登入
登入
登入
选择语言

经注: Taha 20:128

20:128
افلم يهد لهم كم اهلكنا قبلهم من القرون يمشون في مساكنهم ان في ذالك لايات لاولي النهى ١٢٨
أَفَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ ٱلْقُرُونِ يَمْشُونَ فِى مَسَـٰكِنِهِمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّأُو۟لِى ٱلنُّهَىٰ ١٢٨
أَفَلَمۡ
يَهۡدِ
لَهُمۡ
كَمۡ
أَهۡلَكۡنَا
قَبۡلَهُم
مِّنَ
ٱلۡقُرُونِ
يَمۡشُونَ
فِي
مَسَٰكِنِهِمۡۚ
إِنَّ
فِي
ذَٰلِكَ
لَأٓيَٰتٖ
لِّأُوْلِي
ٱلنُّهَىٰ
١٢٨
难道他们不知道吗?在他们之前,我曾毁灭了许多世代, 他们常和那些人的故乡往来,对于有理智者,此中确有许多迹象。
经注
层
课程
反思
答案
基拉特
圣训
20:128至20:130节的经注

১২৮-১৩০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! যারা তোমাকে মানে না এবং তোমার শরীয়তকে অস্বীকার করে তারা কি এর দ্বারা শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে না যে, তাদের পূর্বে যারা এইরূপ আচরণ করেছিল, আমি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম? আজ তাদের মধ্যে চোখ দিয়ে দেখার মত, শ্বাস গ্রহণ করার মত এবং মুখে কিছু বলার মত কেউ অবশিষ্ট আছে কি? তাদের সুউচ্চ, সুদৃশ্য এবং আঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ গুলির ধ্বংসাবশেষ রয়ে গেছে মাত্র। সেখান দিয়ে তো এরা চলা ফেরা করে থাকে। তাদের যদি জ্ঞান বুদ্ধি থাকতো তবে এর দ্বারা তারা বহু কিছু শিক্ষাগ্রহণ করতে পারতো। তারা কি যমীনে ঘোরাফেরা করে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাবলীর উপর চিন্তা গবেষণা করে না? কাফিরদের এ সব যন্ত্রণাদায়ক কাহিনী শুনে কি তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না? তাদের বস্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ দেখেও কি তাদের চক্ষু খুলে না? এরা চোখের অন্ধ নয়, বরং অন্তরের অন্ধ। সূরায়ে আলিফ-লাম-মীম সিজদায়ও উপরোল্লিখিত আয়াতের মত আয়াত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের উপর একটা কাল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই কাল নির্ধারিত কাল না থাকলে তাদের প্রতি আশু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়তো। ঐ নির্ধারিত কাল এসে গেলেই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হবে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তারা যে তোমাকে মিথ্যা প্রতিপাদন করছে তার উপর ধৈর্য ধারণ কর। জেনে রেখো যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে নয়।‘সূর্যোদয়ের পূর্বে একথা দ্বারা ফজরের নামায উদ্দেশ্য এবং সুর্যাস্তের পূর্বে একথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আসরের নামায।হযরত জারীর ইবনু আবদিল্লাহ বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “একদা আমরা রাসূলুল্লাহর (সঃ) নিকট বসেছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের চাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “তোমরা সত্বরই তোমাদের প্রতিপালককে এভাবেই দেখতে পাবে যেভাবে এই চাদকে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেখতে পাচ্ছ। সুতরাং সম্ভম্ব হলে তোমরা সূর্যোদয়ের পূর্বের ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাযের হিফাযত করো।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন।” (এহাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)হযরত আম্মারা ইবনু রাবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহকে (সঃ) বলতে শুনেছেনঃ “এমন কেউই কখনো জাহান্নামে যাবে না যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামায আদায় করলো।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সবচেয়ে নিম্নমানের জান্নাতী হলো ঐ ব্যক্তি যে দুই হাজার বছরের রাস্তা পর্যন্ত নিজের অধিকারভুক্ত জায়গায়ই দেখতে পাবে। সবচেয়ে দুরবর্তী জিনিস তার জন্যে এমনই হবে যেমন হবে সবচেয়ে নিকটবর্তী জিনিস। আর সবচেয়ে উচ্চমানের জান্নাতী তো প্রতি দিন দু'বার করে আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করবে।” (এ হাদীসটি মুসনাদে ও সুনান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে)মহান আল্লাহ বলেনঃ এবং রাত্রিকালে (তোমার প্রতিপালকের) পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। অর্থাৎ রাত্রে তাহাজ্জুদের নামায পড়। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাগরিব ও এশার নামায। আর দিনের প্রান্ত সমূহেও আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর, যাতে তার পুরস্কার ও প্রতিদান পেয়ে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার। যেমন আল্লাহ তাআলা এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অচিরেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন, আর তুমি সন্তুষ্ট হবে।” (৯৩:৫) সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “হে জান্নাতবাসীরা!” তারা উত্তরে বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা হাজির আছি।" তখন তিনি বলবেনঃ “তোমরা খুশী হয়েছে কি?” তারা জবাব দিবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা খুশী হবো না? আপনি তো আমাদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন যা আপনার সৃষ্টজীবের আর কাউকেও দেন নি!” আল্লাহ তাআলা তখন বলবেনঃ “এগুলি অপেক্ষাও উত্তম জিনিস আমি তোমাদেরকে প্রদান করবো।" তারা উত্তরে। বলবেঃ “এর চেয়েও উত্তম জিনিস আর কি আছে?” আল্লাহ তাআলা জবাব দিবেনঃ “আমি তোমাদেরকে আমার সন্তুষ্টি প্রদান করছি। এরপরে আর কোনও দিন আমি তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবে না।” অন্য হাদীসে আছে যে, বলা হবেঃ “হে জান্নাতীরা! আল্লাহ তাআলা তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা তিনি পূর্ণ করতে চান। তারা বলবেঃ “আল্লাহ তাআলার সব ওয়াদা তো পূর্ণ হয়েই গেছে। আমাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়েছে, আমাদের পুণ্যের পাল্লা ভারী হয়ে গেছে, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট করা হয়েছে। সুতরাং আর কিছুই তো বাকী নেই।” তৎক্ষণাৎ পর্দা উঠে যাবে এবং তারা। মহামহিমান্বিত আল্লাহকে দেখতে পাবে। আল্লাহর শপথ! এর চেয়ে উত্তম নিয়ামত আর কিছুই হবে না এটাই প্রচুর।