登入
登入
登入
选择语言

经注: Al-A'raf 7:73

7:73
والى ثمود اخاهم صالحا قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من الاه غيره قد جاءتكم بينة من ربكم هاذه ناقة الله لكم اية فذروها تاكل في ارض الله ولا تمسوها بسوء فياخذكم عذاب اليم ٧٣
وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَـٰلِحًۭا ۗ قَالَ يَـٰقَوْمِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُۥ ۖ قَدْ جَآءَتْكُم بَيِّنَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ هَـٰذِهِۦ نَاقَةُ ٱللَّهِ لَكُمْ ءَايَةًۭ ۖ فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِىٓ أَرْضِ ٱللَّهِ ۖ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍۢ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ٧٣
وَإِلَىٰ
ثَمُودَ
أَخَاهُمۡ
صَٰلِحٗاۚ
قَالَ
يَٰقَوۡمِ
ٱعۡبُدُواْ
ٱللَّهَ
مَا
لَكُم
مِّنۡ
إِلَٰهٍ
غَيۡرُهُۥۖ
قَدۡ
جَآءَتۡكُم
بَيِّنَةٞ
مِّن
رَّبِّكُمۡۖ
هَٰذِهِۦ
نَاقَةُ
ٱللَّهِ
لَكُمۡ
ءَايَةٗۖ
فَذَرُوهَا
تَأۡكُلۡ
فِيٓ
أَرۡضِ
ٱللَّهِۖ
وَلَا
تَمَسُّوهَا
بِسُوٓءٖ
فَيَأۡخُذَكُمۡ
عَذَابٌ
أَلِيمٞ
٧٣
(我确已派遣)赛莫德人的弟兄撒立哈去教化他们,他说:我的宗族啊!你们要崇拜真主,除他之外,绝无应受你们崇拜的。从你们的主发出的明证确已降临你们,这只真主的母驼可以作你们的迹象。故你们让它在真主的大地上随便吃草,不要伤害它,否则,痛苦的刑罚必袭击你们。
经注
层
课程
反思
答案
基拉特
圣训
7:73至7:78节的经注

৭৩-৭৮ নং আয়াতের তাফসীর: ইবরাহীম খলীল (আঃ)-এর পূর্বে প্রাচীন আরবীয় যে গোত্রগুলো ছিল, সামুদও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা ছিল আ’দ সম্প্রদায়ের পরবর্তী কওম। হিজায ও শামের মধ্যবর্তী ‘ওয়াদী কুরা’ ও ওর চতুষ্পর্শ্বের এলাকা তাদের আবাসভূমি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল! হিজরী নবম সনে নবী (সঃ) তাবুকের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পথিমধ্যে তাদের আবাসভূমি ও ঘর-বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ তার সামনে পড়ে যায়। হাজর নামক একটি জায়গা ছিল তাদের আবাসভূমি। নবী (সঃ) সাহাবীগণসহ তথায় অবস্থান করলে তারা ঐসব ঝরণা হতে পানি নেন যেগুলো সামুদ সম্প্রদায় ব্যবহার করতো। সাহাবীগণ ঐ পানি দ্বারা আটা মর্পন করলেন এবং তা হাঁড়িতে রাখলেন। নবী (সঃ) তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, হাঁড়িগুলো যেন উল্টিয়ে ফেলা হয় এবং আটাগুলো উটকে খাইয়ে দেয়া হয়। অতঃপর তারা সেখান হতে প্রস্থান করলেন এবং অন্য এক ঝরণার ধারে অবতরণ করলেন যা সামুদের পানি পানের ঝরণা ছিল না। বরং ওটা ছিল তাদের উটের পানি পানের ঝরণা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীগণকে শাস্তিপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের পার্শ্ব দিয়ে গমন করতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ “আমি ভয় করছি যে, না জানি তোমরাও ঐ শাস্তিতে পতিত হও যে শাস্তিতে সামুদ সম্প্রদায় পতিত হয়েছিল। সুতরাং তোমরা তাদের মধ্যে প্রবেশ করো না।" ইমাম আহমাদ (রঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে