُونَ
٤٥
你说:我只借启示而警告你们。当聋子被警告的时候,他们听不见召唤。
经注
层
课程
反思
答案
基拉特
圣训
21:44至21:47节的经注

৪৪-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের হিংসা বিদ্বেষ ও প্রতারণা এবং নিজেদের গুমরাহীর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ আমি তাদেরকে পানাহার ও ভোগের সামগ্রী প্রদান করেছি এবং দীর্ঘ বয়স দিয়েছি বলেই তারা মনে করে নিয়েছে যে, তাদের কৃতকর্ম আমার কাছে পছন্দনীয়। এরপর মহান আল্লাহ তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেনঃ তারা কি দেখে না যে, আমি কাফিরদের জনপদগুলিকে তাদের কুফরীর কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি? এই বাক্যের আরো অনেক অর্থ করা হয়েছে। যা আমরা সূরায়ে রা’দে বর্ণনা করে দিয়েছি। কিন্তু সর্বাধিক সঠিক অর্থ এটাই। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদের আশে পাশের জনপদগুলিকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি এবং আমি নিদর্শনসমূহ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে থাকি যাতে লোকেরা তাদের পাপকার্য হতে ফিরে আসে।" (৪৬:২৭) হযরত হাসান বসরী (রঃ) এর একটি ভাবার্থ করেছেনঃ “আমি ইসলামকে কুফরীর উপর জয়যুক্ত করে আসছি। সুতরাং তোমরা কি এর দ্বারাও উপদেশ গ্রহণ করবে না যে, কিভাবে আল্লাহ তাআলা তার বন্ধুদেরকে তার শত্রুদের উপর বিজয় দান করেন এবং কিভাবে পূর্ববর্তী মিথ্যা প্রতিপাদনকারী উম্মতদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন ও মুমিনদেরকে মুক্তি দান করেছেন? “এজন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তবুও কি তারা বিজয়ী হবে? অর্থাৎ এখনো কি তারা নিজেদেরকে বিজয়ী মনে করছেঃ না, না। বরং তারা পরাজিত, লাঞ্ছিত, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস প্রাপ্ত।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাও আমি শুধু ওয়াহী দ্বারাই তোমাদেরকে সতর্ক করি। যে সব শাস্তি থেকে আমি তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করছি এটা আমার নিজের পক্ষ হতে নয়, আল্লাহ তাআলার কথাই আমি তোমার কাছে প্রচার করছি মাত্র। কিন্তু আল্লাহ যাদের অন্তর্চক্ষু অন্ধ করে দিয়েছেন এবং কর্ণে ও অন্তরে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন তাদের জন্যে মহান আল্লাহর একথাগুলি কোন উপকারে আসবে না। বধিরকে সতর্ক করা বৃথা। কেননা, সে তো কিছু শুনতেই পায় না।মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালকের শাস্তির কিছুমাত্র তাদেরকে স্পর্শ করলে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে নেবে এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বলে ফেলবেঃ হায়, দুর্ভোগ আমাদের, আমরা তো ছিলাম যালিম। আল্লাহ পাক বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমি স্থাপন করবো ন্যায় বিচারের মানদণ্ড। সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। এই দাঁড়িপাল্লা একটিই হবে। কিন্তু যে আমলগুলি তাতে ওজন করা হবে ওগুলি অনেক হবে বলে একে বহু বচন আনা হয়েছে। ঐদিন কারো প্রতি সামান্য পরিমাণও অত্যাচার করা হবে না। কেননা, হিসাব গ্রহণকারী হবেন স্বয়ং আল্লাহ, তিনি একাই সমস্ত মাখলুকের হিসাব নেয়ার জন্যে যথেষ্ট। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক কারো উপর যুলুম করেন না।” (১৮:৪৯) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ অনুপরিমাণও যুলুম করবেন না, পুণ্যকে তিনি বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন এবং নিজের নিকট হতে প্রতিদান প্রদান করবেন।” (৪:৪০) আল্লাহ তাআলা হযরত লুকমানের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আমার প্রিয় বৎস! কোন কিছু যদি শরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার নীচে, আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন; নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্ম দর্শী, খবর রাখেন সব বিষয়ের।” (৩১:১৬)। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ দু’টি কথা এমন আছে যে, যুবানে (পড়তে) হাকা, মীযানে ভারী এবং রহমানের (আল্লাহর) নিকট খুব পছন্দনীয়। তা হলোঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি’ পবিত্রতা ঘোষণা করছি আমি মহান আল্লাহর”।