登入
登入
登入
选择语言

经注: Al-Baqarah 2:168

2:168
يا ايها الناس كلوا مما في الارض حلالا طيبا ولا تتبعوا خطوات الشيطان انه لكم عدو مبين ١٦٨
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُوا۟ مِمَّا فِى ٱلْأَرْضِ حَلَـٰلًۭا طَيِّبًۭا وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَـٰنِ ۚ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌ ١٦٨
يَٰٓأَيُّهَا
ٱلنَّاسُ
كُلُواْ
مِمَّا
فِي
ٱلۡأَرۡضِ
حَلَٰلٗا
طَيِّبٗا
وَلَا
تَتَّبِعُواْ
خُطُوَٰتِ
ٱلشَّيۡطَٰنِۚ
إِنَّهُۥ
لَكُمۡ
عَدُوّٞ
مُّبِينٌ
١٦٨
众人啊!你们可以吃大地上所有合法而且佳美的食物,你们不要随从恶魔的步伐,他确是你们的明敌。
经注
层
课程
反思
答案
基拉特
圣训
2:168至2:169节的经注

১৬৮-১৬৯ নং আয়াতের তাফসীরউপরে যেহেতু তাওহীদের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, কাজেই এখানে এই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, সমস্ত সৃষ্ট জীবের আহার দাতাও তিনিই। তিনি বলেনঃ “তোমরা আমার এই অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না যে, আমি তোমাদের জন্য উত্তম ও পবিত্র জিনিসগুলো বৈধ করে দিয়েছি যা তোমাদের কাছে খুবই সুস্বাদু ও তৃপ্তি দানকারী। ঐ খাদ্য তোমাদের শরীর, স্বাস্থ্য এবং জ্ঞান বিবেকের কোন ক্ষতি করে না। আমি তোমাদেরকে শয়তানের পদাংক অনুসরণ করতে নিষেধ করছি। কেউ কেউ যেমন শয়তানের পথে চলে কতকগুলো হালাল বস্তু তাদের উপর হারাম করে নিয়েছে, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে তোমাদের অবস্থাও দ্রুপই হবে। সহীহ মুসলিম শরীফে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ 'আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “আমি যে মাল-ধন আমার বান্দাদেরকে প্রদান করেছি তা তার জন্য বৈধ করেছি। আমি আমার বান্দাদের একত্ববাদী রূপে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু শয়তান তাদেরকে এই সুদৃঢ় ধর্ম হতে সরিয়ে ফেলেছে এবং আমার বৈধকৃত বস্তুকে তাদের উপর অবৈধ করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে এই আয়াতটি পঠিত হলে হযরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দু'আ করুন যেন আল্লাহ তা'আলা আমারপ্রার্থনা কবুল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হে সাদি (রাঃ)! পবিত্র জিনিস এবং হালাল গ্রাস ভক্ষণ কর, তা হলেই আল্লাহ পাক তোমার প্রার্থনা ম র করবেন। যে আল্লাহর হাতে মুহাম্মদ (সঃ)-এর প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! যে হারাম গ্রাস মানুষ তার পেটের ভিতরে নিক্ষেপ করে,ওরই কুফল স্বরূপ চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার কোন ইবাদত গৃহীত হয় না। হারাম আহার্যের দ্বারা শরীরের যে গোশত বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় তা দোযখী।' অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ‘শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।' যেমন অন্য স্থানে রয়েছে, শয়তান তোমাদের শত্রু। তোমরাও তাকে শত্রু মনে কর। তার ও তার অনুচরদের একমাত্র বাসনাই হচ্ছে তোমাদেরকে শাস্তির দিকে এগিয়ে দেয়া।' অন্য এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ তোমরা কি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমাদের বন্ধু মনে করছো? অথচ প্রকৃতপক্ষে তো তারা তোমাদের শত্রু। অত্যাচারিদের জন্য জঘন্য প্রতিদান রয়েছে।' (আরবি) এর ভাবার্থ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার যে কোন আদেশ অমান্যকরণ যাতে শয়তানের প্ররোচনা রয়েছে। ইমাম শাফেঈ (রঃ) বলেনঃ একটি লোক নযর মানে যে, সে তার ছেলেকে যবাহ করবে। হযরত মাসরূকের (রঃ) নিকট এই সংবাদ পৌছলে তিনি ফতওয়া দেন যে, সে যেন একটি মেষ যবাহ করে। এই নযর খুতওয়াত-ই- শয়তানের অন্তর্গত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) একদা ছাগীর খুর লবন দিয়ে খাচ্ছিলেন। তার পার্শে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি দূরে সরে গিয়ে উপবেশন করে। তিনি (হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ) লোকটিকে বলেনঃ ‘এস খাও।' সে বলেঃ আমি খাবো না। তিনি বলেনঃ তুমি কি রোযা রেখেছছ?' সে বলেঃ না, কিন্তু আমি ওটা নিজের উপর হারাম করেছি। তখন তিনি বলেনঃ “এটা শয়তানের পথে চলা হচ্ছে। তোমার কসমের কাফফারা আদায় কর ও ওটা খেয়ে নাও। হযরত আবু রাফি (রঃ) বলেনঃ “একদা আমি আমার স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হলে সে বলে- তুমি যদি তোমার স্ত্রীকে তালাক না দাও তবে আমি একদিন ইয়াহূদিয়্যাহ, একদিন নাসরানিয়্যাহ এবং আমার সমস্ত গোলাম আযাদ। এখন আমি হযরত আবদুল্লাহ বিন উমারের (রাঃ) নিকট বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে আসি যে, এখন কি করা যায়। তখন তিনি বলেন যে, এটা হচ্ছে শয়তানের পদাংক অনুসরণ। অতঃপর আমি হযরত যয়নাব বিনতে সালমার (রাঃ) নিকট গমন করি। সেই সময় গোটা মদীনা নগরীতে তার মত সুশিক্ষিতা ও জ্ঞানবতী নারী আর একজনও ছিলেন না। আমি তাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তার কাছেও এই উত্তরই পাই। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই ফতওয়া দেন। হযরত ইবনে আব্বাসের (রাঃ) ফতওয়া এই যে, ক্রোধের অবস্থায় যে কসম করা হয় এবং এই অবস্থায় যে নযর মানা হয় ওটা শয়তানের পদাংক অনুসরণ। কসমের কাফফারার সমান কাফফারা আদায় করে দিতে হবে। এরপরে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘শয়তান তোমাদেরকে অসৎ কাজ করতে প্ররোচিত করে। যেমন ব্যভিচার করতে এবং আল্লাহ তাআলা সম্বন্ধে, এমন কথা বলতে প্ররোচিত করে যে সম্বন্ধে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই। সুতরাং প্রত্যেক কাফির ও বিদআতপন্থী এর অন্তর্ভুক্ত যারা অন্যায় কার্যের নির্দেশ দিয়ে থাকে এবং অসৎ কার্যে উৎসাহ প্রদান করে থাকে।