এটাও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হাজরে অবস্থানকালে বলেছিলেনঃ “তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া কোন অবস্থাতেই এসব শাস্তিপ্রাপ্ত কওমের পার্শ্ব দিয়ে গমন করো না। যদি তোমরা ক্রন্দনকারী না হও তবে তাদের মধ্যে প্রবেশ করো না, নতুবা তাদের প্রতি যে শাস্তি পৌছেছিল তা তোমাদের উপরও পৌঁছে যাবে।” (এ হাদীসের মূলকে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে তাখরীজ করা হয়েছে)তাবুকের যুদ্ধে গমনকালে জনগণ আহলে হাজরের দিকে দ্রুতগতিতে চলছিলেন। তথায় অবতরণ করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এটা জানতে পেরে ঘোষণা করেনঃ “নামায হাজির।" হযরত আবু কাবশা (রাঃ) বলেন-আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আসলাম। তাঁর হাতে একটা বর্শা ছিল। তিনি বলছিলেন- “তোমরা এমন কওমের দিকে যেয়ো না, যাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয়েছিল। তাঁদের একজন বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা এ লোকদেরকে দেখে বিস্মিত হচ্ছি।” তিনি বললেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে বিস্ময়কর কথা বলবো না? তোমাদেরই একটি লোক অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে অদৃশ্যভাবে এমন লোকদের খবর শুনাচ্ছি যারা তোমাদের পূর্বে ছিল। আর অতীত ছাড়া আমি তোমাদের কাছে ভবিষ্যতের কথাও শুনাচ্ছি। সুতরাং সোজা হয়ে যাও এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নাও। কেননা, তোমাদের উপরও যদি শাস্তি নেমে আসে তবে আল্লাহ এতে কোনই পরওয়া করবেন না এবং এমন কওমও আসবে যারা নিজেরাও নিজেদের থেকে কোন কিছুই টলাতে পারবে না।” মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন হাজরের মধ্য দিয়ে গমন করলেন তখন তিনি বললেন- “তোমরা মু'জিযা ও নিদর্শনাবলী যাঞা করো না। সালেহ (আঃ)-এর কওমও এগুলো চেয়েছিল। মু'জিযা হিসেবে তাদেরকে একটি উষ্ট্রী দেয়া হয়েছিল। ওটা এক পথ দিয়ে আসতো এবং আর এক পথ দিয়ে যেতো। তারা আল্লাহর হুকুম অমান্য করে ঐ উষ্ট্রীটিকে মেরে ফেলে। ঐ উষ্ট্ৰীটি একদিন ঝরণা থেকে পানি পান করতো এবং পরের দিন তারা ওর দুধ পান করতো। যখন তারা ওকে মেরে ফেললো তখন আকাশ থেকে এমন ভীষণ বজ্রধ্বনি হলো, যাতে তারা সবাই মরে গেল। তাদের মধ্যকার মাত্র একটি লোক রক্ষা পেল। কেননা ঐ সময় কাবাঘরের মধ্যে সে অবস্থান করছিল।” জনগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ঐ লোকটি কে ছিল?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “সে ছিল আবু রাগাল। কিন্তু যখন সে কা'বা ঘর থেকে বের হলো তখন সেও শাস্তিতে নিপতিত হয়ে মারা গেল।” (এ হাদীসটি বিশুদ্ধ ছয়টি হাদীসের কোনটির মধ্যেই বর্ণিত হয়নি)ইরশাদ হচ্ছে- আমি সামুদ জাতির নিকট তাদের ভ্রাতা সালেহ (আঃ)-কে প্রেরণ করেছিলাম। অন্যান্য সমস্ত পয়গাম্বরের মত তিনিও জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বললেন-হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদই নেই। সমস্ত পয়গাম্বর তাঁরই ইবাদতের দাওয়াত দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “(হে মুহাম্মাদ সঃ)! তোমার পূর্বে আমি যতজন নবী পাঠিয়েছি তাদের সবারই কাছে এই অহী করেছি- আমি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর।” তিনি আরও বলেনঃ “তারা সবাই তাওহীদের শিক্ষা দিতো এবং শয়তানের অনুসরণ থেকে বিরত রাখতো।”