হযরত আমর ইবনু আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের মধ্যে একটি লোককে হাশরের মাঠে একত্রিত জনগণের সামনে নিজের কাছে আহ্বান। করবেন। অতঃপর তার সামনে তিনি তার পাপের নিরানব্বইটি খাতা খুলে দিবেন। যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত দীর্ঘ হবে এক একটি খাতা। তারপর মহান আল্লাহ তাকে বলবেনঃ “এই খাতাগুলির মধ্যে তোমার কৃত যে পাপগুলি রয়েছে তার কোনটাই তুমি অস্বীকার কর কি? আমার পক্ষ থেকে যে রক্ষক ফেরেশতারা তোমার আমলগুলি লিপিবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত ছিল তারা তোমার প্রতি কোন যুলুম করে নাই তো?" উত্তরে সে বলবে? “হে আমার প্রতিপালক! না আমার অস্বীকার করার কোন উপায় আছে, না আমি একথা বলতে পারি যে, আমার প্রতি যুলুম করা হয়েছে।” তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেনঃ “আচ্ছা, তোমার কোন ওজর বা কোন পুণ্য আছে কি?” সে হতবুদ্ধি হয়ে জবাব দেবেঃ “হে আমার প্রতিপালক! না, আমার ওজর করারও কিছু নেই এবং আমার কোন পুণ্যও নেই।” তখন মহান আল্লাহ বলবেনঃ “হাঁ হাঁ, তোমার একটি পূণ্য আমার কাছে রয়েছে। আজ তোমার প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।” অতঃপর ছোট একটি কাগজের টুকরা বের করা হবে। তাতে লিখিত থাকবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল।” অতঃপর আল্লাহ তাআলা (ফেরেশতাদেরকে) বলবেনঃ “তোমরা ওটা পেশ কর।” লোকটি বলবেঃ “হে আমার প্রতিপালক! এই কাগজের টুকরাটি ঐ সব বড় বড় খাতার মুকাবিলায় কি করতে পারে?” আল্লাহ তাআলা উত্তর দিবেনঃ “নিশ্চয়ই তুমি অত্যাচারিত হবে না।" অতঃপর ঐ সমুদয় খাতা নিক্তির এক পাল্লায় রাখা হবে এবং কাগজের ঐ টুকরাটি আর এক পাল্লায় রেখে দেয়া হবে। তখন কাগজ খণ্ডের পাল্লাটি নীচের দিকে চেপে যাবে এবং ঐ খাতাগুলোর পাল্লাটি উপরের দিকে উঠে যাবে। পরম দয়ালু ও দাতা আল্লাহর নাম অপেক্ষা কোন কিছুই বেশী ভারী হবে না।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। সুনানে ইবনু মাজাহ এবং জামে তিরমিযীতেও এটা বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন)হযরত আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন তুলাদণ্ড রাখা হবে। অতঃপর একটি লোককে আনয়ন করে এক পাল্লায় রেখে দেয়া হবে এবং তার উপর গণনাকৃত পাপরাশিও তাতে রেখে দেয়া হবে। তখন ঐ পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। ফলে তাকে জাহান্নামের দিকে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সে পিছন দিকে ফিরবে এমন সময় আল্লাহর পক্ষ হতে একজন আহ্বানকারী ডাক দিয়ে বলবেঃ “তোমরা তড়ািতাড়ি করো না, তার একটি জিনিস বাকী রয়ে গেছে।” অতঃপর কাগজের একটি টুকরা বের করা হবে যাতে লিখা থাকবেঃ ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ'। ওটাকে ঐ লোকটির সাথে পাল্লায় রাখা হবে। তখন এই পাল্লা নীচের দিকে ঝুঁকে পড়বে।” (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একজন সাহাবী (রাঃ) রাসূলুল্লাহর (সাঃ) সামনে বসে পড়ে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার কতকগুলি গোলাম (ক্রীতদাস) রয়েছে যারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আমার খিয়ানত করে এবং আমার অবাধ্যাচরণও করে। আমি তাকে মারধোরও করি এবং গাল-মন্দও দিই। এখন বলুন তো, তাদের ব্যাপারে আমার অবস্থা কি হবে?" উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তাদের খিয়ানত, . অবাধ্যাচরণ, মিথ্যা প্রতিপাদন ইত্যাদি একত্রিত করা হবে। আর তোমার তাদেরকে মারধোর করা, গাল-মন্দ দেয়া ইত্যাদিও জমা করা হবে। অতঃপর তোমার শাস্তি যদি তাদের অপরাধের সমান হয়ে যায় তবে তো তুমি পবিত্রাণ পেয়ে যাবে। তোমার শাস্তিও হবে না এবং তুমি পুরস্কারও পাবে না। তবে যদি তোমার শাস্তি তাদের অপরাধের তুলনায় কম হয় তবে তুমি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করবে। কিন্তু যদি তোমার শাস্তি তাদের দোষের তুলনায় বেশী হয়ে যায় তবে তোমার ঐ বেশী শাস্তির প্রতিশোধ নেয়া হবে।" একথা শুনে ঐ সাহাবী উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)! বলেনঃ “তার কি হলো? সে কি কুরআন কারীমের নিম্নের আয়াতটি পাঠ করে নাই? “কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করবো ন্যায় বিচারের মানদণ্ড। সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না এবং কর্ম যদি তিল পরিমাণ ওজনেরও হয় তুবও তা আমি উপস্থিত করবো; হিসাব গ্রহণকারী রূপে আমিই যথেষ্ট।” সাহাবী তখন বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এদের থেকে পৃথক হওয়া ছাড়া আমি অন্য কিছুই আর ভাল মনে করছি না। আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমি এদেরকে আযাদ করে দিলাম।" (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)