আল্লাহ পাক বলেন- “আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন এসে গেছে এবং সেই নিদর্শন হচ্ছে উষ্ট্ৰীটি।' লোকেরা স্বয়ং হযরত সালেহ (আঃ)-এর কাছে এই প্রার্থনা জানিয়েছিল যে, তিনি যেন তাদেরকে কোন মু'জিযা প্রদর্শন করেন এবং তারা তাঁর কাছে এই আবেদন পেশ করে যে, তিনি যেন তাদের বাতলানো বিশেষ একটা কংকরময় ভূমি হতে একটি উষ্ট্ৰী বের করে আনেন। ঐ কংকরময় ভূমি ছিল হাজর নামক স্থানের এক দিকে একটি নির্জন পাথুরে ভূমি । ওটার নাম ছিল কাতিবাহ'। উষ্ট্ৰীটি গর্ভবতীও হতে হবে এবং দুগ্ধবতীও হতে হবে। হযরত সালেহ্ (আঃ) তাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, যদি আল্লাহ তা'আলা তাদের আবেদন কবুল করে নেন তবে অবশ্যই তাদেরকে ঈমান আনতে হবে এবং তার কথার উপর তারা অবশ্যই অমিল করবে। এই অঙ্গীকার গ্রহণ ও ভয় প্রদর্শনের পর্ব শেষ হলে হযরত সালেহ্ (আঃ) প্রার্থনার জন্যে দাঁড়ালেন। প্রার্থনা করা মাত্রই সেই কংকরময় ভূমি নড়ে উঠলো। তা ফেটে গেলে ওর মধ্য হতে এমন একটি উষ্ট্রী বেরিয়ে পড়লো যা গর্ভবতী হওয়ার কারণে চলার সময় এদিক ওদিক নড়াচড়া করতে লাগলো। এ দৃশ্য দেখে ঐ কাফিরদের নেতা জানদা ইবনে আমর এবং তার অধীনস্থ লোকেরা ঈমান আনলো। এরপর সামুদ সম্প্রদায়ের অন্যান্য সম্ভ্রান্ত লোকেরাও ঈমান আনয়নের ইচ্ছা করলে যাওয়াব ইবনে আমর, হাবাব পূজারী এবং রাবাব তাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখলো । শিহাব নামক জানদার এক চাচাতো ভাই, যে সামুদ সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশীয় ছিল, ঈমান আনয়নের সংকল্প গ্রহণ করেছিল। কিন্তু ঐ লোকদের কথায় ঈমান আনয়ন থেকে বিরত থাকে। এ সম্পর্কেই সামুদ সম্প্রদায়ের মুমিনদের মধ্যকার মাহুশ নামক একটি লোক বলেন, যার ভাবার্থ হচ্ছে নিম্নরূপঃ জানদা নবীর দ্বীনের দিকে শিহাবকে আহ্বান করেছিল এবং তার ঈমান আনয়নের ইচ্ছাও হয়েছিল। কিন্তু হাজারবাসীর পথভ্রষ্ট লোকেরা হিদায়াতের পর তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। মোটকথা, উষ্ট্ৰীটির একটি বাচ্চা হলো এবং কিছুকাল ওটা ঐ কওমের মধ্যেই অবস্থান করলো। একটি ঝরণা হতে ওটা একদিন পানি পান করতো এবং একদিন পানি পান করা হতে বিরত থাকতো, যাতে অন্যান্য লোক এবং তাদের জীবজন্তুগুলো তা থেকে পানি পান করতে পারে। লোকগুলো উষ্ট্ৰীটির দুধ পান করতো এবং ইচ্ছামত ঐ দুধ দ্বারা তাদের পাত্রগুলো পরিপূর্ণ করতো। যেমন অন্য একটি আয়াতে রয়েছেঃ “পানি পান করার একটি নির্ধারিত দিন রয়েছে উষ্ট্রীর জন্যে এবং একদিন তোমাদের জন্যে।” ঐ উপত্যকায় উষ্ট্ৰীটি চরবার জন্যে এক পথ দিয়ে যেত এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসতো। ওকে অত্যন্ত চাকচিক্যময় দেখাতো এবং ওকে দেখে মানুষের মনে সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়ে যেতো। ওটা অন্যান্য জন্তুগুলোর পার্শ্ব দিয়ে গমন করলে ওরা ভয়ে পালিয়ে যেতো। এভাবে কিছুকাল কেটে গেল এবং ঐ কওমের ঔদ্ধত্যপনা বৃদ্ধি পেল। এমন কি তারা উষ্ট্ৰীটিকে মেরে ফেলারই ইচ্ছা করলো, যেন তারা প্রতিদিনই পানি পান করতে পারে। সুতরাং ঐ কাফিরের দল সর্বসম্মতিক্রমে ওকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো। হযরত কাদাতা (রঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি ওকে হত্যা করেছিল তার কাছে সবাই গিয়েছিল, এমন কি স্ত্রীলোকেরাও এবং বালকেরাও। তাদের সবারই উদ্দেশ্য ছিল তার দ্বারা ওকে হত্যা করিয়ে নেয়া। তারা সমস্ত দলই যে এতে অংশ নিয়েছিল তা নিম্নের আয়াত দ্বারাই প্রমাণিত হয়। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা তাকে (তাদের নবীকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, সুতরাং তারা ওকে (উন্ত্রীকে হত্যা করে ফেললো। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন।” (৯১:১৪) আল্লাহ তাআলা আর এক জায়গায় বলেনঃ “সামুদ সম্প্রদায়কে আমি উস্ত্রীর মুজিযা প্রদান করেছিলাম এবং ওটাই তাদের চক্ষু খোলার জন্যে যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ঐ অত্যাচারীরা অত্যাচারমূলক কাজ করলো। মোটকথা, এই উষ্ট্রী হত্যার সম্পর্ক সমস্ত দলের সাথেই লাগানো হয়েছে যে, তারা সবাই এই কাজে শরীক ছিল।ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) প্রমুখ তাফসীরকারক আলেমগণ বর্ণনা করেছেনঃ উষ্ট্ৰীটির হত্যার কারণ ছিল এই যে, সেই সময় উনাইযা নাম্নী একটি বৃদ্ধা মহিলা ছিল। সে হযরত সালেহ (আঃ)-এর প্রতি ঈমান আনেনি, বরং তার সাথে তার কঠিন শত্রুতা ছিল। তার ছিল কয়েকটি সুন্দরী কন্যা। ধন-দৌলতেরও সে অধিকারিণী ছিল। তার স্বামীর নাম ছিল যাওয়াব ইবনে আমর । সে ছিল সামুদ সম্প্রদায়ের একজন নেতৃস্থানীয় লোক। সাদকা বিনতে মাহইয়া নাম্নী আর একজন মহিলা ছিল। সেও ছিল ধন-সম্পদ ও বংশগরিমার অধিকারিণী। সে একজন মুমিন ব্যক্তির স্ত্রী ছিল এবং স্বামীকে সে পরিত্যাগ করেছিল। উস্ত্রীর হত্যাকারীর সাথে তারা উভয়ে অঙ্গীকার করেছিল। সাদকা হাবাব নামক একটি লোককে উত্তেজিত করে বলেছিল যে, যদি সে উষ্ট্ৰীটিকে হত্যা করে দেয় তবে সে তারই হয়ে যাবে। হাবাব তা অস্বীকার করে। তখন সে তার চাচাতো ভাই মিসদা ইবনে মাহরাজকে বললে সে তা স্বীকার করে। উনাইযাহ্ বিনতে গানাম কাদার ইবনে সালিফকে আহ্বান করে। সে ছিল লাল নীল বর্ণের বেঁটে গঠনের লোক। জনগণ তাকে যারজ সন্তান বলে ধারণা করতো এবং তাকে তার পিতা সালিফের সন্তান মনে করতো না। সে প্রকৃতপক্ষে যার পুত্র ছিল তার নাম ছিল সাহইয়াদ। অথচ সেই সময় তার মা সালিফের স্ত্রী ছিল। এই স্ত্রীলোকটি উষ্ট্রীর হন্তাকে বলেছিল- “তুমি উষ্ট্রীটিকে হত্যা করে ফেল। এর বিনিময়ে তুমি তোমার ইচ্ছামত আমার যে কোন কন্যাকে বিয়ে করতে পার।” সুতরাং মিসদা ইবনে মাহরাজ ও কাদার ইবনে সালিফ উভয়ে মিলে সামুদ সম্প্রদায়ের গুদের সাথে ষড়যন্ত্র করলো এবং সাত ব্যক্তি তাদের সাথে যোগ দিলো। এভাবে তাদের মোট সংখ্যা হলো নয়জন। তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ পাক বলেনঃ “শহরের মধ্যে নয় ব্যক্তি ছিল, যারা সংশোধন মূলক কার্যের পরিবর্তে বিশৃংখলা মূলক কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল।” আর ওরাই ছিল কওমের নেতৃস্থানীয় লোক। ঐ কাফিররা অন্যান্য কাফির গোত্রের লোকদেরকেও তাদের সাথে নিয়ে নিলো। তারা সবাই মিলে বেরিয়ে পড়লো এবং উষ্ট্রীর জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলো। যখন উষ্ট্ৰীটি পানি পান করে ফিরে আসলো তখন কাদার ওর পথে একটা কংকরময় ভূমির আড়ালে ওঁৎ পেতে বসে থাকলো। আর মিসদা বসলে অন্য একটি পাহাড়ের আড়ালে। উষ্ট্ৰীটি মিসদার পার্শ্ব দিয়ে গমন করা মাত্রই সে ওর পায়ের গোছায় একটা তীর মেরে দিলো । গানামের কন্যা বেরিয়ে পড়লো এবং তার সবচেয়ে সুন্দরী কন্যাকে ঐ দলের লোকদের সামনে হাযির করে দিলো। এভাবে সে তার পরমা সুন্দরী কন্যার সৌন্দর্য প্রকাশ করলো। কাদার তখন তার সাথে মিলনের নেশায় উত্তেজিত হয়ে উষ্ট্ৰীটিকে তলোয়ার মেরে দিলো। সাথে সাথে উল্লীটি মাটিতে পড়ে গেল। মাটিতে পড়ে গিয়ে সে স্বীয় বাচ্চাকে এক নযর দেখে নিলো এবং ভীষণ জোরে চীকার করে উঠলো। ঐ চিকার দ্বারা ও যেন স্বীয় বাচ্চাকে পালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত করলো। তারপর ওর হন্তা ওর বক্ষের উপর বর্শা মেরে দিলো এবং এরপর ওর গলা কেটে ফেললো। ওর বাচ্চাটি একটি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেল এবং চূড়ায় উঠে জোরে একটা চীৎকার ছাড়লো। সে যেন বললোঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার মা কোথায়?” কথিত আছে যে, বাচ্চাটি ঐভাবে তিনবার চীৎকার করেছিল। তারপর সে ঐ পাথুরে ভূমির মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল। এটাও কথিত আছে যে, ললাকেরা ওর পশ্চাদ্ধাবন করে ওকেও হত্যা করে ফেলেছিল। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে বেশী জানেন।হযরত সালেহ (আঃ) যখন এ সংবাদ পান তখন তিনি বধ্যভূমিতে গমন। করেন। জনগণের সমাগম ছিল। তিনি উষ্ট্ৰীটিকে দেখে কান্না শুরু করে দেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “তোমরা আর তিন দিন তোমাদের বাড়ীতে বাস করে নাও।” (আল-আয়াত) উস্ত্রী হত্যার ঘটনাটি বুধবার সংঘটিত হয়েছিল। রাত্রি হলে ঐ নয় ব্যক্তি হযরত সালেহ (আঃ)-কেও হত্যা করার সংকল্প করে এবং পরামর্শক্রমে বলে- “যদি এ ব্যক্তি সত্যবাদী হয় এবং তিন দিন পর আমরা ধ্বংস হয়ে যাই তবে আমাদের পূর্বে একেই হত্যা করে দিই না কেন? আর যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তাকে আমরা তার উস্ত্রীর কাছেই কেন পাঠিয়ে দেবো না?” আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “ঐ লোকগুলো কসমের দ্বারা নিজেদের প্রতিজ্ঞার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়ে বলে- সালেহ (আঃ) ও তার স্ত্রীকে আমরা হত্যা করে ফেলবে এবং তার বন্ধুদেরকে বলবো, তাদের হত্যার খবর আমরা কি করে জানবো? অামরা তো তাদের হত্যার ঘটনার সময় হাজিরই ছিলাম না। সুতরাং তাদের হত্যাকারী কে তা আমরা কি করে বলতে পারি এবং আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।তারা চালবাজী করতে চাইল। কিন্তু আমি যে চালবাজীর উপর ছিলাম ওর খবর তাদের মোটেই ছিল না। লক্ষ্য কর, ষড়যন্ত্রকারীদের পরিণাম কিরূপ হয়ে থাকে।” যখন তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করলো এবং একমত হয়ে রাত্রিকালে আল্লাহর নবীকে হত্যা করার জন্যে বেরিয়ে আসলো তখন আল্লাহ পাকের নির্দে পাথর বর্ষণ শুরু হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার ছিল অবকাশের প্রথম দিন। ঐ দিন আল্লাহর কুদরতে তাদের চেহারা হলদে বর্ণ ধারণ করলো, যেমন নবী (আঃ) তাদেরকে বলে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তাদের মুখমন্ডল লাল বর্ণের হয়ে গেল। তৃতীয় দিন শনিবার ছিল পার্থিব ফায়েদা লাভের শেষদিন। ঐ দিন সকলের চেহারা কালো হয়ে গেল। সেদিন ছিল রবিবার। ঐ লোকগুলো সুগন্ধি মেখে শাস্তির অপেক্ষা করছিল যে, তাদের উপর সেটা কি আকারে আসবে! সূর্য উদিত হলো এবং আকাশ থেকে এক ভীষণ শব্দ বেরিয়ে আসলো। পায়ের নীচ থেকে এক কঠিন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল। সাথে সাথে সবারই প্রাণবায়ু বেরিয়ে পড়লো। সকলের লাশ নিজ নিজ ঘরে পড়ে থাকলো। ছোট, বড়, নারী, পুরুষ কেউই বাঁচলো না। শুধুমাত্র কালবা বিনতে সালোক নাম্নী একটি মহিলা বেঁচে গেল। সে বড়ই কাফিরা মেয়ে ছিল এবং নবী সালেহ (আঃ)-এর ভীষণতম শত্রু ছিল। সে শাস্তি অবলোকন করে দ্রুতবেগে পলায়নের শক্তি লাভ করলো। একটি গোত্রের নিকট পৌছে যা কিছু সে দেখেছিল তাদেরকে সংবাদ দিয়ে দিলো। সমস্ত কওম কিভাবে ধ্বংস হয়ে গেল তারও সে আলোচনা করলো। তারপর সে পান করার জন্যে পানি চাইলো। পানি পান করা মাত্রই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।সামুদ সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে হযরত সালেহ্ (আঃ) এবং তাঁর উম্মতগণ ছাড়া আর কেউই রক্ষা পায়নি। ঐ কওমের মধ্যে আবু রাগাল নামক একটি লোক ছিল। শাস্তির সময় সে মক্কায় অবস্থান করছিল বলে ঐ সময় সে নিরাপত্তা লাভ করেছিল। কিন্তু কোন এক প্রয়োজনে যখন সে মক্কার বাইরে বের হলো তখন আকাশ থেকে একটা পাথর তার উপর পতিত হলো এবং তাতেই সে মারা গেল । কথিত আছে যে, এই আবু রাগাল তায়েফে বসবাসকারী সাকীফ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবূ রাগালের কবরের পার্শ্ব দিয়ে গমনের সময় বলেনঃ “এই কবরটি কার তা কি তোমরা জান? এটা হচ্ছে সামুদ সম্প্রদায়ের আবু রাগাল নামক এক ব্যক্তির কবর যে হারামে অবস্থান করছিল। হারাম তাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করেছিল। হারাম থেকে বের হওয়া মাত্রই সে শাস্তির কবলে পতিত হয় এবং এখানে সমাধিস্থ হয়। তার সাথে তার সোনার ছড়িটিও এখানে প্রোথিত রয়েছে।” জনগণ তখন তরবারী দ্বারা তার কবরটি খনন করে ঐ ছড়িটি বের করে নেয়।